06/12/2024
ঈদ বনাম ইদ
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ থাকার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন; নিজেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি ও পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হতে নিষেধ করেছেন এবং এই ঐক্যের বন্ধন হিসেবে আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ বলেন, ‘আর তোমরা সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে আল্লাহর রজ্জুকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করো এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না’ (সূরা আলে-ইমরান : ১০৩)।
আদম(আঃ) কে সৃষ্টির পর, আদম সন্তানদের কাছে “অহংকার” পাপ কাজটি সর্বপ্রথম পাপ কাজ হিসেবে পরিচিতি পায়।
নূরের তৈরী ফিরেস্তাকে মাটির তৈরী আদম(আঃ) কে সিজদা করতে বলা হলে, অহংকার বসত ইবলিশ সিজদা করতে অস্বীকার করে সর্বপ্রথম এ পাপ কাজের সূচনা করে।
তাই এধরনের গর্হিত কাজ থেকে সবার দূরে থাকা উচিত।
গত শুক্রবার থেকে পরিচিত/ অপরিচিত অনেকের ফোন পেয়েছি,”ঈদ কোন দিন?”
গত শুক্রবার জুমা’র নামাজ পড়েছিলাম “Masjid Al Abedeen, Islamic Research Center of Canada, Inc” তে । সেখানকার খুতবার আলোচনা থেকে উত্তরটি দেয়ার চেষ্টা করি।
১ঃ৩০ টায় মসজিদের মূল অংশ কানায় কানায় পরিপূর্ন। মধ্যবয়সী ইমাম সাহেব আলোচনার জন্য নির্ধারিত জায়গায় বসলেন।
মুসল্লিদের বেশীর ভাগ আমাদের সাউথ এশিয়ান হলেও আফগান ও আরবীয়দের সংখ্যাও কম ছিল না।
ইমাম সাহেব প্রথমে মুসলিম উম্মাহর একতা বা ঐক্যের প্রতি গুরুত্বারোপ করে তার আলোচনা শুরু করলেন।
“সাহাবায়ে কেরামদের মধ্যে অনেক সময় অনেক বিষয় নিয়ে দ্বিমত ছিল। তবে তারা একে অপরের মতামতের প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল ও যথাযত সন্মান প্রদর্শন করতেন।”
চার মাজহাবের ইমামদের কাজের বাস্তব উদাহরন টেনে এনেছেন। কোরআন ও সুন্নাহ পরিপন্থি বা সাংঘর্ষিক না হলে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন।
মহান রব মানুষকে সৃষ্টি করে তাকে জ্ঞান দিয়েছেন এবং জ্ঞানের রাজ্যে প্রবেশ করিয়েছেন।
ইসলামে বিদ্যার্জন বা জ্ঞানার্জনের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
কোরআন ও হাদীসের অনেকগুলি উদৃতি দিয়ে অনেকগুলো বিষয়ের মধ্যে সংযোগ স্হাপনের নান্দনিক আলোচনা, যা সবাইকে মুগ্ধ করেছে।
হঠাৎ ঈদ উল আযহা’র প্রসংগ আসায় অনেকে একটু নড়েচড়ে বসার সুযোগ পেয়েছেন। উপস্হিত মুসল্লিদের বেশীর ভাগই বিভিন্ন প্রচারনা থেকে রবিবার ঈদ-এ সম্পর্কে জেনেছেন। ঈদ জামায়াতের সময় সূচী জানার জন্য অপেক্ষা করছিলেন।
ইমাম সাহেব বলে চলছেন, “ অনেকে রবিবার ঈদ করবেন। তাদের প্রতি আমি শ্রদ্ধাশীল। তবে আমাদের মসজিদে ঈদের জামাত হবে সোমবার।” না থেমে যোগ করলেন,”আপনার জ্ঞানও বুদ্ধি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিন, দুই দিনের কোন দিন ঈদের নামাজ পড়বেন।”
নামাজ শেষে অনেকেই নিজেদের মধ্যে আলোচনায় ব্যস্ত।
পরিচিত কয়েকজন আমার মতামত জানতে চাইলে বললাম, “ গত এক দশক থেকে নর্থ আমেরিকা ফিকহ কাউন্সিলের ক্যালেন্ডার অনুসরন করে আসছি।
ইসলামিক ক্যালেন্ডার, চাঁদের হিসাব ও কানাডার ভৌগলিক অবস্হান বিবেচনা করে রবিবার ঈদের নামাজ পড়ব। তাদের মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল তবে সমর্থন করতে অপরাগ।”
ড্যানফোর্থ ইসলামিক সেন্টার গত এক যুগ থেকে ডেন্টোনিয়া পার্কের খোলা মাঠে ঈদ জামায়াতের আয়োজন করে আসছে।
বায়তুল আমান, বায়তুল জান্নাহ ও সালাহ উদ্দিন মসজিদসহ ড্যানফোর্থ এর পার্শ্ববর্তী অনেক মসজিদ রবিবার ঈদ জামাতের সময়সূচী ঘোষনা করেছে।
ডেন্টোনিয়া পার্কে খোলা মাঠে ঈদের নামাজ পড়ার জন্য পরিবারের সকল সদস্যসহ চলে আসুন।
খোলা মাঠে ঈদের নামাজ পড়া আমাদের সংস্কৃতি ।
ইসলামী সংস্কৃতি প্রচার ও প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করুন।
সবাইকে আগাম ঈদ মোবারক।