29/11/2025
আজকে জামায়াতের সমাবেশে যে সিঁড়ি নিয়ে কন্ট্রোভার্সি হয়েছে সে বিষয়ে আমার প্লেইন এন্ড সিম্পল একান্ত ব্যক্তিগত মতামত হচ্ছে, সেখানে কোন ভুল হয় নি। একেবারেই না। কারণ, লাল সবুজ রং সিমিলার হলেই সেটা পতাকা হয়ে যায় না। তাহলে তো জবা ফুল আমাদের জাতীয় ফুল হবার কথা, তরমুজ জাতীয় ফল এবং টিয়া জাতীয় পাখি। তরমুজ কেটে কামড়ায় খাওয়া আর জবা ফুল ছিড়ে পুজা করা নিষিদ্ধ হতো। তাই না?
তারপরেও যদি কেউ সত্যিই মনে করেন যে, এটা সামাজিক একটা রীতির মধ্যে পড়ে যে আমাদের দেশের কেউ পায়ের নিচে লাল সবুজের কম্বিনেশনে কিছু করে না, তাহলে সেটার প্রতি সম্মান রাখাটা খুবই বেসিক নর্মের অংশ হওয়া উচিত।
কিন্তু সেটাও সত্যি নয়। বর্তমানে ডক্টর ইউনুস থেকে শুরু করে আওয়ামিলীগ, বিএনপি, আইনজীবি, সামরিক বাহিনী, বিজিবি সহ বহু সরকারি, আধাসরকারি, বেসরকারি, প্রাইভেট অর্গানাইজেশন একই থিমে কাজ করার ভুড়ি ভুড়ি প্রমাণ আপনি নিজেই একটু ঘাটলে পেয়ে যাবেন এবং আমার কাছেও অনেক আছে।
তাহলে ঘটনাটা কি? জামায়াত এমন কিছু করলেই কেন এত হইচই? হ্যা, এটাকেই বলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ব্যবসা। এই ব্যবসায় জামায়াত প্রতিপক্ষের একটা ক্যাপিটাল। জামায়াত নামক ক্যাপিটাল ইনভেস্ট করে তারা কখনো ভোট আদায় করে, কখনো আর্থিক সুবিধা নেয়, কখনো আবার জঘন্য তাদেরই করা ক্রাইমের শাস্তি রিডিম করে।
অথচ এই মুক্তিযুদ্ধ নামক লাভজনক ব্যবসার ইন্ডাস্ট্রি গুড়িয়ে দিতেই জুলাই বিপ্লব হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধকে তার সঠিক সম্মানের জায়গায় অধিষ্ঠিত করে আমাদের সবার একসাথে দেশ গড়ার কথা ছিল। অথচ জুলাইয়ের পরাজিত ফ্যাসিস্ট দল পালিয়ে গেলেও ফ্যাসিস্ট এনার্জি পলিটিক্যাল ইকোসিস্টেমে রেখে গেছে। আনফরচুনেটলি এখন সেই এনার্জি বহন করছে বিএনপি। তাই তারা অযৌক্তিক ভাবে এই কন্ট্রোভার্সি তৈরি করেছে। কিন্তু তাতে লাভ হয় নি। কেননা এই একই কাজ তারা বহুবার করেছে। অনেকবার।
শেষ কথাঃ যদিও মূল অনুষ্ঠান শুরু হবার অনেক পূর্বেই ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট টিম জামায়াতের ইন্সট্রাকশন অনুযায়ী লাল গালিচা বদলে সবুজ গালিচা দিয়ে দেয়, তথাপিও আমি মনে করি যে, ভুল না করেও ডিফেন্সিভ খেলাটা জামায়াতের জন্য এখন আর রিলেভেন্ট নয়। এভাবেই মুক্তিযুদ্ধ নামক ব্যবসা ইন্ডাস্ট্রি বেঁচে যাবে আর সত্যিকারের দেশপ্রেমিকেরা ট্রায়ালের শিকার হবে।
©