09/08/2023
সোলার সিস্টেম নিয়ে মানুষের ধারণা খুবই কম। একেকজনের ধারণা খুবই অদ্ভুত।
চলেন কিছু বেসিক ব্যাপারে জানা যাক।
সোলার প্রথমত দুইভাবে ইন্সটল করা যায়।
একটি ডেডিকেটেড ডিসি, অর্থাৎ সোলারের আলাদা ফ্যান, আলাদা লাইট, আলাদা লাইন। অর্থাৎ আপনার বাসার বর্তমান বিদ্যুৎ লাইনের সাথে এটা কোনোভাবেই যুক্ত না। তার পুরো সিস্টেম আলাদা। তার লাইট, ফ্যান গুলোও আলাদা।
যেহেতু সোলারের লাইট ফ্যানে ওয়াটেজ কম লাগে, তাই ব্যাটারীও কম লাগে।
যেমন ধরেন আপনার বর্তমান লাইনের সিলিং ফ্যান ৮০ থেকে ১০০ ওয়াট। কিন্তু সোলারের সিলিং ফ্যান ৪০-৪৫ ওয়াট। আবার আপনি যদি নেন টেবিল ফ্যান, তাহলে সেটা ১৫-২০ ওয়াট।
তাহলে ওয়াট নেমে এলো চার ভাগের এক ভাগেরও কম।
যেহেতু ওয়াট কমে গেছে, তাই প্যানেল এবং ব্যাটারী কম লাগছে। ফলে আপনার খরচও নেমে এসেছে চার ভাগের এক ভাগে।
আবার এটা যেহেতু বিদ্যুৎ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা, তাই বিদ্যুৎ বিলটাও বেঁচে যাচ্ছে।
এই সিস্টেম সবচেয়ে সাশ্রয়ী। তবে এতে সব আলাদা করে লাগাতে হয়। আলাদা সুইচ, আলাদা ওয়্যারিং, আলাদা লাইট-ফ্যান।
আপনি যদি গ্রামে থাকেন, তাহলে এটা আপনার জন্য সবচেয়ে উপযোগী। শহরে বাড়ীওয়ালা আপনাকে ওয়্যারিং করে, ড্রিল করে নতুন সুইচ বোর্ড লাগাতে দিতে নাও পারে।
এই সিস্টেমে ৫০ হাজার টাকা খরচ করলে আপনার ৮-১০টা লাইট, ৪-৫টা ফ্যান আরামসে চালাতে পারবেন।
দ্বিতীয় সিস্টেমটা হচ্ছে, আপনার ঘরে বর্তমানে থাকা লাইট, ফ্যান সব চলবে। টিভি, ফ্রীজ, এসি, পাম্প সহ সব চলবে।
আলাদা কোনো ওয়্যারিং লাগবে না। এটা অনেকটা আইপিএস এর মতই। দুইটা মেশিনকে আপনার লাইনের সাথে যুক্ত করে দিলেই সব চলবে। তবে এতে যেহেতু অনেক বেশী প্যানেল আর ব্যাটারী লাগে। তাই চেষ্টা করতে হবে অবশ্যই প্রয়োজনীয় যে কয়টা লাইট, ফ্যান, ফ্রিজ, পাম্প চলবে, সেগুলোকে লক্ষ্য রাখতে।
কারণ, এটা ডিসিকে এসিতে কনভার্ট করে আপনার ঘরের বর্তমান লাইট ফ্যান গুলো চলবে।
আগে যেমনটা বলেছি, কারেন্টের লাইট ফ্যান গুলোর ওয়াটেজ অনেক বেশী। ফলে আগের সিস্টমের ৩ গুণ বেশী টাকা এতে খরচ করতে হবে আপনাকে।
তবে এই সিস্টেমে খরচ বেশি হলেও এটা আপনার আইপিএস, জেনারেটর সহ যেকোনো পদ্ধতির চেয়েও কার্যকর।
শুধু ব্যাটারী ছাড়া আর কোনো মেইনটেইন্স খরচ নেই। একেবারে এককালীন ইনভেস্টমেন্ট।
তেল খরচ নেই, মাসে মাসে বিল নেই। শুধু ৪-৫ বছরে ব্যাটারী চেঞ্জ করতে হতে পারে। ভালো প্যানেল চোখ বন্ধ করে ২০ বছর চলে যায়।
জেনারেটরে আপনার যতক্ষণ চলবে, ততক্ষণ তেলের খরচ আছে। তেলের দাম অনেক। তার উপর মেশিন নষ্ট হয়ে যায় প্রায়, ঠিক করাতে হয়।
সোলারে এসব ঝামেলা নেই। ফ্রী এনার্জী। দিন হলেই চার্জ হবে। আর ২৪ ঘণ্টার ভেতর এতো একবার করে দিন হবেই।
আবার দিনের বেলার জন্য ব্যাটারীও লাগবে না। চাইলে পাম্পগুলোকে দিনেও চালাতে পারেন। সরাসরি চলবে, কোনো ব্যাটারী ছাড়াই।
বাংলাদেশে থাকলে, সম্ভব হলে এখন সোলার লাগিয়ে ফেলা আপনার জন্য বুদ্ধিমানের কাজ।
গত বছর যখন আপনাদেরকে বলেছিলাম, তখন লাগালে খরচ হতো এখনের অর্ধেক। এখন যেটা দেড় লাখ লাগবে, তখন সেটা ৮০ হাজারেই হয়ে যেত।
যেহেতু সোলারের চাহিদা সামনে আরো বাড়বে, টাকার মান আরো কমবে, জিনিসপত্রের দাম বাড়বে, তাই আপনার খরচও এই বছরের তুলনায় আগামী বছর কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে।
তবে মনে রাখবেন, সোলারের কোনো রেডিমেড সিস্টেম নাই। আপনার যা যা প্রয়োজন সে অনুযায়ী কাস্টম বিল্ড দরকার হয়। সেভাবে ডিজাইন করতে হয়।
অর্থাৎ আপনার যা যা লাগবে, সে অনুযায়ী ডিজাইন এবং খরচ।
অনেকটা বাড়ী করার মত। বাড়ী যেমন আপনার যা যা দরকার সেভাবে ডিজাইন করা হয় এবং বানানো হয়। সেরকমই অনেকটা।
খরচ বাঁচানোর জন্য বা না বুঝে বাজে প্যানেল এবং সিস্টেম ব্যবহার করবেন না। এটা মাথায় রাখবেন।