18/05/2026
★জিলহজ্জ মাসের প্রথম ১০ দিনের ফজিলত এবং আমল★
জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিন আমাদের জন্য বড় একটা সুযোগ। হাদিসে জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিন পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম দিন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।
ইবনে আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)বলেন, এমন কোনো দিবস নেই যার আমল জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের আমল থেকে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় হবে। প্রশ্ন করা হল, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর পথে জিহাদ করা থেকেও কি অধিক প্রিয়? রাসূলুল্লাহ (ﷺ)বললেন, হাঁ জিহাদ করা থেকেও অধিক প্রিয় তবে যদি এমন হয় যে ব্যক্তি তার জান-মাল নিয়ে আল্লাহর পথে বের হল এবং এর কোনো কিছুই ফেরত নিয়ে এল না।
আরো একটি হাদিস থেকে আমরা জানি,
আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রা.) থেকে বর্ণিত নবী কারিম (ﷺস.) বলেছেন: এ দশ দিনে নেক আমল করার চেয়ে আল্লাহ রাববুল আলামিনের কাছে প্রিয় ও মহান কোন আমল নেই।
জিলহজ মাসের ১ম দশকের ১বছর রোযার সমান এবং ১রাতের ইবাদত ১হাজার মাসের চেয়েও বেশি ইবাদতের সমান!(লাইলাতুল কদরের সমান)"
[তিরমিযী : হাদীস নং- ৭৫৮]
তাহলে আপুরা, আমরা এই স্পেশাল দশ দিনকে কিভাবে অবহেলা করবো বলুন? আসুন জানি কিভাবে কাজে লাগাতে পারি?
১. ইবাদাতে মনোযোগী হতে হবে। নামাজের ক্ষেত্রে আরো বেশি মনোযোগী হতে হবে। বেশি বেশি ইবাদাত করার টার্গেট নিতে হবে। যেমন:
• ফরজ সালাত অবশ্যই পড়বো
• সুন্নাহ ১২ রাকাত আদায় করবো
• তাহিয়াতুল অযু প্রতিদিন ২ রাকাত হলেও আদায় করবো
• প্রতিদিন কিছু হলেও নফল সালাত পড়বো, তাহাজ্জুদ ইশরাক,চাশত কিংবা আওয়াবিন।
২. জিলহজ্জের ৯ দিন সম্ভব হলে সিয়াম রাখবেন। সম্ভব না হলে, ৯ ই জিলহজ্জ অবশ্যই সিয়াম রাখবেন।
আবু কাতাদাহ (রঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহকে ﷺ আরাফার দিনের সিয়াম সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। তিনি (ﷺ) বললেন, ❝তা (ঐ দিনের) পূর্বের এবং পরের এক বছরের গুনাহসমূহের ক্ষতিপূরণ।❞
৩. প্রতিদিনকে যিকিরমুখর করবেন। সালাতের মতো যিকিরের ও টার্গেট নিতে পারেন, যেমন-
• ইস্তেগফার ৫০০ বার পড়বো
• দরুদ ৫০০ বার পড়বো
• তাসবিয়ে ফাতেমি প্রত্যেক সালাতের পর ও ঘুমানোর পূর্বে পড়বো
৪. প্রতিদিন কুরআনের সাথে সময় কাটাবেন।
কুরআন পড়বেন
অর্থ পড়বেন
তাদাব্বুর করবেন
পারলে তাফসীর পড়বেন।
৫. ওয়াজিব তাক্ববির দিবেন। ৯ ই জিলহজ্জ ফজরের নামাজ থেকে শুরু করে ১৩ ই জিলহজ্জ আসরের নামাজ পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর তাকবির দেওয়া প্রত্যেক মুসলিম নারী-পুরুষের ওয়াজিব। তাকবীরে তাশরিক:
اللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، لَا إِلٰهَ إِلَّا اللَّهُ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، وَلِلَّهِ الْحَمْدُ
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদ।
তাক্ববির দিতে ভুলে যাবার সম্ভবনা অনেক তাই জায়নামাজে ছোট্ট একটি কাগজে তাক্ববির লিখে লাগিয়ে রাখতে পারেন।
৫. এই দিনগুলোতে দু'আকে সাথী বানিয়ে ফেলা। কোনভাবেই দু'আ মিস না দেওয়া। বিশেষ করে আরাফার দিনে দু'আ করবেন অনেক বেশি। রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন, "সর্বোত্তম দু'আ হলো আরাফার দিনের দু'আ।” তাই দু'আর ক্ষেত্রে কোন কমতি করা যাবেই না।
৬. খাস দিলে তওবা করা। আরাফার দিন কেদেকেটে আল্লাহর কাছে গুনাহের জন্য অনুতপ্ত হওয়া। আল্লাহ আপনার চোখের পানি পছন্দ করেন। তাই তওবা করুন। সাথেই আরেকটি হাদিসে রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেন—
“আল্লাহ আরাফার দিনের চেয়ে বেশি আর কোনো দিনে এত মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন না।” আল্লাহ তো জাহান্নাম থেকে বাঁচার সুযোগ দিয়েছেন ই, কাজে লাগাতে হবেনা?
৭.যতবেশি সম্ভব আল্লাহর রাস্তায় বিনিয়োগ করা । প্রতিদিন কিছুটা পরিমাণ টার্গেট নিয়ে কতা । অনলাইনে অনেক বিশ্বাসযোগ্য সোর্স আছে। এত উত্তম সুযোগ হাতছাড়া করা যায়?
৮. যাদের নিসাব পরিমাণ সম্পদ আছে তাদের ১০ই জিলহজ্জ পশু কুরবানী করা ওয়াজিব। বিশেষ করে আমরা মেয়েরা ভাবি কুরবানি বাবা বা স্বামী তার নামে দিলেই হবে। অথচ আপনার কুরবানি ওয়াজিব হলে আপনার নামেই কুরবানি দিতে হবে।
৯. প্রত্যেকটা দিন সুন্নাহের সাথে কাটানোর চেষ্টা করবেন। গোসলের,খাবার, ঘুমানোর মতো প্রাত্যহিক কাজগুলো সুন্নাহের সাথে করবেন। এছাড়াও বিশেষ যেসব সুন্নাহ আছে সেগুলো পালন করার চেষ্টা করবেন।
১০. সকাল এবং সন্ধ্যার দিকে কোনভাবেই বাদ দিবেন না। সকাল এবং সন্ধ্যার জিকির গুলো আপনাকে সকল খারাপ বিষয় থেকে হেফাজত করবে। তাই কোনভাবেই সকাল সন্ধ্যার মাসনুন জিকির বাদ দিবেন না।
১১. যথাসম্ভব অহেতুক সময় নষ্ট না করা। শাইতান যখন গুনাহ করাতে পারেনা তখন সে অযথা কাজে আমাদের ব্যস্ত রাখে। তাই চেষ্টা করবো অযথা সময় যত কম অতিবাহিত করা যায়।
১২. শেষ কিন্তু খুব ই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, আমরা যারা গৃহিণী গৃ্হস্থলি কাজ করি, এই দিনগুলোতেও তো কাজ থাকবে তাইনা? এই কাজগুলো যখন করবেন খিদমতের নিয়তে করবেন। রান্নাঘরে যাবার সময় মনে মনে আল্লাহকে বলবেন আল্লাহ আমি আপনার বান্দাদের খিদমতের জন্য কাজ করছি এর বিনিময়ে আপনি আমাকে সওয়াব দিয়েন। এর মাধ্যমে আপনার কাজ ও হয়ে গেলো ইবাদাত।
আমলের লিস্ট খুব বেশি বড় নয়, তবে হ্যা অনেক সওয়াবের ভান্ডার। তাই চেষ্টা করবেন খুব করে এই কটা দিন আমলময় করে কাটানোর।
আল্লাহ আমাদের উত্তমভাবে এই কটা দিনের আমল করার তৌফিক দিন ও গুনাহ মাফ করে দিন আমিন।