31/03/2025
ড. ইউনুস: এক অদ্ভুত মানুষ!
ড. ইউনুস আস্তে আস্তে স্টেটসম্যান হয়ে যাচ্ছেন। হাঁটছেন ধীর গতিতে, হিসেব কষে। তবে গন্তব্য? নিশ্চিত।
এমন নয় যে, তিনি ইতিমধ্যেই আকাশ ছুঁয়ে ফেলেছেন। কিন্তু রাজনীতিতে আসল ব্যাপারটা হচ্ছে মানুষের ধারণা। বাস্তবতা তার ধারে-কাছে নেই।
মার্চ মাসের রেমিট্যান্সের দিকে তাকান। ৩ বিলিয়ন ডলার। মানে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা! ঈদের কারণে রেমিট্যান্স কিছুটা বাড়বে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এভাবে হঠাৎ লাফ দিয়ে আকাশে উঠে যাওয়া?
ডিমের দামও দেখুন। গত বছর কিনেছি ১৫ টাকা পিস, এবার কিনলাম ৮ টাকায়! অর্ধেক কমে গেছে! ছয় মাস আগেও কি ভাবতে পেরেছিলাম, এত কম দামে ডিম খাওয়া যাবে?
যারা অর্থনীতি বোঝেন, তারা জানেন, কোনো দেশের অর্থনীতির ভিত্তি হচ্ছে বিশ্বাস। জনগণের বিশ্বাস। ইউনুস সাহেবের প্রতি সেই বিশ্বাস বাড়ছে।
এর আগে আরেকজন মানুষ ছিলেন, যিনি নিখাদ দেশপ্রেম, সততা আর নিষ্ঠা নিয়ে দেশ চালিয়েছিলেন। জিয়াউর রহমান। কিন্তু দুর্ভাগ্য, সময়টা বেশি পাননি। ইউনুসও হয়তো পাবেন না।
জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ঢাকায় একটা বাড়ি কেনার চেষ্টা করেছিলেন। সাভারে একটা জায়গা পছন্দ হলো। বুকিং মানি দিলেন। কিন্তু পরপর দুটো কিস্তি মিস করলেন। জমি বিক্রি করে টাকা দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বিক্রি করতে পারলেন না। বুকিং বাতিল হলো। জরিমানা কেটে যা বাকি থাকে, তা ফেরত নিয়ে চলে গেলেন।
একজন রাষ্ট্রপ্রধান, যার মৃত্যুর পর স্ত্রী আর দুই ছেলের মাথা গোঁজার মতো একটা বাড়িও ছিল না!
জিয়া ছিলেন স্টেটসম্যান। কারণ তিনি নিজের জন্য কিছু করেননি। যা করেছেন, দেশ ও জনগণের জন্য।
ড. ইউনুসও নিজের জন্য কিছু করছেন না। তাকে সম্মানিত করার জন্য যা যা দরকার, পৃথিবী ইতিমধ্যেই তা করেছে। ফলে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করাটা তার জন্য সহজ।
এই প্রথম দেখলাম একজন নেতা, যিনি ক্ষমতা চান না। বরং বলছেন—ডিসেম্বর অথবা জুন, এরপর তাকে ধরেও রাখা যাবে না। বরং তার কথা না শুনলে তিনি আরও আগেই চলে যাবেন!
এটাই সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার। এই দেশে সবাই ক্ষমতায় থাকার জন্য যা যা করা দরকার, সব করে। আর একজন মানুষ চলে যেতে চাচ্ছে, আর আমরা মনে মনে ভাবছি—
“ইশ! লোকটাকে যদি আরও কিছুদিন রাখা যেত!”