21/06/2026
ফেসবুকে হঠাৎ একটা ভাইরাল নিউজ চোখে পড়ল ফাহাদের। অনার্স শেষ করার আগেই এক তরুণ ল্যাপটপ দিয়ে ঘরে বসেই মাসে লক্ষাধিক টাকা আয় করছে।
ফাহাদ মনে মনে ভাবল, “আমি তো ওর চেয়ে কম মেধাবী না। আমার ফ্যামিলি সাপোর্টও ভালো। ও পারলে আমি কেন পারব না?”
এই চিন্তা মাথায় নিয়েই সে বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপের কাজের পোস্টে গিয়ে কমেন্ট করা শুরু করল— "ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ আছে কি?"
কয়েকদিন পর এলাকার এক বড় ভাইয়ের সাথে ফাহাদের দেখা। সেই বড় ভাই একটি ভালো জব করেন। ২০ বছরের বেশি সময় যাবত তিনি কর্পোরেট সেক্টরে আছেন। একজন সফল ক্যারিয়ার হোল্ডার বলা যায়। ফাহাদ তার সাথে জব মার্কেট নিয়ে কথা শুরু করল। এক পর্যায় ভাইরাল নিউজটার কথাও তুলল।
তিনি তখন ফাহাদকে জিজ্ঞেস করলেন, “ফাহাদ, তুমি তো ঘরে বসে কাজ করতে চাও, কিন্তু তোমার স্কিল কতটা অ্যাডভান্স? কোনো টিম ছাড়া একা কি পারফেক্ট কিছু প্রোডিউস করতে পারো? সেই এক্সপিরিয়েন্স তোমার কেমন আছে? বা নিজে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো অভিজ্ঞতা কেমন?” ফাহাদ উত্তর খুঁজে পেল না।
আসলে ফাহাদের এই চিত্রটা খুব কমন বর্তমান যুব সমাজে। এআই এর যুগে ক্রমশ একটা বিপজ্জনক অলসতায় ঢুকে যাচ্ছে মানুষ। চ্যাটজিপিটি দিয়ে একটা কন্টেন্ট লিখিয়ে আর ক্যানভা দিয়ে একটা সাধারণ ডিজাইন করেই অনেকে ভাবছেন, আমি তো প্রফেশনাল! কিন্তু ভাই, টুল জানা আর স্কিল থাকা—এই দুটো কখনোই এক জিনিস না।
টেক দুনিয়ার কিংবদন্তি বিল গেটস একবার বলেছিলেন:
"কম্পিউটার বা যেকোনো টুল আসলে একটা অসাধারণ হাতিয়ার, যা মানুষকে একসাথে কাজ করতে এবং তাদের ক্রিয়েটিভিটি ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করে। কিন্তু তরুণরা যদি নিজে নিজে কাজ করার এবং কমপ্লেক্স প্রবলেম সলভ করার মূল স্কিলটাই না শেখে, তবে দুনিয়ার কোনো টুলই তাদের সাহায্য করতে পারবে না।"
মিডিয়াতে যে ফ্রিল্যান্সারদের সফলতার গল্প ভাইরাল হয়, সেখানে শুধু ইনকামের চকচকে ডিজিটটুকুই দেখানো হয়। ক্যামেরার সামনে হাসিমুখ আর দামী ল্যাপটপ দেখে আমরা উদ্বেলিত হই। কিন্তু পর্দার পেছনের গল্পটা কেউ শুনি না।
কেউ বলে না সেই অন্ধকার রাতগুলোর কথা, যখন একের পর এক ক্লায়েন্ট রিজেক্ট করেছে। কেউ বলে না সেই মাসগুলোর কথা, যখন ইনকাম ছিল শূন্য, কিন্তু পরিশ্রম ছিল সর্বোচ্চ পর্যায়। চোখের নিচে কালি আর বুকভরা হতাশা নিয়ে বারবার লড়ে আজকের জায়গায় এসেছেন তারা। আসলে এই গল্পে ভাইরাল হওয়ার মশলা নেই বলে মিডিয়াও তা দেখায় না।