29/03/2020
করোনা প্রতিরোধে ইসলামী ব্যবস্থা,
ভ্রমণকাল এবং মৃত্যুপরবর্তী-কালে মহামারীর ব্যবস্থা!!
বিজ্ঞান,
বিজ্ঞান ছাড়া বর্তমান সময়ে কোন কিছুই না গ্রহণীয় আর না বরণীয়।
বিশ্বাসীদের বিষয়টি ভিন্ন, কিন্তু অবিশ্বাসীদের??
সারাবিশ্বের বিশেষজ্ঞ, ডাক্তার-বিজ্ঞানী এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠিত সকল সংস্থাগুলো একযোগে একই পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন,
*ভালোভাবে হাত ধৌতকরণ, নাক-মুখ ধৌতকরণ।*
কারন, ভাইরাসগুলো সবচেয়ে বেশী সংস্পর্শে আসে হাত-মুখের মধ্যদিয়ে।
তাই ভাইরাস যদি সংস্পর্শে আসে, তাহলে ধৌতকরণের মধ্যদিয়ে তা ধুয়ে যাবে।।
কিন্তু, এর সাথে ইসলামিক ব্যবস্থার গুরুত্ব কি?
শুধু করোনা কেন, যেকোন মহামারী সংক্রমণ প্রতিরোধে ইসলামী ব্যবস্থার গুরুত্ব অসীম।
কুর'আন-ই হচ্ছে আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের মূল-মন্ত্র।।
ইসলাম ধর্মে মুসলমানদের জন্য সালাত (নামায) বাধ্যতামূলক। এটি ফরজ। সালাত ছাড়া একজন মানুষের জান্নাত নিষিদ্ধ।
আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন,
'দুর্ভোগ সেসব নামাজির জন্য, যারা নিজেদের নামাজের ব্যাপারে থাকে গাফেল।'
(সূরা মাউন, আয়াত-৪-৫)।
অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন,
'সেদিন অপরাধীদের সম্পর্কে পরস্পরে জিজ্ঞাসা করবে যে, কিসে তোমাদের জাহান্নামে ঠেলে দিয়েছে?
তারা বলবে, আমরা নামায পরতাম না'।
(সূরা মুদ্দাসসির, আয়াত-৪২-৪৩)।
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন,
সবকিছুর মূল হল ইসলাম, আর ইসলামের খুঁটি সালাত।
[তিরমিযি : ৩৫৪১]
তিনি আরও বলেন,
"বিচারের দিন সর্বপ্রথম বান্দার সালাতের হিসাব হবে। যদি সালাত ঠিক হয় তবে তার সকল আমল সঠিক বিবেচিত হবে। আর যদি সালাত বিনষ্ট হয় তবে তার সকল আমলই বিনষ্ট বিবেচিত হবে।
[তিরমিযি:২৭৮]
অন্য হাদিসে তিনি বলেন,
“নিশ্চয়ই মুসলিম আর মুশরিক-কাফেরের মাঝে পার্থক্য হল সালাত পরিত্যাগ করা।
(সহীহ্ মুসলিম, ২৫৬, ২৫৭)
তাছাড়া তিনি আরও বলেন,
"আর মনে রাখবে তোমাদের সর্বোত্তম আমল হল সালাত, একজন মুমিন অবশ্যই সর্বদা ওযুর সংরক্ষণ করতে থাকে।”
(ইবনে মাজাহ:২৭৩)
এতগুরুত্বপূর্ন সালাত সম্পাদন করতে
এর প্রধান শর্ত "ওযু করা" বা পবিত্র হওয়া বা পবিত্রতা অর্জন করা।।
ওযু বা পবিত্রতা ছাড়া সালাত হবে না,
আল্লাহ পবিত্র কুরআনে কিভাবে ওযু করতে হয় তা সম্পুর্ণ বিস্তারিত বলে দিয়েছেন সূরা মায়িদা-র '৬ নং আয়াতে।
আল্লাহ আরও বলেন,
“নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা তওবাকারীদের এবং পবিত্র অর্জন কারীদেরকে ভালবাসেন।”
(সূরা বাকারাঃ ২২২)
রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন,
"আল্লাহ তায়ালা ওযু/পবিত্র ব্যতীত নামাজ কবুল করেন না। এবং অবৈধ সম্পদের সাদকাও কবুল করেবেন না।’
(সুনানে নাসাঈ, হাদিস নং ০৬)
আর সালাতের পূর্বে এই ওযু'র বিষয়ে চিকিৎসা বিজ্ঞান কত হাজার উপকারিতা বলেছেন, তা আপনারা নিজেরাই দেখে নিয়েন।
বিজ্ঞান শুধু গরদানা ধুয়ার বিষয়েই বলছে, এটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য মহাঔষুধ।
মুসলমানদের শুধুমাত্র প্রত্যহ ৫ বার নামাযের পূর্বেই ওযুর মাধ্যমে হাত ধুয়া পরে "১৫০ বার"।
**আল্লাহু আকবর**
১/ প্রতিবার ওযু'র সময় ২ হাতের কবজি পর্যন্ত ধুয়া পড়ে ৩ বার,
তাহলে, ২ হাত × ৩ বার= ৬ বার
এতএত, প্রতিদিন ৫ বারে হাতের কবজি পর্যন্ত ধুয়া পড়ে, ৫×৬= ৩০ বার
২/ গড়গড়া সহ কুলি করা হয়, ৩ বার × প্রত্যহ ৫ বার = ১৫ বার
৩/ নাসারন্ধ্র বা নাক ধুয়া ৩×৫=১৫ বার প্রতিদিন
৪/ চোখে-মুখে সমস্ত মুখমণ্ডল ধুয়া ৩×৫=১৫ বার প্রতিদিন
৫/ কনুই পর্যন্ত ২ হাত ধুয়া ৬×৫=৩০ বার প্রতিদিন
৬/ চুল, মাথা, কান, ঘাড় ও গলা সহ মাসেহ করা ৩×৫=১৫ বার প্রতিদিন
৭/ টাখনু পর্যন্ত ২ পা ধৌতকরা ৬×৫=৩০ বার প্রতিদিন
**আল্লাহু আকবার**
এখন যদি আপনাদের কে জিজ্ঞেস করি, আপনি আপনার অঙ্গপতঙ্গ গুলো কিভাবে ধুয়েছেন?
নিশ্চয়ই আপনার ২ হাত দিয়েই ধুয়েছেন।
তাহলে প্রত্যহ ৫ বার ২ হাত ধুয়ার সাথে সাথে, বাকি সমস্ত অঙ্গপতঙ্গ গুলো ধুইতে-ও আমাদের ২ হাত ব্যবহার হচ্ছে!!!
এতএত, ৩০+১৫+১৫+১৫+৩০+১৫+৩০=১৫০ বার
প্রতিদিন ৫ বার ওযুর সময় আমাদের
হাত ধুয়া-ই পড়ে ১৫০ বার।।
**আল্লাহু আকবার**
এরচেয়ে বড় চিকিৎসা বিজ্ঞান আর কি হতে পারে?
এজন্যই বলেছিলাম,
করোনা প্রতিরোধে ইসলামী ব্যবস্থা, আর
দুনিয়ার ভ্রমণকালে এবং সালাতে আল্লাহ কে সিজদা দেওয়ার বিনিময়ে তিনি আল্লাহ মৃত্যুপরবর্তী-কালে আমাদের কিভাবে নিরাপদ করে নিবেন,
তা তিনি পবিত্র কুরআনে বহু জায়গায় নিজেই বলে দিয়েছেন।।
এজন্য আসুন আমরা সালাতের প্রসার বাড়াই।।
ইসলাম ও কুরআন চিন্তাশীলদের জন্য সর্বোচ্চ নিদর্শন, যদি চিন্তাশীলরা গভীর ভাবে চিন্তা করে।
আল্লাহ পবিত্র কুরআন-এ বিভিন্ন আয়াতে "তারা কি চিন্তা করে না" (أَفَلَا يَتَفَكَّرُوْنَ),‘তারা কি গবেষণা করে না’ (أَفَلَا يَتَدَبَّرُوْنَ), "চিন্তাশীলরা কেন চিন্তা করে না?", "তোমরা কি বোঝ না’ (أَفَلَا تَعْقِلُوْنَ),‘তারা কি লক্ষ্য করে না’ ( أَلَمْ يَرَوْا),‘তারা কি (সৃষ্টি প্রক্রিয়া) অবলোকন করে না’ (أَفَلَا يَنْظُرُوْنَ) এমন বাক্য ব্যবহার করে মানুষকে বিবেক-বুদ্ধি ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে।
আবার কুরআনের বিভিন্ন স্থানে বলা হয়েছে, ‘এতে নিদর্শন রয়েছে চিন্তাশীল জ্ঞানবান জাতির জন্য’ (لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يَّعْقِلُوْنَ) অথবা ‘অনুধাবনকারী সম্প্রদায়ের জন্য আমি নিদর্শনসমূহ ব্যক্ত করেছি" (فَصَّلْنَا الآيَاتِ لِّقَوْمٍ يَّفْقَهُوْنَ)।
আসুন, এই মহামারী সংক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকতে আমরা বেশী করে সালাতের প্রসার বাড়াই,
ওযুর প্রসার বাড়াই।।
একটি আয়াত দিয়ে শেষ করবো,
আল্লাহ পবিত্র কুরআনে বলেন,
"নিশ্চয়ই আকাশগুলো এবং পৃথিবীর সৃষ্টিতে, এবং
দিন ও রাতের আবর্তনে চিন্তাশীল মানুষদের জন্য বিরাট নিদর্শন রয়েছে।
[আল-ইমরান, ১৯০]