18/12/2025
ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে যে কোনো বিপ্লব যদি অর্ধেক পথে থেমে যায়, তাহলে সেই বিপ্লব শেষ পর্যন্ত নিজেরই সর্বনাশ ডেকে আনে। বিপ্লবের মাধ্যমে শাসক বদলানো গেলেও যদি পুরনো দমনমূলক শক্তির বিচার না হয়, তাদের ক্ষমতার উৎস ধ্বংস না করা হয় এবং রাষ্ট্রের কাঠামো আগের মতোই রেখে দেওয়া হয়, তাহলে সেই শক্তিগুলো আবার সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পায়। আমার মতে, এখানেই অধিকাংশ বিপ্লবের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা লুকিয়ে থাকে—আবেগ দিয়ে বিপ্লব শুরু হয়, কিন্তু বাস্তব ও কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস শেষ পর্যন্ত থাকে না।
বাংলাদেশের বিপ্লব ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইতিহাসেও আমরা এই সত্যের প্রতিফলন দেখি। পরিবর্তনের সময় সাধারণ মানুষ ও তরুণরা জীবনবাজি রেখে রাস্তায় নেমেছে, কিন্তু পরিবর্তনের পর অনেক প্রকৃত বিপ্লবীই নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছে। পুরনো সুবিধাভোগী ও দমনমূলক গোষ্ঠী পুরোপুরি নির্মূল না হওয়ায় তারাই আবার শক্তি সঞ্চয় করে বিপ্লবীদের টার্গেট করেছে। আমার মতে, এটাই কারণ যে বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে বহু বিপ্লবী খুন, হামলা ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।
একটি সফল বিপ্লব কেবল শাসকের পতনে শেষ হয় না; বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা এবং পুরনো অন্যায় কাঠামো ভেঙে নতুন ন্যায়ভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার মধ্য দিয়েই বিপ্লব সম্পূর্ণ হয়। আমার বিশ্বাস, বিচারহীন আপস কখনোই স্থিতিশীলতা আনে না—এটি শুধু সাময়িক নীরবতা তৈরি করে, যার নিচে প্রতিশোধ ও সহিংসতা জমে থাকে।
সবশেষে বলতে চাই, বিপ্লবকে রক্ষা করতে হলে প্রতিহিংসা নয়, বরং ন্যায়বিচারকে ভিত্তি করতে হবে। কিন্তু সেই ন্যায়বিচার যদি দৃঢ়ভাবে কার্যকর না হয়, তাহলে বিপ্লব তার নিজের সন্তানদেরই গ্রাস করে ফেলে। আমার মতে, ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে ভবিষ্যতেও একই ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটবে, আর তার মূল্য দিতে হবে সবচেয়ে সাহসী ও আদর্শবাদী মানুষগুলোকেই।