19/04/2026
নিয়তের বরকত!
সাংসারিক খরচ যখন ইবাদত...
মানুষের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি কাজই অর্থবহ হতে পারে যদি তার পেছনে সঠিক উদ্দেশ্য বা 'নিয়ত' থাকে। আমরা পরিবার-পরিজনের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করি, অর্থ ব্যয় করি। কিন্তু এই ব্যয় কি কেবলই সামাজিক দায়িত্ব নাকি এর আত্মিক কোনো মূল্য আছে? একটি প্রচলিত লোকগল্প এবং রাসুলুল্লাহ (ছা.)-এর বাণীর আলোকে নিয়তের এই গুরুত্ব অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
একটি রূপক গল্প ও দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য!
📍এক ব্যক্তি প্রতিদিন হোটেল থেকে ছয়টি রুটি কিনতেন। একদিন কৌতূহলী দোকানদার এর কারণ জানতে চাইলে তিনি এক অদ্ভুত উত্তর দিলেন। তিনি বললেন,
📍দুইটি দিয়ে দেনা শোধ করি!
অর্থাৎ, বৃদ্ধ বাবা-মাকে খাওয়ানো। শৈশবে তারা আমাকে খাইয়ে বড় করেছেন, আজ তা শোধ করার পালা।
📍দুইটি ধার দিই! অর্থাৎ, সন্তানদের খাওয়ানো। আশা করা যায়, তারা বড় হয়ে ভবিষ্যতে বাবার দেখাশোনা করবে।
📍একটি ফেলে দিই! এটি তিনি পরিহাস করে স্ত্রীকে খাওয়ানোকে বুঝিয়েছেন। কারণ স্ত্রীর পেছনে খরচ করলে তা থেকে সরাসরি কোনো প্রতিদান বা 'ফেরত' পাওয়ার পার্থিব আশা থাকে না।
📍বাকি একটি নিজে খাই।
এই গল্পটি আমাদের সমাজের একটি প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গিকে ফুটিয়ে তোলে, যেখানে পারিবারিক ব্যয়কে কেবল একটি পার্থিব লেনদেন বা দায়িত্ব হিসেবে দেখা হয়।
কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে পারিবারিক ব্যয়
সাধারণ আমল আর আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা আমলের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য রয়েছে। ইসলাম আমাদের শিখিয়েছে যে, পরিবার-পরিজনের জন্য ব্যয় করা কেবল সামাজিক দায়িত্ব নয়, বরং এটি একটি মহান ইবাদত।
আবু মাস’ঊদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (ছা.) বলেছেন,
“নিসন্দেহে কোনো মুসলিম যখন সওয়াবের আশায় তার পরিবারের জন্য খরচ করে, তা তার জন্য ছাদাকা হিসেবে গণ্য হয়।”
📚সহীহ বুখারী হা/ ৫৫,
📚সহীহ মুসলিম হা/ ১০০২
অর্থাৎ, পকেটের টাকা সবারই খরচ হয়, কিন্তু যার নিয়ত সঠিক, তার সেই খরচটি নিছক ব্যয় না হয়ে ইবাদতে পরিণত হয়। নিয়ত যদি হয় আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য, তবে 'ফেলে দেওয়া' বা 'জলে যাওয়া' বলে কিছু থাকে না।
আমরা যখন বাজার থেকে মাছ, মাংস বা শাক-সবজি কিনি, সন্তানদের স্কুলের ফী দেই কিংবা অসুস্থ স্ত্রীর জন্য ওষুধ কিনি—তখন কি আমাদের মনে এই অনুভূতি থাকে যে আমি একটি ইবাদত করছি? অধিকাংশ সময় আমরা এগুলোকে কেবলই 'সংসার চালানো' মনে করি।
কিন্তু আজ থেকে আমরা আমাদের চিন্তাধারা পরিবর্তন করতে পারি। কেনাকাটা বা ব্যয়ের সময় আমরা মনে মনে বা অস্ফুট স্বরে আল্লাহকে বলতে পারি—
“হে আল্লাহ, এই খরচ আমি কেবল তোমার সন্তুষ্টির জন্য এবং তোমার নির্দেশ পালনের জন্য করছি, তুমি এটি কবুল করো।”
কুরআনুল কারীমে আল্লাহ তাআলা নেককার বান্দাদের গুণাবলী বর্ণনা করতে গিয়ে বলেছেন,
“আমরা কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই তোমাদের খাওয়াই; তোমাদের থেকে না আমরা কোনো প্রতিদান চাই, না কোনো কৃতজ্ঞতা।”
(সূরা ইনসান, আয়াত ০৯)
জীবনের যাতা কলে পড়ে আমাদের অনেক কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় হয়ে যায়। এই ব্যয়কে আমরা যদি সঠিক নিয়তের মাধ্যমে পরকালের পাথেয় হিসেবে জমা করতে পারি, তবেই আমাদের পরিশ্রম সার্থক হবে।
আসুন, আজ থেকেই আমরা সংকল্প করি যে, পরিবারের পেছনে করা আমাদের প্রতিটি খরচ হবে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। এতে একদিকে যেমন সংসারে বরকত আসবে, অন্যদিকে প্রতিটি টাকা ব্যয় করার বিনিময়ে মহান আল্লাহর দরবারে ছাদাকার সওয়াব লেখা হবে ইনশা-আল্লাহ
সাগর হারুন রশিদ সালাফী
আমার এই লেখা সবার জন্য নয়, যাঁরা বিবেচনাবোধ সম্পন্ন, সঠিক জ্ঞান অন্বেষণকারী - ভদ্র ব্যক্তিত্ব জন্য।
©
আপনি চাইলে আমাদের মাধ্যমে আপনার স্ত্রীর জন্য ছবির এই প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো কিনে দিতে পারেন।
সওয়াবের নিয়তে।
যতোদিন চলবে এই জিনিস গুলো,যতো দিন আপনার স্ত্রীর কাজকে সহজ করবে।
ততোদিন সওয়াব পেতে থাকবেন।
ভালো না?
ভালোইতো তায় না 😃