DESI LANE

DESI LANE Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from DESI LANE, Bethuadahari.

21/01/2025
24/06/2020

Ebar theke ranna ghar hobe duson mukto

O±
07/06/2020

#'o' পজিটিভ
#ঈপ্সিতা_মিত্র


রাত তখন প্রায় ১২টা | রাজারহাট এলাকার রাস্তাগুলো বেশ শুনশান | এই ফাঁকা রাস্তায় হার্দিকের গাড়ি ফুল স্পিড নিল | একটা একসিডেন্ট ওকে করতেই হবে আজ | ব্যাস,অনেক হয়েছে | অনেক বেঁচে নিয়েছে ও | আর না | চারিদিকে সবাই এত ফেক , এত মুখোশ পরা লোকজন ! এত কমপ্লিকেশন | হার্দিক আজ ক্লান্ত | খুব ক্লান্ত | আসলে যখন এই চেনা মানুষগুলোর অচেনা মুখ গুলো একের পর এক সামনে আসতে থাকে তখন চারিদিকটা এত ভয়ংকর হয়ে যায় ! তাই আজ ও এই ডিসিশনটা নিয়েছে | নিজেকে শেষ করে দেয়ার ডিসিশন | পয়জেন ,ঘুমের অসুধ ও খেতে পারত | কিন্তু বাড়িতে দুটো কাজের লোক আছে রাত দিনের , ওরা ঠিক হসপিটালে নিয়ে গিয়ে বাঁচিয়ে দেবে | আর অফিস বিল্ডিং থেকে ঝাঁপ মারবে না কারণ হাইট এ বেশ ভয় লাগে | তার থেকে এটাই বেস্ট | ড্রাইভ করতে এমনিতেও বেশ ভালো লাগে | তাই মরবেই যখন তখন পছন্দের একটা জিনিস করেই মরা যাক | এই সব ভাবতে ভাবতেই রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বড় বট গাছটাকে ধাক্কা দিল | ইচ্ছে করেই | বেশ জোরে গাড়িটাকে নিয়ে গিয়ে ধাক্কাটা দিল | গাড়ির সামনের কাঁচটা এক সেকেন্ড এ ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে এখন | হার্দিকের মাথাটা মনে হলো যন্ত্রনায় ছিঁড়ে যাচ্ছে , আসতে আসতে চারিদিকটা অন্ধকার হয়ে আসছে চোখের সামনে | হঠাৎ এই মুহূর্তে শেষ বারের মতন হার্দিকের মনটা যেন বলে উঠলো , ''যাক, মিশন একমপ্লিশড ..''

হার্দিকের চারিদিকটা আবছা থেকে পরিস্কার হচ্ছে , চোখ টা আসতে আসতে খুলছে ওর | মরার পরে যেখানে এলো সেই জায়গাটার দেয়াল গুলো সাদা ,আর পর্দা গুলো নীল না কি ! ও মনে হয় কোনো একটা ঘরে আছে, মাথায় এখনো বেশ যন্ত্রণা | যাঃ বাবা ! মরার পরও তার মানে ব্যথা যন্ত্রণা এই সব ফিল হয় ! এ কি , পাশে এটা কে দাঁড়িয়ে আবার ? বেশ মিষ্টি দেখতে তো মেয়েটাকে |
" হাই , আমি মিষ্টি | থ্যাঙ্ক গড আপনার সেন্স এসেছে | পুরো দু দিন পর জানেন | আপনি এখন লাইফ কেয়ার হসপিটালে আছেন | ডাক্তার বলেছে টেনশনের আর কোনো কারণ নেই | সো , ডোন্ট ওরি.. "
হ্যাঁ ! মানে এই সাদা ঘর আর নীল পর্দাটা একটা hospital এর কেবিন ! আরে , ওর হাতেও তো স্যালাইন চলছে | তার মানে এত কিছু করে যে এক্সিডেন্টটা করলো সেটা বিফলে গেল ! এইসব ভাবনার ভিড়েই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মেয়েটা আবার বলে উঠলো,
" কি হলো ? আপনি কিছু বলছেন না কেন ? শরীর খারাপ লাগছে ?"
না, এবার হার্দিক ডিরেক্টলিই কোয়েশ্চেনটা করেই ফেললো,
" আমি মরিনি ?"
" না | আমি বাঁচিয়েছি |" ---- মেয়েটা এক কথায় উত্তর |
হার্দিক এবার ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বললো , "মানে ?"
" মানে আপনার এক্সিডেন্টটা যা হয়েছিল ! যদি ঠিক সময়ে আমি হসপিটালে না নিয়ে আসতাম তাহলে তো আর কিছু করাই যেত না | শুধু কি তাই !আপনার ব্লাড গ্রূপ 'বি' পজিটিভ | এখানকার ব্লাড ব্যাংকে ছিলই না | তারপর আমি বললাম 'কোই বাত নেহি' | আমার ব্লাড আছে কি করতে ! দিয়ে দিলাম , দু বোতল | আসলে 'ও' পজিটিভ তো, খুব কাজে লাগে | ব্যাস আপনি বেঁচে গেলেন |"
মিষ্টি এক গাল হেসে কথাগুলো বলে গেল | বেশ প্রাউডলি | একজনের জীবন বাঁচিয়েছে বলে কথা ! কিন্তু হার্দিকের এই সব শুনে মাথায় যেন আগুন জ্বলে উঠলো | গলার আওয়াজ সপ্তকে চড়িয়ে বললো,
"আপনাকে কে বলেছে শুনি এত কিছু করতে ! কোথাকার সমাজ সেবিকা আপনি ? নিজের রক্ত নিজের কাছে রাখুন | আমাকে দান করার কি ছিল !. আমি চেয়েছিলাম কি ?"
"এই.. আপনি চেঁচাচ্ছেন কেন ? অদ্ভুত তো ! কোথায় আমাকে থ্যাংকস বলবেন | অত বড় একটা এক্সিডেন্ট থেকে বাঁচালাম ! ত়া না !"
"ওটা এক্সিডেন্ট ছিল না, সুইসাইড ছিল | আর আমি বাঁচতে না , মরতে চেয়েছিলাম | আর আপনি সব কিছুতে জল, ওহ সরি ,আপনার 'ও' পজিটিভ রক্ত ঢেলে দিলেন | "
মিষ্টি যেন আকাশ থেকে পড়ল...
"কি ? আপনি সুইসাইড করতে গিয়েছিলেন ? সে কি ! আপনি জানেন না আত্মহত্যা মহাপাপ | আর সেটার থেকেও বড় কথা, যদি ধরুন পুরোপুরি মরতেনও না , আবার পুরোপুরি বাঁচতেন ও না ! কোমায় টোমায় চলে যেতেন ? তখন কি হত ! আর আপনার মা বাবা, ফ্যামিলির কথা তো ভাবুন |"
এবার হার্দিকের মাথাটা একটু ঠান্ডা হয়েছে | আসলে ওই কোমায় চলে যাওয়ার কথাটা শুনে সত্যিই ভয় লেগে গেছে একটু | তাই গলার ভয়েজটা নিচে নামিয়ে বললো , -------
" আমার মা বাবা নেই | আমি যখন ছোট ছিলাম, তখনি একটা প্লেন ক্র্যাশ এ ; "
" ওহ , রিয়ালি সরি ... কিন্তু আপনার আর কেউ তো থাকবে ? ওয়াইফ , গার্লফ্রেন্ড ! তার কথা তো ভাববেন ?"
এই কথাটা শুনে হার্দিক আবার উত্তেজিত হয়ে গেলো , " আরে , ওটার জন্যই তো সব ! "
" ওহ, বুঝেছি | প্রেম ঘটিত ব্যাপার | ত়া ত্রিকোণ প্রেম না কি পরকিয়া ?"
" আমার চার বছরের একটা রিলেশন ছিল | নেক্সট মন্থ - এ বিয়ে | আর সেদিন জানতে পারলাম এত দিন ধরে আমাকে ইউজ করছিল | ওর মডেলিং কেরিয়ার এর জন্য | আমার বিজনেস এর থ্রু দিয়ে অনেক কন্ট্যাক্টস , সেই গুলো ইউজ করছিল | ব্যাস |"
" ওহ , এটা খুব বাজে | সত্যি | কিন্তু এই একটা ব্রেক আপ এর জন্য আপনি বোকার মতন সুইসাইড করছিলেন ? এই যে দেখুন আমি , আমার সেই কলেজ লাইফ থেকে আজ অব্দি দশটা ব্রেক আপ হলো | কোনো বয় ফ্রেন্ড টেকেই না ! লাস্ট-টার সাথে তো বিয়ের কথাও চলছিল | তারপর হঠাৎ একদিন বললো বিয়েতে ওকে টু বিএইচকে ফ্ল্যাট গিফ্ট করতে হবে | ভাবুন একবার ! আমিও মুখের ওপর বললাম গেট আউট .."
এইসব শুনে হার্দিক শুকনো মুখে বললো , --- "ওহ .. ভালো করেছেন |"
এতে মিষ্টি আরোও উৎসাহিত হয়ে বললো , " তাহলে আপনিও এই ভালো কাজটা করুন | যারা আপনাকে হার্ট করেছে , ঠকিয়েছে ,তাদের জন্য বেকার বেকার মরতে কেন যাবেন ! বরং আই সাজেস্ট খুব হ্যাপিলি বেঁচে তাদের দেখিয়ে দিন যে তাদের ছাড়াও আপনি ব্যাপক আছেন |."
"আপনি কি সাইকোলজিস্ট ? মানে আপনার কথা দেখে মনে হচ্ছে ! আপনি কি আমার কাউন্সিলিং করছেন ? আর আমার কিন্তু বেশ ভালো লাগছে |"---হার্দিক এবার চোখগুলো গোল গোল করে জিজ্ঞেস করলো |
এই কমপ্লিমেন্টটা শুনে মিষ্টির মুখে হাসি , ---- " থ্যাংকস ফর দ্যা সম্মান... কিন্তু আমি রিপোর্টার | আর এই সব জ্ঞান দেয়া আমার বর্ন ট্যালেন্ট | আপনার আর লাগলে বলবেন , ফ্রি সার্ভিস .. এটা আমার কার্ড | মনে হলে ফোন করবেন | আজ আসি |."
কথাটা শেষ করেই হার্দিকের হাতে অফিস থেকে পাওয়া নিজের ভিজিটিং কার্ডটা দিয়ে মিষ্টি চলে গেলো | এর মধ্যে হার্দিকের মাথার যন্ত্রণাটাও এখন অনেকটা কম | আর সঙ্গে মনের যন্ত্রনাটাও | .ধুর ! শুধু শুধু এক্সিডেন্ট টা করতে গেল | আগে যদি কার্ডটা থাকত ! তাহলে একটা কল করলেই হয়তো কাজ মিটে যেত !

সেইদিনের পর হার্দিক ফোন করেছিল | আসলে একটা কাউন্সিলিং এ কি আর হবে ! চার পাঁচটা কাউন্সিলিং, বেশ কিছু জ্ঞানের বাণী তো চাই | ডিপ্রেসন থেকে বেরিয়ে আসার জন্য | এই যেমন সেদিন, অফিস এ সন্ধ্যেবেলা মিটিং টা শেষ করে মনে হলো, কাজ ছাড়া তো ওর লাইফ এ আর কিছুই নেই | একটা নিজের লোকও না | এই লোনলি লাইফে ও কি করবে ! তখনি মন উত্তর দিয়ে দিল, "মিষ্টি কে কল.."
"হ্যালো, দেখা করা যাবে ?"
"ওকে ,আমারও অফিস শেষ | প্রিন্সেপ ঘাটে চলে এসো | " ,---- মিষ্টির এক কথায় উত্তর |
হ্যাঁ ,এখন আর আপনি আজ্ঞে না | হালকা একটা বন্ধুত্ব তো হয়েইছে | তাই নো ফর্মালিটি | আর মিষ্টিকে হার্দিকের খুব আলাদা লাগে | মানে ওর কথাগুলো ! এই রকম কথা এর আগে কখনো কোথাও কারোর কাছে শোনেনি | আসলে হার্দিকের এত বড় বিজনেস ! তার জন্য যাদের সাথেই ওর আলাপ হয় তারাই ওকে বেশ মন যুগিয়ে কথা বলে | একটু এক্সট্রা সুনাম | এক্সট্রা ভদ্রতা | কিন্তু মিষ্টি ওই সব পাঠ্বেলাতেই নেই ! এই যেমন সেইদিন প্রিন্সেপ ঘাটেই বলছিল,
"তোমার আর কি ! সারাদিন এসি রুমে বসে লোকজনকে অর্ডার দেয়া | তুমি জানো তোমার একটা ইন্টারভিউ পাওয়ার জন্য তোমার পি.এ কে কত তেল মেরেছি ? ওই এক্সিডেন্টের দিন যদি জানতাম তুমিই কর্পোরেট ওয়ার্ল্ড এর নতুন শাইনিং ষ্টার সেই হার্দিক সেন ! তাহলে দু মিলিমিটার রক্ত কম দিতাম |"
সত্যি ! এর কি উত্তর দেবে হার্দিক ! .কি ই বা বলার থাকতে পারে এরপর | তা ও কিছু কথা সাজিয়ে বললো , ---
" সরি ,আমি কি জানতাম তখন যে তুমি আমার লাইফ বাঁচাবে ! তাহলে একটার জায়গায় দশটা ইন্টারভিউ দিতাম | আর এটাও ভুল যে আমি সারাক্ষণ এ.সি রুম এ বসে অর্ডার দিই | অফিসের সবাইকে দিয়ে কাজটা আমাকে ঠিক সময়ে কমপ্লিট করিয়ে নিতে হয় | এতো এতো প্রজেক্টস হ্যান্ডেল করা থেকে ডেডলাইন ম্যানেজ করা , সব আমাকেই দেখতে হয় , বুঝলে | বস হওয়া অতো সহজ কাজ না | "
এই রকম টুকটাক, হিসেবী, বেহিসেবি অনেক কথা হয় মিষ্টির সাথে হার্দিকের | যেটা এর আগে আর কারোর সাথে কখনো হয়নি | এই রকম অনেক কাজও করেছে মিষ্টির সাথে যেটা এর আগে কখনো আর কারোর সাথে করা হয়নি | যেমন গঙ্গা বক্ষে নৌকা ভ্রমন, রাস্তার পাতি চায়ের দোকানে বসে প্লাস্টিকের কাপে চা খাওয়া, নিউ মার্কেট এ ঘুরে ঘুরে শপিং |
এইভাবে দেখতে দেখতে প্রায় নটা মাস কেটে গেছে | হার্দিকের মধ্যে ডিপ্রেশন এর ডি ও আর নেই | বরং কারোর মুড্ অফ দেখলে ও নিজে এগিয়ে গিয়ে জোকস শোনায় তাকে | এটাকে বলে 'সমাজ সেবা' | মিষ্টি শিখিয়েছে | আর ভালো টাইম পাস ও | তবে এর মধ্যে আরো একটা ব্যাপারও হয়েছে | যেটা যে কোনো রোমান্টিক স্টোরিতেই হয়ে থাকে | হার্দিক মিষ্টির প্রেমে পরেছে | বেশ ভালো মতন ভাবে | কি করে যে মিষ্টির লাইফ এ দশটা ব্রেক আপ হলো ! সত্যি , এই রকম একটা মিষ্টি মেয়ের প্রেমে না পরে থাকা যায় ! যদিও মিষ্টি হার্দিককে প্রেমের কোনো সাইনই দেখায়নি | কিন্তু তাতে কি ! এই যে এত ফোন কলস,এত দেখা, এত কাউন্সিলিং , এত জ্ঞান, এত গল্প , সবই কি এমনি ! নিশ্চয়ই মিষ্টি কিছু ফিল করে | আর বাকিটা হার্দিক করবে | প্রপোজ করে |
সেই দিন এই সব ভাবতে ভাবতেই মিষ্টির সাথে দেখা করেছিল | আর বলেও দিয়েছিল নিজের ফিলিংস এর ব্যাপারে | কিন্তু তারপরই সবটা কেমন উল্টে গেল | মিষ্টিকে এতটা গম্ভীর এর আগে কখনো দেখেনি ! ' আই লাভ ইউ টু ', বা ' আই সি ইউ এস এ ফ্রেন্ড ', বা ' আই এম নট ইন্টারেস্টেড ' এই সব চেনা লাইন কিছুই বললো না ও | শুধু বললো, 'এটা সম্ভব না..' | ব্যাস | কেন, কি বৃত্তান্ত এই সবের মধ্যেই গেল না | আর একটা এক্সট্রা ওয়ার্ডও খরচ করলো না |
এরপর সাত দিন কেটে গেছে | মিষ্টির না কোনো ফোন, না কোনো ম্যাসেজ | হার্দিক কল করেছে বহুবার | কিন্তু ফোন টা বেজে গেছে | .কেউ ধরেনি |আর হার্দিকের কাছে বাড়ির এড্রেস ও নেই যে গিয়ে জিজ্ঞাসা করবে ! এইভাবে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়ার মানেটা কি ! একটা উত্তর তো চাই | না, হার্দিক আর চুপচাপ বসে থাকবে না |.কিছু একটা করতেই হবে | হার্দিকের কাছে সেই হসপিটালে পাওয়া মিষ্টির কার্ড টা ছিল | ওখান থেকেই অর পত্রিকার অফিস এর নম্বর টা পেল, আর অফিস থেকে মিষ্টির বাড়ির ঠিকানা | আজ গিয়ে একটা হেস্ত নেস্ত করেই ছাড়বে |

প্রত্রিকার অফিস থেকে যে এড্রেসটা পেয়েছিলো সেটা অনুসরণ করে হার্দিক এখন বালিগঞ্জ প্লেস এর একটা একতলা বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে | কলিং বেলটা বাজাতে মিষ্টিই দরজাটা খুললো | একটু যেন অবাক হয়েছিল হার্দিককে সামনে দেখে ! একেবারে বাড়িতে চলে আসবে ভাবেনি | কিন্তু হার্দিকের মাথা এখন খুব গরম | ড্রয়িং রুমে ঢুকেই বেশ চেঁচিয়েই বললো , -------
" কি ভাবো কি নিজেকে ? মিস ইন্ডিয়া ? ফোন টা ধরতে কি হয় ?"
কথা গুলো বলতে বলতেই হঠাৎ ঘরের জানলার কাছে চোখটা চলে গেল হার্দিকের | হুইল চেয়ারে এক মহিলা বসে | মাঝারি বয়স্ক | মুখটা বেশ সুন্দর |কিন্তু চোখ দুটো স্থির | চোখের পলকও খুব একটা পরছে না | একভাবে জানলার দিকে তাকিয়ে | এইসব দেখে হার্দিকের মনে হঠাৎ একটা প্রশ্ন এসে উঁকি দিলো , এই মহিলা কে? তবে জিজ্ঞেস করার আগেই মিষ্টি বলে উঠলো ,
"ওই হুইল চেয়ারে যে বসে আছে , সেটা আমার মা | সাত বছর ধরেই এই রকম | আজ অব্দি একটা কথাও বলেনি কারোর সাথে | আমার যখন ক্লাস টুয়েলভ , তখন একদিন রাত্রিবেলা বাবা অফিস থেকে ফেরার পর মা বাবার মধ্যে হঠাৎ একটা ঝামেলা হয় | খুব সাধারণ ব্যাপার নিয়ে | মা মনে হয় বাবাকে কিছু বাজার করতে আনতে বলেছিলো সকালে , আর বাবা সেটা ভুলে গিয়েছিলো | ব্যাস , এই নিয়েই দুজনের মধ্যে রাগারাগি | বাবা সেইদিন রাগে কিছু খায়নি , আলাদা ঘরে ঘুমোতে গিয়েছিলো | আসলে বাবা প্রথম থেকেই খুব সেনসিটিভ ছিল, এটা আমি জানতাম | যাই হোক, এইসবের পর আমিও সেদিন ঘুমোতে চলে গিয়েছিলাম | কিন্তু পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলাম বাবার ঘরের দরজা ভেতর থেকে দেয়া | দরজাটা কোনো রকমে আমি আর মা ভেঙেছিলাম | আর তারপর দেখলাম , বাবা ঝুলছে | ফ্যানের সাথে , মায়ের শাড়ি বেঁধেই | সুইসাইড নোট লিখেছিল একটা |অফিস এ ও না কি বাবার বস সেই দিন খুব অপমান করেছিল কাজের একটা ভুলের জন্য | সেই সব মিলিয়েই |"
এইসবের পর হার্দিকের প্রায় আর কিছুই বলার ছিল না | যা হয়েছে তার সত্যিই কোনো শান্তনা হয় না ! খুব অদ্ভুত লাগছিল | যার সাথে এত দিন এত কথা হয়েছে তার জীবন সম্পর্কে ও এক পার্সেন্ট ও জানত না ! ভাবেওনি যে তার নিজের জীবন সাত বছর ধরে একটা জায়গায় থেমে আছে | তাই আজ শুনছিল চুপ করে , মিষ্টির সব কথা | যেইগুলো এতদিন শোনা হয়নি | বোঝা হয়নি |
------ "মা ওই সব দেখে চুপ করে গেল কেমন | তারপর না কেঁদেছে, না হেসেছে | অনেক ডাক্তার দেখানো হয়েছে | কিন্তু কিছুতেই কিছু হয়নি | আমি হয়ত ওই জন্যই ভালো কাউন্সিলিং করতে পারি ! সাত বছর ধরে কত সাইকোলজিস্ট ,কত সাইকিয়াট্রিস্ট এর কত কথাই তো শুনলাম | ওই সব ব্রেক আপ ,হ্যান,ত্যান, আমি বানিয়ে বলেছিলাম | তোমাকে বোঝানোর জন্য | সুইসাইড ব্যাপার টা কি, কতটা ভয়ংকর ভুল. আর তার জন্য কত গুলো লাইফ শেষ হয় এটা আমি নিজের জীবন থেকে দেখেছি | জানি | আর মা কে মেন্টাল এসাইলাম এ দিয়ে বিয়ে করা আমার পক্ষে সম্ভব না | যাই হোক এত ঘটনা শোনার পর আর আমাদের যোগাযোগ না রাখাই ভালো | অল দা বেস্ট ফর ইওর লাইফ .."
মিষ্টি কথাগুলো বলে ভেবেছিল চ্যাপ্টার টা এখানেই শেষ | হার্দিক হয়তো কিছু শান্তনা বাক্য শুনিয়ে চলে যাবে | কিন্তু যা ভাবলো তার কিছুই মিললো না |
হার্দিক অন্য কথা বলে উঠলো , "আমি ইন্ডিয়ার বেস্ট সাইকোলজিস্টদের খুঁজে বার করব | তুমি এটা কেন ভাবছো যে কাকিমা কখনো ঠিক হবে না | মিরাকেল তো হয় | কাকিমা একেবারে ঠিক , আবার আগের মতন হয়েও তো যেতে পারে | আমাদের try তো করতেই হবে | "
এবার মিষ্টি অবাক হয়ে গেলো , পলকহীন ভাবে হার্দিকের দিকে তাকিয়ে বললো , ----- "আমাদের মানে ?"
হার্দিক আলতো হেসে উত্তর দিলো , "মানে আমাকে আর তোমাকে | এন্ড ডোন্ট ওরি , তোমার যদি কখনো মনে হয় আমি বিয়ে করার মতন কেউ , আমাকে সারা জীবন ভরসা করা যায় , তাহলেই আমাদের বিয়ে হবে | নইলে আমি কখনোই তোমাকে বিয়ের জন্য বলবো না | তবে হ্যাঁ , আজ থেকে তোমার লাইফের জার্নিতে ইউ আর নট এলোন .. তুমি চাও কি না চাও , আমি সঙ্গে থাকবোই | আর এতকিছু শুনে মনে হলো আমাদের 'আজ' টা খুব ইম্পরট্যান্ট | পরের টা ভাবতে গিয়ে আমি 'আজ' টা কে হারাতে চাই না | আর সাথে থাকার জন্য 'বিয়ে যে 'করতেই হবে এই রকম কোনো শর্তের দরকার নেই | কোনো condition তো কেউ লিখে দেয়নি | "
মিষ্টি সবটা শুনে ভেজা চোখে আবার বলে উঠলো , "কিন্তু এই ভাবে একটা আনপ্ল্যান্ড ফিউচার ! আমি আমার লাইফ আর সাথে কাউকে এই ভাবে জড়াতে চাই না | "
হার্দিক এবার মিষ্টির হাতটাকে শক্ত করে ধরে , ওর চোখের দিকে দৃঢ় দৃষ্টিতে তাকিয়ে একটু হেসে বললো , --" জড়িয়ে তো আমি গিয়েছিই | যেই দিন তোমার দেয়া 'ও' পজিটিভ আমার 'বি' পজিটিভ এর সাথে মিশে গেল | আর আফটার অল আমি স্বাধীন দেশের স্বাধীন নাগরিক | তাই সব ব্যাপারে যে তোমার সব কথা শুনতে হবে এর তো কোনো মানে নেই | আমি আর তোমার লাইফ থেকে কোথাও যাচ্ছি না , এটাই ফাইনাল | "
এটা শুনে মিষ্টির মুখে একটা হালকা হাসি | হয়ত এই কথা গুলোই হার্দিকের কাছ থেকে শুনতে চেয়েছিল ও , অনেক দিন ধরে , মনে মনে | আসলে এই হঠাৎ আসা ছেলেটা যে কখন ওর মনে একটা পার্মানেন্ট জায়গা করে নিয়েছে , ও বুঝতেই পারেনি ! আর বিয়ে হবে কি হবে না জানা নেই | কিন্তু 'আজ' সাথে থাকুক | এটাই বা কম কি |
----------------------------

Address

Bethuadahari
741126

Telephone

+919932627792

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when DESI LANE posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to DESI LANE:

Share