NAFS নাফস

NAFS নাফস Please follow my page and watch my videos..
(2)

31/01/2026

একদিন হযরত বাহলুল রহ. বসরার পথে হাঁটছিলেন। হঠাৎ তাঁর চোখে পড়ল—কয়েকজন শিশু বাদাম আর আখরোট নিয়ে খেলছে। তাদের একটু দূরে এক ছোট ছেলে একা দাঁড়িয়ে কাঁদছে।

বাহলুল রহ. মনে করলেন, হয়তো খেলনার অভাবে তার মন খারাপ। কাছে গিয়ে স্নেহভরে বললেন, 'বাবা, চাইলে আমি তোমার জন্য বাদাম–আখরোট কিনে দিই। তুমিও ওদের সঙ্গে খেলতে পারবে।'

ছেলেটি বিস্ময়ের দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল, 'আরে বোকা মানুষ! আমরা কি শুধু খেলতেই দুনিয়ায় এসেছি?'

বাহলুল রহ. থমকে গেলেন। জিজ্ঞেস করলেন, 'তাহলে কী করার জন্য এসেছো?'

ছেলেটি দৃঢ় কণ্ঠে উত্তর দিল, 'জ্ঞান অর্জন আর আল্লাহর ইবাদত করার জন্য।'

বাহলুল রহ. অবাক হয়ে বললেন, 'বাহ! এ কথা তুমি কোথা থেকে শিখলে?'

ছেলেটি সঙ্গে সঙ্গে কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত করল—
اَفَحَسِبۡتُمۡ اَنَّمَا خَلَقۡنٰكُمۡ عَبَثًا وَّ اَنَّكُمۡ اِلَیۡنَا لَا تُرۡجَعُوۡنَ
'তোমরা কি ভেবেছিলে, আমি তোমাদের অর্থহীনভাবে সৃষ্টি করেছি? আর তোমাদেরকে আমাদের কাছে ফিরিয়ে আনা হবে না?'

বাহলুল রহ. গভীরভাবে মুগ্ধ হলেন। বললেন, 'বাবা, তুমি তো জ্ঞানীর মতো কথা বলছো। আমাকেও কিছু উপদেশ দাও।'

ছেলেটি তখন চারটি কবিতা আবৃত্তি করল—
أَرى الدُّنْيا تُجَهِّزُ بانطِلاقٍ
مُشَمَّرَةً على قَدَمٍ وساقِ
فَلا الدُّنْيا بِباقِيَةٍ لِحَيٍّ
وَلا حَيٌّ على الدُّنْيا بِباقِ
كَأَنَّ المَوْتَ وَالحَدَثانَ فيها
إِلى نَفْسِ الفَتى فَرَسا سِباقِ
فَيا مَغْرورَ بِالدُّنْيا رُوَيْداً
وَمِنها خُذْ لِنَفْسِكَ بِالوِثاقِ
অর্থ—
আমি দেখি—দুনিয়া যেন বিদায়ের প্রস্তুতি নিয়ে ছুটে চলেছে,
সমস্ত শক্তি আর তৎপরতা নিয়ে।
না দুনিয়া কোনো জীবিতের জন্য স্থায়ী,
না কোনো জীবিত দুনিয়ায় চিরস্থায়ী।
মনে হয়—মৃত্যু আর বিপদ যেন
তরুণের প্রাণের দিকে ছুটে আসা প্রতিযোগী দুই ঘোড়া।
হে দুনিয়ায় মোহগ্রস্ত মানুষ! একটু থামো,
এই দুনিয়া থেকেই নিজের পরকালের পাথেয় সংগ্রহ করো।

এরপর ছেলেটি আকাশের দিকে মুখ তুলে দুই হাত উঠাল। তার চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে গাল ভিজিয়ে দিল। কাঁপা কণ্ঠে সে আরও দুটি পংক্তি পড়ল—
يَا مَنْ إِلَيْهِ الْمُبْتَهِلُ
يَا مَنْ عَلَيْهِ الْمُتَّكِلُ
يَا مَنْ إِذَا مَا آمِلٌ
يَرْجُوهُ لَمْ يَخِبِ الْأَمَلُ
অর্থ—
হে সেই সত্তা—যাঁর দিকে প্রার্থনাকারীরা হাত তোলে,
হে সেই সত্তা—যাঁর ওপর ভরসাকারীরা নির্ভর করে,
হে সেই সত্তা—যাঁর কাছে আশা নিয়ে চাইলে
কখনোই সেই আশা ব্যর্থ হয় না।

কবিতা শেষ করেই হঠাৎ ছেলেটি জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ল।

বাহলুল রহ. বলেন, 'আমি দ্রুত তার মাথা কোলে তুলে নিলাম। জামার হাতা দিয়ে মুখের মাটি পরিষ্কার করলাম। কিছুক্ষণ পর সে চোখ খুলল।'

আমি স্নেহভরে বললাম, 'বাবা! এত অল্প বয়সে তোমার এত ভয় কেন? তুমি তো এখনো শিশু। তোমার আমলনামায় তো কোনো গুনাহই লেখা হয়নি।'

ছেলেটি চোখ মুছে শান্ত কণ্ঠে বললেন, 'হে বাহলুল! আমি ঘরে দেখি, মা যখন চুলায় আগুন জ্বালান—তখন বড় বড় কাঠ সহজে জ্বলে না। তাই তিনি আগে ছোট ছোট কাঠ দেন। সেগুলো দ্রুত আগুন ধরে, তারপর বড় কাঠগুলো জ্বলে ওঠে।'

এ কথা মনে হলেই আমার বুক কেঁপে ওঠে—যদি কিয়ামতের দিন আল্লাহও এমন ফয়সালা করেন! যদি বলেন—জাহান্নামের আগুন আগে শিশুদের দিয়ে জ্বালানো হবে, তারপর বড়দের পালা আসবে…!
এই ভেবেই আমি ভয় পাই…

[তাফসির রুহুল বয়ান, সূরা মুমিনূন : ১১৫]

আল্লাহু আকবার! এমনও এক সময় ছিল—যখন ছোট ছোট বাচ্চারাও বসে বসে জাহান্নামের আগুনকে ভয় করত…
#খুতুবাত

সব অ্যাক্টিভিস্ট, দাঈদের তাবলীগের সফরে যাওয়া আমার কাছে জরুরী মনে হয়। চিল্লায় যেতে পারলে আলহামদুলিল্লাহ, না পারলে তিন দিন...
03/11/2025

সব অ্যাক্টিভিস্ট, দাঈদের তাবলীগের সফরে যাওয়া আমার কাছে জরুরী মনে হয়। চিল্লায় যেতে পারলে আলহামদুলিল্লাহ, না পারলে তিন দিনের সফরে একাধিকবার। বলছি কয়েকটা কারণেঃ

১) আদব শেখা
২) আমিরের আনুগত্য করা , যদিও সে আপনার চেয়ে কম ক্যালিবারের হয়।
৩) অন্য সাথীদের সাথে ইন্ট্যার‍্যাক্ট করা
৪) কুরআন মশক করা
৫) কম্ফোর্ট জোনের বাইরে থাকার অভ্যাস করা

উপরের সব কয়টাতে বেশিরভাগ ছেলেপেলেদের চুড়ান্ত সমস্যা আছে।

লেখা: M. Mahbubur Rahman

28/10/2025

কীসের জন্য কোন সূরা?

১. সূরা হজ্ব পড়লে বিয়ে সহজ হয়।
২. সূরা আম্বিয়া পড়লে যাদের বাচ্চা কাচ্চা হচ্ছে না তাদের বাচ্চা হবে।
৩. সূরা মারইয়াম পড়লে গর্ভধারণ সহজ হবে।
৪. সূরা ইনশিক্বাক পড়লে ডেলিভারি সহজ হয়।
৫. নিউবর্ন বাচ্চাকে ঘুম পাড়াতে সূরা গাশিয়াহ পড়ে শুনাবেন।

- উস্তাদ আম্মারুল হক হাফি.

07/10/2025

দুআটা এমন হোক।

হে আমার মালিক!
জৈবিক চাহিদা আমাকে কুরে কুরে খাচ্ছে। মনে ওয়াসওয়াসা দিচ্ছে প্রতিনিয়ত শয়তান।
সব দিক থেকে জিনার উপকরণগুলো উন্মুক্ত। আশ-পাশ সবটা জুড়ে ; ছড়িয়ে ছিটিয়ে অশ্লীলতা, আর বেহায়াপনায় লিপ্ত হাজারও মানুষ।
অবৈধভাবে খুঁজে নিচ্ছে ভালোবাসার সুখ।

ওগো মহান মালিক!
আমার মন জুড়ে যে তোমার ভয়! আমি যে অবৈধ সুখে তৃপ্ত হতে চাই না৷ আমি যে মন ভরে ভালোবাসতে চাই আমার জীবনসঙ্গীকে। আমি তো জানি না সে কোথায়, কিন্তু তোমার দৃষ্টিসীমার বাহিরে তো সে লুকানোর সুযোগ নাই।
আমি তাকে খুঁজতে গেলে হয়তো পাপে জড়াবো, ভুলে হারাবে, তোমার রহমত চাদর থেকে দূরে সরে যাব।

হে মহান মালিক!
তাকে মিলিয়ে দাও। আমায় তৃপ্ত করো। ফেতনার সময় সকল পাপ থেকে মুক্ত রাখো। ধৈর্য বাড়িয়ে দাও। তাকে আমার কাছে পৌঁছে দাও।

আল্লাহ সকলেকে উত্তম জীবনসঙ্গী মিলিয়ে দিক।
ভালোবাসার পবিত্র বন্ধনে আবদ্ধ করে নিক।

বই—অপেক্ষার শেষ প্রহর
~আদিব সালেহ।

03/10/2025

তারা চক্রান্ত করেছিল, আর আল্লাহও পরিকল্পনা করেছিলেন। আর আল্লাহ সর্বোত্তম পরিকল্পনাকারী।”

সূরা আলে ইমরান (সূরা ৩), আয়াত ৫৪

03/10/2025

দুশ্চিন্তা ও পেরেশানি থেকে মুক্তির দু'আ!

اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنَ الْهَمِّ وَالْحَزَنِ، وَالْعَجْزِ وَالْكَسَلِ، وَالْبُخْلِ وَالْجُبْنِ، وَضَلَعِ الدَّيْنِ وَغَلَبَةِ الرِّجَالِ

“হে আল্লাহ! আমি দুশ্চিন্তা ও শোক থেকে, অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণের বোঝা ও মানুষের আধিপত্য থেকে আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।”
(সহিহ বুখারি: ২৮৯৩)

30/09/2025

১২ টা কাজ করবেন। জীবনের গতি ১৮০ ডিগ্রী ঘুরে যাবে ইনশাআল্লাহ।

১. সময়মত নামাজ আদায়।
২. প্রত্যেক নামাজের পর আয়াতুল কুরসী।
৩. সকাল-সন্ধ্যা ও ঘুমের আগে মাসনুন আমল।
৪. প্রতিদিন কিছু অংশ কুরআন তিলাওয়াত।
৫. ইশরাকের নামাজ।
৬. বিতরের নামাজ বাদ দেবেন না।
৭. জুমআর দিন সূরা কাহাফ।
৮. রাতের শেষাংশে আল্লাহর কাছে রোনাজারি করা।
৯. আযান ও ইকামতের মাঝে দুয়া করা।
১০. পিতামাতার আনুগত্য।
১১. সাদাকাহ করা।
১২. দরূদ পড়া।

আল্লাহ তায়ালা জীবনের উপর রহমত ও বরকতের বন্যা বইয়ে দেবেন ইনশাআল্লাহ।

~ উস্তাদ আম্মারুল হক হাফিঃ

26/09/2025

আবু হুরাইরা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
"যে ব্যক্তি জুমআর দিন গোসল করে এবং (তার স্ত্রীকে) গোসল করায়, এরপর আগে আগে জুমআর নামাজের জন্য যায় এবং ইমামের নিকটবর্তী হয়ে মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনে ও নিশ্চুপ থাকে—তার প্রতি কদমে এক বছরের নফল সিয়াম ও এক বছরের নফল সালাতের সাওয়াব লেখা হয়।"
[সুনানুত তিরমিযি : ৪৯৬]
সমকালীন প্রকাশন
সুন্দর জীবনের জন্য।

25/09/2025

কী দামী কথা!

“গুনাহ বা অপ্রয়োজনীয় কথা/কাজে লিপ্ত ব্যক্তি থেকে সর্বপ্রথম যে নিয়ামতকে তুলে নেওয়া হয়, সেটা হলো — সে আল্লাহর কাছে দুআ করার ইচ্ছা বা আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তাঁর কাছ থেকে কিছু চেয়ে নেওয়ার যোগ্যতা আর থাকে না।

সে মুসিবত/পেরেশানিতে হা হুতাশ করতে থাকে, সময় বা কাজে বরকত কমে যায়, সে অস্থির একটি সময় কাটায়। সুকুন বা প্রশান্তির নিয়ামত কমতে থাকে ধীরে ধীরে। রবের দিকে ফিরে আসার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সে এই ঘূর্ণিপাকেই ঘুরতে থাকে কেবল।….

ইগফিরলী, ইয়া রব॥

25/09/2025

“যে ব্যক্তি নিজেকে ভালোভাবে চিনতে পেরেছে, সে অন্যের দোষ-ত্রুটি বাদ দিয়ে নিজের সংশোধনে লেগে গেছে।”

-ইমাম ইবনুল-কাইয়্যিম রহঃ,
আল ফাওয়াইদ ৮০

Address

Gopalpur
Tangail
5282

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when NAFS নাফস posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to NAFS নাফস:

Share