18/04/2021
আমাদের দেশের সবচেয়ে বেশি কম্পিউটার ইউজার দের ব্যবহৃত অপারেটিং সিস্টেম হল উইন্ডোজ। আর তাদের মধ্যে সবচেয়ে কমন সমস্যা হচ্ছে পিসি স্লো। চলুন আজকে আলোচনা করা যাক পিসি স্লো এর নাড়িভুঁড়ি নিয়ে।
মানুষের যেমন হাত-পা, চোখ, নাক-কান, আত্মা এবং ব্রেন থাকে ঠিক কম্পিউটারেরও কিবোর্ড, মাউস, মনিটর, অপারেটিং সিস্টেম এবং সফটওয়্যার থাকে।
ধরুন, একটি পাঁচতলা বিল্ডিং এ কাজ চলছে সেখানে ইট উঠাতে হবে। এই কাজে দুই জন লোককে নিয়োগ করা হলো। একজন মানুষ স্বাস্থবান, গায়ে অনেক শক্তি, কিন্তু তিনি অনেক বোকা। অন্যদিকে আরেকজন আমার মত হ্যাংলা কিন্তু অত্যন্ত বিচক্ষণ ও বুদ্ধির অধিকারী। আপনার কি মনে হয় এখানে কে সবচেয়ে ভালো মত এবং দ্রুত ইট উঠাতে পারবে?
আমার উত্তর কেউই না। একজনের গায়ে প্রচুর শক্তি থাকলেও সে বোকা, দেখা গেল সে এক পিস এক পিস করে ইট উঠানো শুরু করছে। আবার মাঝ পথে গিয়ে কয়েকটা ইট ফেলে দিয়ে ভেঙে ফেলছে। অন্যদিকে হ্যাংলা লোকটা বুদ্ধির জোরে একসাথে অনেকগুলা এইট কাধে ঝুলিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা করা সত্ত্বেও গায়ের শক্তির অভাবে ওঠাতে পারে নাই ।দিনশেষে এই দুইটা ক্ষেত্রেই কেউই পরিপূর্ণ না।
ঠিক তেমনই কম্পিউটারের ক্ষেত্রেও হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যার এর সঠিক সমন্বয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, আমাদের দেশে ম্যাক্সিমাম ইউজাররাই উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ইউজ করেন। উইন্ডোজ যেহেতু বুট ডিভাইস হিসেবে এসএসডিডি রিকমেন্ড। করে আর এদিকে আপনার যদি পিসিতে এসএসডি না থাকে, হার্ডড্রাইভের উপরে স্টোরেজ এবং বুটআপ দুইটা কাজেরই দায়িত্ব চাপানো থাকে থাকে তাহলে কি হবে বুঝতেই পারছেন।
আমাদের মধ্যে অনেক বড় একটি ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে যে, কোর আই কত, যত বেশি কোর আই তত ভালো পিসি, ততো ভালো পারফরম্যান্স। মানে ইন্টেল কোর আই থ্রি এর থেকে ইন্টেল কোর আই সেভেন অনেক বেশি পাওয়ারফুল। আর আমাদের এই ভ্রান্ত ধারণা টি থেকে ফায়দা লুটে নিচ্ছে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নাম্বার গেমের মাধ্যমে। সুন্দর মত ফোর্থ জেনারেশনের কোর আই সেভেন প্রসেসর চালিয়ে দিচ্ছে কোর আই থ্রি টেন অথবা ইলেভেন জেনারেশনের প্রসেসর এর বদলে।
চলুন কথা বলি র্যাম নিয়ে, এখানেও বড় একটা ভুল ধারণা আমাদের মধ্যে আছে। "পিসি স্লো তাহলে র্যাম বাড়িয়ে দেন ফাস্ট হয়ে যাবে"। র্যাম হচ্ছে র্যানডম এক্সেস মেমোরি যা কিনা সাময়িকভাবে একটা নির্দিষ্ট ডেটাকে র্যানডমলি প্রসেসরকে অ্যাক্সেস করতে দেয়। এখন র্যাম যতই বেশি হোক না কেনো এদিকে প্রসেসর যদি দুর্বল হয় অথবা এসএসডি না থাকে সেক্ষেত্রে সচিন টেন্ডুলকার যেমন একা একা ম্যাচ জেতাতে পারেন নাই, র্যামও শুধু একা একা পিসিকে ফাস্ট করতে পারবে না।
পিএসইউ বা পাওয়ার সাপ্লাই ইউনিট।
আমাদের যেমন শরীরের শক্তি জোগানোর জন্য খাবারের প্রয়োজন হয়, কম্পিউটারের সেরকম শক্তির জন্য পাওয়ার সাপ্লাই ইউজ করা হয়। দেহের অধিকারী শক্তিশালী মানুষকে যদি আপনি একটা রুটি আর একটা কলা খেতে দেন তাহলে সে যেমন অসুস্থ হয়ে পড়বে অন্যদিকে হ্যালালেলা টাইপের মানুষটির জন্য হাজীর বিরিয়ানি, কাচ্চি, তেহারি হরেক রকমের ডেজার্ট আইটেম নিয়মিত খেতে দেন তার কিন্তু বদহজম হবেই। বুঝতেই পারছেন অবশ্যই পাওয়ার সাপ্লাই টাও যথাযথ হওয়া উচিত।
এবার কথা বলা যাক সফটওয়্যার জনিত বিষয়গুলো নিয়ে। আমাদের সেই প্রথম শক্তিশালী মানুষ টির কথা মনে আছে? হ্যাঁ তার বুদ্ধি কম ছিল, তাকে যদি এখন বুদ্ধি বাড়িয়ে দেওয়া হয় এবং শুধু ইট উঠানোর কাজের জায়গায় একসাথে খোয়া ভাঙ্গা, সিমেন্ট বালি খোয়া দিয়ে মিক্স করা, ঢালাই দেওয়া, ইটভাটা থেকে নিজে গাড়ি চালিয়ে ইট নিয়ে আসা, গাড়ি আনলোড করার কাজ দেয়া হয় তাহলে তার কেমন অবস্থা হবে সেটা হয়তো আমাকে বলে দিতে হবে না। আর কাজের সময় যদি তার শুধু একটা টি শার্ট একটা প্যান্ট এর জায়গায় টি শার্ট প্যান্ট সোয়েটার কোট টাই টুপি সানগ্লাস সবকিছু পরিয়ে দেয়া হয় তাহলে কি হবে একটু কল্পনা করে দেখুন।
আমাদের পার্সোনাল কম্পিউটার ও এই উদাহরণটির বাইরে না। যত পাওয়ারফুল কম্পিউটারই হোক না কেনো, সৌরজগতের যাবতীয় অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার ইনস্টল, স্টার্টআপে গাদা গাদা অ্যাপস রান করে রাখা। সাথে ফ্রি হিসেবে ব্যাকগ্রাউন্ডে উইন্ডোজ আপডেট চলতে থাকা। এর পরও কি আপনি জিনের বাদশার মত হলফ করে বলতে পারবেন আপনার পিসি সুপার ফাস্ট থাকবে? দিনশেষে আপনার কম্পিউটারের দেখাশোনা আপনাকেই করতে হবে। ঠিক যেমন আপনার গার্লফ্রেন্ড অথবা ওয়াইফের দিকে রাখেন।
আজাইরা অনেক বেশি পকপক করে ফেললাম। আজকের মত এখানেই সমাপ্ত, ধন্যবাদ।