28/02/2023
ছাত্রলীগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশের সম্মিলিত ভূমিকায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা এখন বিপন্ন। যে কেউ যেকোনো সময়ে ছাত্রলীগের যেকোনো পর্যায়ের নেতা কর্মীদের দ্বারা আক্রান্ত, অপদস্থ, ক্ষতিগ্রস্ত, জখম এমনকি নিহতও হতে পারে। অসংখ্য দৃষ্টান্ত আছে। যারা আক্রান্ত হয় জখম অবস্থায় মিথ্যা মামলায় আরেকদফা নির্যাতন ও দীর্ঘমেয়াদী অনিশ্চয়তার শিকার তাদের অনেকেই। গত কয়দিনেই আরও বহুজন নানা মাত্রার নির্যাতনে পড়েছেন, ছাত্রলীগের দীর্ঘসময় নির্যাতনের কারণে আইসিইউতেও গেছেন দুইজন। খুন পঙ্গু হয়েই যাচ্ছে।
কিন্তু এই ছাত্রলীগের ছেলে মেয়েরাও তো এই সমাজেরই সন্তান, তাদের মধ্যেও খুবই দরিদ্র বাবা মার সন্তানও আছে। ভর্তির শর্ত পূরণ করে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েই তো তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেছে। তাদের মা বাবারা কেউ নিশ্চয়ই সন্তানকে খুনী , নির্যাতক, যৌন নিপীড়ক, চাঁদাবাজ, ছিনতাইকারী বা খুন- পঙ্গু হবার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাননি। এদেরও মেধা ছিল, সম্ভাবনা ছিল, স্বপ্নও নিশ্চয়ই ছিল বড় কিছু হবার। কারা এদের এরকম পতন ঘটালো, ভাড়াটিয়া কিংবা মাথাছাড়া প্রাণীতে পরিণত করলো? কাদের বাঁশীতে চলছে এরা?
উত্তর খুঁজতে গেলে প্রথম চোখ যাবে বিশ্ববিদ্যালয় ও হল প্রশাসনের দিকে, যারা চুপচাপ এদের সমর্থন দিয়ে নিজেরা পদ বা আরও কিছু পেতে চায়; এর পরে স্থানীয় সরকারি দলের দখলদার টেন্ডারবাজ লোকজনদের দিকে যারা এদের কাজে লাগায় নিজেদের নানা অপরাধে; শেষে চোখ গিয়ে আটকে যাবে সরকারের বড় কর্তাদের মুখে যারা এদের লাঠিয়াল বানিয়ে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করতে চায়। আসলে ছাত্রলীগের শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি সংগঠন হবার কোনো প্রক্রিয়া নেই, এর কমিটি গঠিত হয় উপর থেকে, ভাঙাও হয় উপর থেকে, বহুস্থানে কমিটি সদস্য হতে গেলেও টাকা দিতে হয়। লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতাই অবিরাম অপরাধের মূল শক্তি।