22/04/2026
-দরুদের তাবিজ-
কাজিনের মেয়ে আমার ভাতিজি এসেছে বাসায়।
খুব মলিন, উদাস চেহারা।
পারিবারিক ভাবে খুব পছন্দের পুরুষের সাথেই বিয়ে হয়েছে,
শাশুড়ীর অত্যাধিক পছন্দের ছিলো।
কুশল জিজ্ঞাসা করতেই ঝরঝর করে কেঁদে দিলো।
“ফুপি, আমি ভালো নেই।”
আমি জিজ্ঞেস করলাম, “কেনও? মাত্র 6 মাস।
বাবার বাড়ি থেকে অনেক যৌতুক নিয়ে যেতে পারিনি বলে তাদের আশা পূরণ হয়নি।
এবার আমি বাবার বাড়ি আসার আগে বলে দিয়েছে সেপারেশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে,সে নাকি আবেগে বিয়ে করেছে এখন তার মা বোন তাকে অন্য মেয়ে বিয়ে করতে বলেছে।, আমি আসার বেশ কয়েকদিন হচ্ছে, একটা কল দেয়নি, রিসিভও করেনি। একবার রিসিভ করে বলে দিয়েছে তাকে বিরক্ত করতে না। ফুপি, আমি কি করবো বলো প্লিজ।” বলতে বলতে আবার কান্না।
তাকে বললাম, “আম্মু, টেনশন করো না। তুমি নামাজ পড়ো?”
বলে, “জি।”
রিলস বা নাটক দেখ?
বলে দেখতাম ফুপি এখন তেমন না।
“গীবত করো?”
“না,
“মিথ্যা বলো?”
“না,
“তাহলে মন দিয়ে শোনও। নামাজ কাজা করবেনা,
ফোন অহেতুক রিলস নাটক এসব দেখবানা।
মিথ্যা বলবেনা আর গীবত করবেনা। মন দিয়ে 100 বার দরুদে ইব্রাহিম পড়ো। বাকিটা দেখবে।”
ভাইয়ার বাসায় দাওয়াত ছিলো।
দৌড়ে এসে, “ফুপি, ফুপি, কি তাবিজ শিখিয়ে দিলা!
আমি মনদিয়ে 100বার পড়া শেষ করার কিছুক্ষণ পরেই আশ্চর্য ফলাফল আলহামদুলিল্লাহ।
আমাকে 3 বার কল দিলো এ পর্যন্ত।”
বললাম, “আলহামদুলিল্লাহ। উল্টো পালটা কিছু বলেছে?”
বলে, “নাহ, ফুপি। আবার বললো কিছুক্ষণ পরেই কল দিবে।”
তাকে শুধু বললাম, “আম্মু, এটা চালিয়ে যাও।
পরদিন সকালে নাস্তা খাচ্ছি।
ভাজতি ঘুম থেকে জেগে বললো, “সে কল দিয়েছে, ফুপি।”
তার দাদী বললো, “তুই লেট করে উঠেছিস, এখনো নাস্তা খাসনি, এটা বললি কেন! বলতে পারলিনা যে দুইবার খাওয়া হয়ে গিয়েছে?”
ভাজতি বললো, মিথ্যা বলবো না। ফুপি বলেছে, তাহলে তাবিজে কাজ দিবেনা।
মনে মনে বললাম নেক মাকসাদ পুরা হবেনা কেনও!আল্লাহ সবসময় আমাদের সব আরজি সবচেয়ে কাছে থেকে শুনেন।
আরও যদি তার বন্ধুর মাধ্যমে রিকুয়েষ্ট যায় তাহলে তো কথাই নেই।
কিন্তু আমরা তো মরিচিকায় সমাধান হাতরাই।