05/02/2018
#আলীর #আর্তনাদঃ (ছবির ছেলেটি)
সেদিন গভীর রাতে প্রেসক্লাবে অবস্থানরত আলী ফেসবুক লাইভে এসেছিলেন। একটা পর্যায়ে তিনি বিমর্ষ মুখে হাউমাউ করে কেঁদে দিলেন। জীবনের সবচেয়ে প্রিয় মা অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও প্রেসক্লাবে খোলা আকাশের নিচে দিনের পর দিন কাটিয়ে দিচ্ছেন, সেই সাথে তার স্মৃতিজরিত শৈশব ও মাকে মনে করে কেঁদেছেন ফুপিয়ে ফুপিয়ে। বেকারত্বের অভিশাপে মার চিকিৎসা করাতে পারছিলেন না। আমি তার দৃশ্য দেখে থ-হয়ে বসে রইলাম রাত সাড়ে তিনটা পর্যন্ত। খুব কষ্ট লাগছে ভাইদের জন্য। এত কষ্টের পরও যদি মাকে একটু হাসি ফোটাতে না পারে, চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩৫ করতে না পারে, তাহলে তাদের কি স্বান্তনা দিব, ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না । কোনদিন এই আন্দোলন ব্যর্থ হলে আমি অন্তত নিজেকে ক্ষমা করতে পারবো না। কারণ আমি নিজেও নানা কারণে ৩৫ আন্দোলনের সাথে প্রত্যক্ষভাবে সাহায্য করতে পারছি না। আমি কোনদিন চাকরি করে সুখে থাকলেও এই আলী ও এদের মত যোদ্ধাদের মুখগুলো ভুলতে পারবো না। লাইভের একটা পর্যায়ে সবার পা ধরে আকুতি করে। আমার চোখে বৃষ্টির ধারা বয়ে গেছে। ঠিকইতো, ভিক্ষুক দরজায় এলেই বুঝে যাই তারা কি চায়, কিন্তু এই আলীদের মত বেকারের আকুতি কি ভিক্ষার চেয়েও জগন্য? তাহলে কেন তাদের কাছে গিয়ে সংহতি প্রকাশ করছেন না! কেন সহযোগিতা করছেন না! তবে কি ছাত্ররা নীতিকে অলসতার কাছে হারিয়ে দিচ্ছে!
আলী অনেকবার আন্দোলন করতে গিয়ে বাঁধার সন্মুখীন হয়, তবুও চালিয়ে যায় বেকারত্ব ঘুঁচানোর মিশনে। বারবার ভাইভা দিয়ে চাকরির বয়স শেষ করে আজ সে তথাকথিত বুড়ো। তার একটাই আকুতি, সেশনজটের সময়টুকুও কি ফিরে পাবে না? রাষ্ট্র কি চাকরিতে এপ্লাইয়ের জন্য সকলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করবে না? এটাই কি সংবিধান!!!! সবাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আশায় চাতকের মত তাকিয়ে আছে।
পরিশেষে বলতে চাই, আলীর মা হয়তো একদিন চলে যাবে ছেলের কষ্টের স্মৃতি নিয়ে, আলীও হয়তো একদিন হারিয়ে যাবে স্মৃতি থেকে। কিন্তু আমাদের এই স্বার্থপরতা থেকে যাবে কিয়ামত পর্যন্ত। আর লিখতে পারছি না, চোখটা ভিজে গেছে অশ্রুতে। ভাল থাকুক আলী, সহযোদ্ধা ও সহযোদ্ধাদের পরিবারের সকলে।