11/07/2022
চাঁদ দেখার পর আমার অত্যাবশকীয় কাজ অর্থাৎ তাকে ক্যামেরাবন্দি করেই একটু আলাদা লাগলো।ছবি দেখে বুঝলাম আজকে চাঁদটা কিছুটা ভিন্ন।সাথে সাথে আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখি সে মেঘের পিছনে লুকিয়ে আমাকে ভেংচি দিয়ে বললো,"আমার সৌন্দর্য এতো তুচ্ছ করে আমাকে তোমরা প্রিয় বলো?না তাকিয়েই ছবি তুলে তারপর বলো আমাকে দেখতে ভালো লাগে?"
ব্যঙ্গ নয়-সত্য।
চাঁদের অভিযোগ আর অভিমান নিয়ে ভাবনা চিন্তা করে অনুশোচনা করা বাদ দিয়ে মনে শুধু তার ভিন্নতার কথা ঘুরতে থাকায় তাকে না মানিয়েই বারান্দা ত্যাগ করলাম।আসতে আসতে মনে হলো তার চারপাশে এই বলয়কে বলে Moon halo।অনেক আগে একবার এক জায়গায় পড়েছিলাম। শুধু এতোটুকুই জানতাম।তারপর আরেকটু ঘাটাঘাটি করলাম।
আরও কিছু নামে চিনতে পারেন এই ঘটনাকে।যেমনঃ২২° বর্ণবলয়,চন্দ্র বলয়, মুন রিং বা শৈত্য বলয় (উইন্টার হ্যালো)।কিন্তু আমার পছন্দ হয়নি একটা নামও।আমি নাম দিলাম "চাঁদের আলোক প্রহরী"।
এই ধরনের বর্ণবলয়ের উদ্ভব হয় বরফ-স্ফটিকে আলোর ক্রিয়ার ফলে। বায়ুমণ্ডলের ঘনীভূত ষড়ভুজাকার বরফ-স্ফটিকে সরাসরি আপতিত চাঁদের আলো প্রতিসরিত হয়ে এ ধরনের বর্ণবলয় গঠন করে।আবার শুনেছিলাম এমন বলয় দেখা গেলে নাকি ২৪ ঘন্টার মধ্যে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।সত্য কিনা জানিনা।
জানেন।নিজেকে চাঁদপ্রেমী দাবি করা আমি আজ ২য় বারের মতো লজ্জা পাই যখন জানতে পারি ২২° বর্ণবলয় প্রতি ১০০ দিনে একবার দেখা যেতে পারে; অর্থাৎ, প্রকৃতিতে রংধনুর চেয়েও এদের বেশি দেখা যায়।কিন্তু এমন ভাবে খেয়াল করলাম এই প্রথম।কেউ আবার চাঁদকে এইটা বলবেন না যেনো।এক অভিমান না মিটতেই আরেক অভিমান মনে দাগ কেটে যায়।
আচ্ছা!চাঁদের গায়ে দাগগুলো কি তাহলে অভিমানই?