05/09/2024
বেশ কিছুদিন আগেও বাংলাদেশে SMS সেবা ব্যবক ভাবে ব্যবহার হতো, এর মধ্যে A2P এসএমএস বা মেশিন জেনারেটেড এসএমএস খুবই ব্যবহার হতো। এগুলি ব্যবহার হতো OTP, Transectional, Promotion, Notice ইত্যাদি কাজে।
সাবেক ফেসিস্ট হাসিনা সরকারের আমলে আমরা একসময় ১৫-১৬ পয়সায় A2P এসএমএস সেল করতে পারতাম। আজ সেটি হয়ে গেছে ৩০ পয়সা এর উপরে। এর কারণে বাংলাদেশে এসএমএস ব্যবহার কমে যাচ্ছে। এছাড়াও তৎকালীন মোস্তফা জব্বার আরেকটি নিয়ম করেছিলেন এসএমএস করতে হবে বাংলায়। এতে করে যেই তথ্য পাঠানো যেতো ১৫ পয়সায় সেইটা পাঠানোর জন্য খরচ করতে হচ্ছে ৬০ পয়সা থেকে ১ টাকা পর্যন্ত। এর কারণ এসএমএস খরচ বেড়ে যাওয়া ও যেখানে ইংলিশ এর ক্ষেত্রে একটি এসএমএস ১৬০ অক্ষরে হিসেব করে, সেখানে বাংলায় ৭০ অক্ষরে হিসেব করে।
ফলাফল, যেখানে মাসে দেড়শো কোটি এসএমএস সেন্ট হতো সেখানে ৫০ কোটি এসএমএস সেন্ট হয়না।
আজ আমরা জানবো এখানে এসএমএস এসএমএস এর এই দুর্দশা কেনো তৈরি হয়েছে।
তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে সজিব ওয়াজেদ জয় একটি কোম্পানি তৈরি করে, এবং অবৈধ ভাবে সকল নাগরিক যারা এসএমএস পাঠাতে চাইবে সকলের থেকে একটা ৬ পয়সা এর চাঁদা আদায় এর সিস্টেম করে। কোম্পানিটির নাম হচ্ছে ইনফোজিলিওন। এখনো এই কোম্পানির কোনো কাজ নেই। এখন আমাদের দাবি এই কোম্পানি দ্রুত বন্ধ করতে হবে।
কেনো কোম্পানিটি বন্ধ করতে হবে সেইটা নিয়ে আলোচনা করছি,
১/ অতিরিক্ত খরচ: এখানে জোরপূর্বক ৬-৭ পয়সা প্রতিটা এসএমএসে অ্যাড হচ্ছে, এটি জোরপূর্বক প্রতিটি গ্রাহকের থেকে চাঁদা আদায় করছে।
২/ সিকিউরিটি সমস্যা: এখানে প্রতিটি এসএমএস ওই কোম্পানির থ্রো তে পাঠানো লাগছে, ফলাফল আপনার ব্যাংক ট্রামজেশন থেকে শুরু করে সব তথ্য তাদের নিকট যাচ্ছে, যেহেতু এটি জয়ের কোম্পানি তারা এগুলো দিয়ে আমাদের উপর মনিটরিং করতে পারছে। আপনি একটা পণ্য দারাজ থেকে অর্ডার এর সাথে সাথেই, বা একটা টাকা উত্তোলনের সাথে সাথেই সেই ফ্যাসিস্ট সরকার জেনে যাচ্ছে।
৩/ সার্ভিস কোয়ালিটি বিঘ্ন: একজন A2P এসএমএস প্রভাইডার আগে ১ লাখ এসএমএস পাঠাতে সময় নিতো ৩-৫ মিনিট, ক্ষেত্র বিশেষে ৭ মিনিট। সেটি ওই কোম্পানির থ্রোতে পাঠানোর কারণে সময় লাগছে ৩ ঘণ্টা বা এর বেশি। এখানে স্লো হবার কারণে আপনি খেয়াল করবেন মাঝে মাঝেই আপনার ব্যাংক এর OTP আসছে না। বা ATM থেকে টাকা তুলেছেন দেরি করছে, বা একসাথে অনেক এসএমএস আসছে। কারণ জয়ের কোম্পানি এসএমএস ফিল্টার করে সেখানে থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। এবং ওদের সিস্টেম স্লো। মাঝে মাঝে হ্যাং করে। এছাড়াও তাদের DLR কাজ করে না। ফলাফল আমরা গ্রাহককে জানাতে পারিনা যে কোন এসএমএস সেন্ট হয়েছে কোনটা হয়নি, বা কেনো হয়নি।
৪/ ডাউন হলে সব ডাউন: মনে করেন আপনি সচিবালয় বা সরকারি অফিসে যাবেন যেখানে OTP ভেরিফায়েড হয়ে যেতে হয়, সেখানে ঢুকতে পারবেন না। আপনি টাকা ট্রান্সফার করতে চাচ্ছেন, করতে পারবেন না। পুলিশ ভেরিফিকেশন করতে চাচ্ছেন পারবেন না। ইকমার্স বিজনেস থেমে যাবে। এসএমএস নির্ভর সকল সেবা থমকে যাবে। ডিজিটাল সকল সিস্টেম কাজ করে এসএমএস নির্ভর। যদি এই সিস্টেম বন্ধ হয়, তাহলে চিন্তা করুন জয় এখনো চাইলে কিভাবে আপনাকে আমাকে বিপদে ফেলতে পারে?
এছাড়া আরো অনেক গুলি সমস্যা আমরা তুলে ধরতে পারবো।
এখন দেখি এটি আসলে আদো প্রয়োজন আছে কিনা।
এই সার্ভিসটি সরকার যখন অ্যাড করে অবৈধ ভাবে তখন তারা বলেছে এইটা দরকার অপারেটর এর নিকট এসএমএস সঠিকভাবে পৌঁছে দিতে। কারণ এখন MNP করে গ্রাহক মোবাইল অপারেটর চেঞ্জ করে। কিন্তু আসলে এর দরকার নেই। মোবাইল অপারেটর কোনটা সেইটা এসএমএস সেন্ড এর ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলে না। যদি করত আপনি অপারেটর চেঞ্জ হয়েছে এমন একটা নাম্বারে আপনার মোবাইল থেকে এসএমএস করলে অবশ্যই এসএমএস যাবে। কোনো আলাদা কারো মাধ্যমে পাঠাতে হচ্ছে না। এখানে আসলে ভূগোল বুঝিয়ে আমাদেরকে এইটা ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে, ঠিক যেভাবে একাই ইন্টারনেট বন্ধ হয়ে গিয়েছিল তেমন।
এসএমএস সার্ভিস দেই আমরা এসএমএস প্রোভাইডাররা, আমাদের যদি এমন কোনো সার্ভিস বা সেবা প্রয়োজন না হয় তাহলে তাদের আগ বাড়িয়ে এইটা অ্যাড করা কি দরকার? যেখানে গ্রাহক থেকে বড় একটা ফি বা চাঁদা দেওয়া লাগছে? আমরা যদি এই লুটেরা কোম্পানি ছাড়াই আমাদের এসএমএস সেবা স্মুথ রাখতে পারি তাহলে এদের দরকার কই?
এখন জানি, এই জয়ের কোম্পানি বাদ দিতে গেলে আমাদের কি করতে হবে এবং সার্ভিসে কোনো ইফেক্ট পড়বে কিনা:
এই সার্ভিস বাদ দেওয়ার জন্য শুধু BTRC এর একটি আদেশ বা প্রজ্ঞাপন লাগবে। ১ মিনিটের মধ্যেই বাদ দিয়ে আগের মতো স্মুথ এসএমএস সার্ভিস ও কম দামে এসএমএস সার্ভিসের দিকে আমরা যেতে পারব। সার্ভিসের মধ্যে কোনো ইফেক্ট পড়বে না। বরং এসএমএস সেবা স্মুথ ও অনেক দ্রুত হবে।
এখন আমাদের দাবি কী?
১/ হয় এই কোম্পানি বিলুপ্ত করতে হবে অথবা অনুমতি প্রদান করতে হবে যেনো আমরা ৩য় পক্ষ এই লুটেরা চাঁদাবাজ কোম্পানি ছাড়াই এসএমএস সেবা স্মুথ ভাবে প্রদান করতে পারি।
২/ এই অপকর্মের মধ্যে যেসকল কর্মকর্তা জড়িত তাদের শাস্তির আয়তায় আনতে হবে।
৩/ বাংলা এসএমএস কে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, সেটি বাতিল করতে হবে।