27/07/2025
কক্সবাজার ঘুরছি। ফোনে চার্জ শেষ। ফোন চার্জ দেওয়ার দরকার কিন্তু আমি কোনো হোটেল ভাড়া নিইনি। কক্সবাজারে প্রচুর বাস কাউন্টার আছে। ভাবলাম কোনো এক কাউন্টারে গিয়ে ফোনটা চার্জ দিয়ে নিই। এক কাউন্টারে গিয়ে বললাম,
- ভাইয়া কিছু মনে না করলে ফোনটা একটু চার্জে দেওয়া যাবে?
ভদ্রলোক বললেন,
- না।
আমি বললাম,
- যদি একটু চার্জ দিতে দেন, অনেক উপকার হয়। প্রয়োজন হলে টাকা দিব ভাইয়া। সমস্যা নেই।
ভদ্রলোক জিজ্ঞেস করলেন,
- কত টাকা দিতে পারবেন? কত টাকার মালিক হইছেন? টাকার গরম দেখাইতেছেন!
আমি ভীষন অবাক হলাম। সে এইভাবে রেগে গেলো কেন! আমি বললাম,
- অনেক টাকার মালিক হলে তো ফোনে চার্জ শেষ হলে নতুন ফোন কিনে নিতাম। আপনার কাছে তো হেল্প চাইতাম না।
- আপনাকে আমি হেল্প করার জন্য বসে নেই। অন্য কোথাও দেখেন।
বের হয়ে আসলাম কাউন্টারটি থেকে। ভাবছি, যেমনেই হোক ফোন তো চার্জে দিতেই হবে। মনে মনে একটা ব্যাকআপ প্ল্যান তৈরি করলাম তারপরে গেলাম অন্য একটি কাউন্টারে। জিজ্ঞেস করলাম,
- ভাইয়া ঢাকার বাস কয়টায়?
- রাত ১০.৩০ টায় আছে একটা। আর রাত ১১.৪৫ এ আছে একটা। কোনটায় যাবেন?
- ভাড়া কত?
- স্লিপার কোচ ১৫০০টাকা।
- আচ্ছা। আমরা ৩ জন ফ্রেন্ড এসেছি। বাকি ২ জন বীচে ঘুরাঘুরি করছে। ওরা আসুক তারপরে ওদের সাথে কথা বলে কনফার্ম করবো।
- আচ্ছা ঠিক আছে।
- আমি কি এইখানে ওয়েট করতে পারি ভাইয়া?
- হ্যাঁ অব্যশই।
আমি বসলাম। তারপরে জিজ্ঞেস করলাম,
- ফোন চার্জে দেওয়ার কি কোনো ব্যবস্থা আছে ভাইয়া?
- হ্যাঁ। প্লাগ আছে তো। চার্জে দিন।
ফোনে চার্জে দিলাম। আমার ফোনে ফাস্ট চার্জিং হয়। ২৫ মিনিটেই প্রায় ফুল চার্জ হয়ে গেলো। এরপরে চার্জার ব্যাগে ঢুকিয়ে রাখলাম। কিছুক্ষণ পরে ব্যাগ কাঁধে ঝুলিয়ে ফোন কানে নিয়ে বললাম,
- কিরে ভাই! কই তোরা? আধাঘন্টা হইয়া গেলো এখনও কোনো খোঁজ নাই। আমি আছি হচ্ছে সেন্টমার্টিন বাস কাউন্টারে। আমরা যেই রাস্তা দিয়ে বের হলাম না, ঐটার বাম সাইডে। আচ্ছা তোরা সামনের দিকে আগাইতে থাক। আমি আইতাছি।
বের হয়ে গেলাম কাউন্টার থেকে।
ভদ্রভাবে হেল্প চাইলে কেউ হেল্প করতে না চাইলে কী আর করার!
ফোন চার্জ
©️ অংকুর রায় অনিক
এমন বিড়ম্বনায় পড়তে না চাইলে বাজারের সেরা পাওয়ার ব্যাংক কিনুন আমাদের কাছ থেকে😍