08/02/2026
মোনাজাত করার নিয়ম—🤲
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
১. প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা করবেন।
সুরা ফাতিহা পড়ে, আল্লাহর সুন্দর সুন্দর নাম ধরে প্রশংসা করবেন।
— [তিরমিজি: ৩৪৭৬]
২. তারপর দরুদ পড়বেন।
দরুদ পড়া মানে নবী কারিম (ﷺ) ও উনার পরিবারের জন্য জন্য দোয়া।
— [তিরমিজি: ৩৪৭৭]
☞ এখন দোয়া শুরু :
৩. নিজের জন্য, মাতাপিতার জন্য ও সকল মুসলমানের জন্য একটি দোয়া পাঠ করবেন:
সূরা নুহ: ২৮ নং আয়াত।
ইব্রাহিম: ৪১ নং আয়াত।
৪. এরপর বাহ্যিক দোয়া পড়া। — [ইবনে হিব্বান: ৭৬৮]
যেমন: ইসমে আযম, সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত, দোয়া ইউনুস ইত্যাদি দোয়াগুলো পড়বেন।
৫. এবার মোনাজাতে আপনার সমস্যা বা রোগীর বা অন্যের সমস্যা সমাধানের জন্য দোয়া করবেন।
৬. দোয়ার শেষে আবার দরুদ পড়বেন।
ইব্রাহিম: ৪১ নং আয়াত।
☞ প্রত্যেক দো’আ ঝুলে থাকে যতক্ষণ না দরুদ পাঠ করা হয়(ﷺ)। আলহামদুলিল্লাহ্।
❑ যারা দোয়া করছেন, কিন্তু কবুল হচ্ছে না :
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
যারা আমল করেও ফল পান না, তারা পুরো লেখাটা অবশ্যই পড়বেন।
সেদিন হাদিস পড়ছিলাম মধু নিয়ে। যেহেতু নিয়মিত মধু খাওয়া শুরু করেছি, মনে হয়েছে মধু নিয়ে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) কি বলেছেন, তা জানা উচিত।
বুখারীর একটা হাদিস পড়েছিলাম, মধু নিয়েই। হাদিস নাম্বার মনে নেই। সরাসরি হাদিসটা বর্ণনা না করে আমি আমার মতো বলি!
একবার একজন লোক এসে রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-কে বললেন যে, তাঁর ভাইয়ের পেটব্যথা। সম্ভবত ডায়রিয়া হয়েছিলো, এক্সাক্ট মনে নেই। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ওই লোককে মধু খাওয়ানোর নির্দেশ দিলেন। কারণ, মধুতে শেফা আছে। তো ওই লোক চলে গেলেন। আবার ফিরে এসে জানালেন যে, তাঁর ভাইয়ের অসুস্থতা ভালো হয়নি। তিনি (ﷺ) আবারও মধু খাওয়ানোর নির্দেশ দিলেন।
এভাবে কয়েকবার লোকটার ফিরে আসার পর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) মধু খাওয়ানোরই নির্দেশ দিলেন এবং বললেন যে, “আল্লাহ সত্য বলেছেন, আর তোমার ভাইয়ের পেট মিথ্যা বলছে।” অতঃপর লোকটা ফিরে গিয়ে তাঁর ভাইকে মধু খাওয়ালেন এবং অবশেষে সে (লোকটার ভাই) সুস্থ হলো।
হাদিসটা পড়তে পড়তে আমার চিন্তা মধু থেকে সরে গিয়ে অন্য জায়গায় গেলো।
আমাদের মধ্যে অনেকেই আছি, দু’আ করে অভিযোগ করি যে, আল্লাহ দু’আ কবুল করেন না। দুরুদ-ইস্তেগফার করে বলি, পেরেশানি দূর হয় না; বিপদ কাটে না। সদকাহ্ করেও সম্পদ বৃদ্ধি হতে দেখি না। হাদিসে উল্লেখিত ঋণমুক্তির দু’আগুলো পড়েও ঋণ থেকে মুক্ত হতে পারি না।
আচ্ছা, আল্লাহ কি কখনোই মিথ্যা বলতে পারেন?
তাঁর বাণী তো মহাসত্য! তাঁর রাসূলের (ﷺ) হাদিস কি মিথ্যা হতে পারে? কখনোই নয়!
আপনি কুরআন খুলুন। সূরা বাকারাহতে রমাদানের আয়াতগুলোতে দেখুন। আল্লাহ বলেছেন, তিনি বান্দাদের ডাকে সাড়া দিবেন। তিনি বলেছেন, বান্দার দু’আ তিনি কবুল করবেনই। সূরা বাকারাহ’র শেষ দিকে সদকাহ্-র আয়াতগুলো দেখুন! সম্ভবত ২৬১ থেকে শুরু। আল্লাহ ওয়াদা করেছেন, তিনি দানকারীর দান ৭০০ গুণ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিবেন কিংবা তারচেয়ে বেশি। তিনি দানকারীকে অভয় দিয়েছেন, যারা গোপনে-প্রকাশ্যে দিনে/রাতে সদকাহ্ করে, তাদের ভয় নেই, দুঃশ্চিন্তা নেই।
আপনি সূরা নূহ এ ইস্তেগফারের আয়াতগুলো পড়ুন। আল্লাহ বলেছেন, বান্দা যদি ক্ষমা চায়, তিনি বান্দাকে ক্ষমা তো করবেনই, সাথে দিবেন অঢেল রিজিক; সন্তান, বাগান, ফলফলাদি। এবং বান্দা যতক্ষণ ইস্তেগফারে থাকবে, ততক্ষণ তাকে আযাব স্পর্শ করবে না।
হাদিসে এসেছে, দুরুদ পড়লে হাজত পূর্ণ হয়৷ পেরেশানি দূর হয়। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) যখন বলেছেন, তারমানে এটা যে সত্য, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ঋণমুক্তির দু’আ আছে। ওই দু’আগুলো পড়লে পাহাড়সম ঋণও আল্লাহর পক্ষ থেকে আদায় হয়ে যাবে, এমনটাই হাদিসে এসেছে।
আমাদের প্রতিটা দু’আ আল্লাহ কবুল করেন। কারণ, আরশের মালিক ওয়াদা দিয়েছেন। আমাদের সদকাহ্ বিফলে যায় না। তা বেড়ে যায় বহুগুণ। দুরুদ পড়লে সত্যিই হাজত পূর্ণ হয়। ইস্তেগফারে রিজিকে বারাকাহ্ আসে। হাদিসে বর্ণিত ঋণমুক্তির আমলে, ঋণ থেকে মুক্ত হওয়া যায়। প্রতিটি আমলই সত্য এবং কার্যকরী। যদি কাজ না হয়, বুঝতে হবে– হয় আমাদের আমলের মাঝে ত্রুটি আছে, না হয় রব্ব সবরের পরীক্ষা নিচ্ছেন।
মধুতে শেফা থাকা সত্ত্বেও একবারে তা কাজ করেনি। লোকটা কয়েকবার ফিরে এসেছিলেন। তবুও আল্লাহর রাসূল (সঃ) মধু খাওয়ানোরই নির্দেশ বহাল রেখেছিলেন। কারণ আল্লাহ সত্য বলেছেন।
আমাদের আমলগুলোকেও এই হাদিসের সাথে রিলেট করতে পারি। আল্লাহর জন্য করা সবকিছুই লাভজনক। আমরা সেটা বুঝতে পারি, আর না পারি; আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের বাণী অবশ্যই সত্য, মহা সত্য। এবং কাবার মালিক আমাদের প্রত্যেকের আমলের প্রতিদান দিবেন ইংশাআল্লাহ্।
❑ নিজের জন্য দোয়া লিস্ট—🤲
▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬▬☞
উত্তমরূপে মুনাজাত শিখি :
আমাদের দু’আর সবচেয়ে বেশি হক্বদার আমরা নিজেরাই। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) এর সুন্নাহ, কারো জন্য দু’আ করলে প্রথমে নিজের জন্য দু’আ করা।
— (মুসনাদে আহমদ ২১২৪৭ (৫/১২১)
দু’আ লিস্টটাতে আমি নিজের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতের বেসিক চাওয়াগুলোই লেখার চেষ্টা করেছি। আপনারা অবশ্যই আপনাদের নোটবুকে দু’আগুলো নোট করে নিবেন। এসব ছাড়াও আমাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত অনেক অনেক প্রয়োজন আছে। সেসবও নোট করে রাখার চেষ্টা করবেন। ছোট-বড় সকল প্রয়োজন আল্লাহকে বলবেন৷ খুব করে আল্লাহর কাছে চাইবেন৷ বেশি বেশি চাইবেন।
দু’আতেই সব সুখ! একমাত্র দোয়াই ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারে, মৃত্যু পর্যন্ত পিছিয়ে যায়(নেক হায়াৎ বৃদ্ধি পায়)।
•••————–🤲–————•••
❑ ইয়া আল্লাহ, ইয়া হাইয়্যু ইয়া কাইয়্যুম, ইয়া জুল জালালি ওয়াল ইকরাম, আমাকে দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ দাও।
❑ তুমিই আল্লাহ, তুমি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই। আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাচ্ছি জাহান্নাম ও কবরের আযাব থেকে।
❑ আমি তোমার কাছে পানাহ চাই তাকদিরের খারাপ কিছু থেকে।
❑ হে আল্লাহ! আমার উপর তোমার রহমত, দয়া, বরকত, শান্তি, ক্ষমা বর্ষণ করো।
❑ ক্ষমা করে দাও আমার আগের পাপ, আমার পরের পাপ, আমার ছোট-বড় সকল পাপ, আমার গোপন পাপ, আমার প্রকাশ্য পাপ। আমার বাড়াবাড়ি এবং যে সকল পাপের কথা তুমি ভালো জানো। ক্ষমা করো সেসব পাপ, যা আমি ভুলে যাই। ক্ষমা করো সেসব পাপ, যা আমি পাপই মনে করি না।
❑ আমাকে আশ্রয় দাও বিতাড়িত শয়তান থেকে, তার ওয়াসওয়াসা থেকে ও অতৃপ্ত নফস থেকে।
❑ আমাকে আশ্রয় দাও দুনিয়ার জীবনের ফিতনা ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে। এবং দাজ্জালের অমঙ্গল থেকে।
❑ আমার জন্য তোমার করুনার দরজা, তোমার রহমতের দরজা খুলে দাও।
❑ আমার রিজিকে প্রশস্ততা দাও। অঢেল বরকতময় রিজিক দাও। বেহিসাবি রিজিক দাও। এবং সেসব তোমার সন্তুষ্টি অনুযায়ী তোমার পথে ব্যয় করার নসীব দাও।
❑ আমাকে সন্তুষ্টি ও কৃতজ্ঞতার জীবন দাও। পরিপূর্ণ সুস্থতা, নিরাপত্তা দাও।
❑ আমাকে মৃত্যু অবধি পরিপূর্ণ হিদায়তের উপর অটল রাখো। আমাকে এক মূহুর্তের জন্যও নিজের জিম্মায় ছেড়ে দিও না।
❑ ইয়া রব্ব, আমার অভিভাবক, বন্ধু হিসেবে তুমিই যথেষ্ট হয়ে যাও।
❑ হে আমার প্রতিপালক, আমাকে বানিয়ে দাও তোমার জন্য অধিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারী, অধিক যিকরকারী, অধিক তাকওয়াবান, তোমার প্রতি অধিক বিনয়ী, অধিক আনুগত্যকারী, তোমার প্রতি বেশি বেশি তওবাকারী।
❑ আমার জিহ্বাকে তোমার যিকর দ্বারা সুসজ্জিত, পবিত্র করে দাও। আমার কলবকে আখিরাতের ফিকির দ্বারা পূর্ণ করে দাও।
❑ আমার তওবা কবুল করে নাও। আমার পাপকে ধুয়ে দাও, আমার দুআ কবুল করো। আমার জিহ্বাকে পবিত্র ও সুসংরক্ষিত রাখো।
❑ আমার অন্তরকে সুপথে পরিচালিত করো। হিংসা, বিদ্বেষ, সংকীর্ণতাসহ সমস্ত অন্তরের রোগ থেকে আমার অন্তরকে পবিত্র রাখো।
❑ আমার হৃদয়কে আজীবনের জন্য প্রশান্ত করে দাও।
❑ যা কিছু আমাকে পীড়িত করে, সেসব কিছু আমার কাছ থেকে সরিয়ে নাও।
আমার ইজ্জত-আব্রুকে হেফাজত করো আমার মৃত্যু অবধি এবং এর পরেও।
❑ দুনিয়ার কারো কাছে আমার মাথা নত হতে দিও না। সৃষ্টির মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে পানাহ দাও।
❑ আল্লাহ! আমাকে দুনিয়া ও আখিরাতে আফিয়াতের সাথে সম্মানিত করো।
❑ আমাকে দুনিয়ায় দাও উত্তম বাসস্থান, উত্তম পরিজন, উত্তম সঙ্গী ও উত্তম রিজিক। আখিরাতকে করো দুনিয়ার চেয়ে বহুগুণে উত্তম, পবিত্র ও সম্মানিত।
❑ মৃত্যুকে আমার জন্য সহজ ও আনন্দদায়ক করে দাও। ইজ্জতের সাথে আমার মৃত্যু দাও। জবানে কালিমা রেখে, অন্তরে তোমার ভরপুর ভালোবাসা, তাকওয়া রেখে মৃত্যুবরণ করার তওফিক দাও। আমাকে শাহাদাতের মৃত্যু দাও। রাসুলের শহরে আমার মৃত্যু দাও। জান্নাতুল বাকিতে দাফন হওয়ার নসীব দাও। আমার কবরকে প্রশস্ত, আরামদায়ক করে দাও।
❑ তোমার নিয়ামত দেওয়ার পর তা ছিনিয়ে নিও না। এবং এর সাথে পরীক্ষাও রেখো না।
❑ আমাকে এমন কষ্ট দিও না, যা আমার ইমানকে সংকটে ফেলবে, আমার অন্তর বিধ্বস্ত করে দিবে। আমার শরীর ভেঙে দিবে। আমলে ঘাটতি আনবে।
❑ আমি তোমার কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের যাবতীয় কল্যাণ চাই। আমার জানা-অজানা যত কল্যাণ, সব তুমি আমায় দাও। আমার জানা-অজানা সমস্ত অকল্যাণ থেকে আমাকে আজীবন পানাহ দাও।
❑ হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে এমন উত্তম জ্ঞান চাই, যা আমার ও দশের উপকারে আসবে। আমাকে যা শিখিয়েছো, তা দ্বারা আমার নিজের ও অন্যের উপকার করার তওফিক দাও।
❑ আমাকে সবসময় তুমি উত্তম হালতে রাখো। আমার অতীতের চেয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যতকে আরো বেশি উত্তম করো।
❑ আমাকে তোমার যিকর, শোকর, ইবাদাত সুন্দরভাবে করার তওফিক দাও।
❑ আমাকে আশ্রয় দাও কৃপণতা থেকে, কাপুরুষতা থেকে, অপমানকর অতি বৃদ্ধ বয়সে পৌঁছান থেকে।
❑ তুমি আমার দ্বীনকে সংশোধিত, কল্যাণময় করো। আমাকে দুনিয়ায় এমন কল্যাণ দাও, যা আখিরাতের কল্যাণকে নিশ্চিত করে।
❑ দুশ্চিন্তা, ডিপ্রেশন, উৎকণ্ঠা, বেদনা, ক্লেশ, অলসতা, অক্ষমতা, নীচতা, লাঞ্ছনা, হতাশা, মানুষের প্রভাব থেকে পানাহ চাই। আর পানাহ চাই প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য অশ্লীলতা থেকে।
❑ ইয়া আল্লাহ! আমার সান্নিধ্যকে মানুষের জন্য স্বস্তিদায়ক বানিয়ে দাও। আমার চরিত্রকে এমন জায়গায় উন্নীত করো যেন আমার সংস্পর্শে এলে মানুষের তোমার কথা স্মরণ হয়। প্রতিটা সম্পর্কের ক্ষেত্রে আমাকে তুমি বেস্ট ভার্সনটা দাও। আমাকে এমন নূর দাও, আমার জবানে, চরিত্রে, চেহারায় এমন নূর, সৌন্দর্য দাও, যেন মানুষ স্বস্তি পেতে, সান্নিধ্যে পেতে আমার কাছে আসতে চাইবে।
❑ ইয়া রব্ব! তোমার কোনো বান্দা আমার উপর যেন প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে জুলুম করতে না পারে। আমিও যেন তোমার কোনো বান্দার উপর জুলুম না করি।
❑ আমাকে সবসময় এমন মানুষদের সঙ্গে রেখো, যাদের সঙ্গ ঈমানকে বৃদ্ধি করে।
❑ মা-বাবা ও জীবনসঙ্গীর সন্তুষ্টি নিয়ে তোমার সাথে সাক্ষাতের তওফিক দাও।
❑ আমাকে তুমি আরশের নিচে ছায়া দাও। আমার জন্য হিসাবকে সহজ করো। আমলনামা ডানহাতে দাও। বিদ্যুৎগতিতে পুলসিরাত পার করিয়ে দাও।
❑ আমার আল্লাহ! জাহান্নামের ঠান্ডা বাতাসও আমার দ্বারা সহ্য করা সম্ভব না। আমাকে, আমার প্রিয়জনদের তুমি বিনা হিসাবে জান্নাতুল ফেরদৌসে ঠাঁই দাও।
❑ আমার পরিবারকে বানিয়ে দাও দুনিয়ার বুকে এক টুকরো জান্নাত। আমার পরিবারের সদস্যদের একে অপরের কুররাতু আইয়ুন বানিয়ে দাও। আমাদের এক করে দাও, নেক করে দাও। আমার নিজের জন্য করা প্রতিটা দুআ তাদের জন্যও আফিয়াতের সাথে কবুল করে নাও।
❑ আমি তোমার আশ্রয় নিচ্ছি খারাপ দিন থেকে, খারাপ রাত থেকে, খারাপ মূহুর্ত থেকে, খারাপ সঙ্গী থেকে ও বসতবাড়ির খারাপ প্রতিবেশী থেকে।
❑ আমার জবানে, অন্তরে, চরিত্রে, জীবনে কুরআনকে মিশিয়ে দাও। আমাকে আফিয়াতের সাথে কুরআনের খাদিমা বানিয়ে দাও। কুরআনের পিছনে মেহনত করার তওফিক দাও।
❑ কুরআনকে বুঝার, অনুধাবন করার এবং নিজের জীবনে তা প্রয়োগ করার তওফিক দাও।
❑ আমার উপর অত্যাচারীর বিরুদ্ধে আমাকে সাহায্য করো। আমার জন্য তুমি যথেষ্ট হও। জালিমকে হিদায়ত দাও না হয় ধ্বংস করো।
❑ আমাকে এমন তাওয়াক্কুল দাও, যেন পৃথিবীর সমস্ত মানুষ আমার বিরুদ্ধে গেলেও আমি তোমার উপর ভরসা করতে পারি।
❑ যা কিছু তুমি অপছন্দ করো, সেসব কিছু থেকে পানাহ দাও।
❑ রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেসব নিয়ামাহ্ চাইতেন, আমাকে তুমি সেসব নিয়ামাহ্ দাও। যা কিছু থেকে তিনি পানাহ চাইতেন, আমাকেও সেসব থেকে পানাহ দাও।
❑ আমাকে পবিত্র অবস্থায় মৃত্যু দাও। তোমার সাথে পবিত্র অবস্থায় সাক্ষাতের তওফিক দাও। এমন সময় আমার মৃত্যু দাও, যে সময় আমি পাপমুক্ত এবং তুমি আমার উপর পরিপূর্ণ সন্তুষ্ট।
ইয়া রব্ব! এমন দু’আ থেকে পানাহ চাই, যে দু’আ কবুল হয় না। আমার অন্তরের চাওয়াগুলো আমার চেয়ে তুমি ভালো জানো। আমার চাওয়াগুলো আফিয়াতের সাথে, উত্তমভাবে কবুল করে নাও। আমিন🤲
— তাহিয়া ইসলাম
💌 সদকায়ে জারিয়া নিয়তে পোস্টটি শেয়ার করে দিন।
📬 আপনাদের যে কোনো প্রশ্নের উত্তর জানতে আমাদের SMS করুন।
▪️ডিপ্রেশন?
▪️সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছেন?
▪️জ্বীনের সমস্যা?
▪️শরীরের বিভিন্ন রোগের ইসলামিক চিকিৎসা দরকার?
▪️ইসলামের যে কোনো বিষয়ের সমাধানসহ মাসয়ালা জানতে Guidelines to Jannah কে ফলো দিয়ে রাখুন।