15/05/2022
বর্তমানে একটা বিষয় বেশ লক্ষ করছি । একদল লোক প্রচার করছে দেশ নাকি শ্রীলংকা হয়ে যাচ্ছে !!!!
দেশ ধংশ হয়ে যাচ্ছে দেশ গোল্লায় চলে যাচ্ছে ইত্যাদি ।
আসলে বাস্তবতা কি ?
প্রকৃত পক্ষে দেশ কোথায় আছে, কেমন আছে?
আমি এ দেশের একজন নাগরিক, তেমনি প্রতিটি মানুষ এদেশের নাগরিক ।
সকল নাগরিক মিলেই একটি দেশ সংঘটিত হয়।
এখানে কেউ যদি হায় হায় করে, সব কাজ কর্ম ফেলে হতাশায় নিমজ্জ হয় তবে আমার মতে ক্ষতিগ্রস্থ সেই বেশি হবে। অন্য কেউ ক্ষতিগ্রস্থ হবেনা।
দেশ কি হলো না হলো সেটি নির্ভর করে অনেকাংশে আমার উপরও দেশ যেন ভালো থাকে সেটি নিশ্চিত করা কিন্তু আমারও দায়িত্ব ।
কিন্তু কিছু মানুষ আছে অকর্মা ভাদাইম্মা, তারা আসলে সব সময় চায় দেশে একটি সমস্যা সৃষ্টি হোক দেশ ধংশ হয়ে যাক মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হোক । তারাই মুলত এসব প্রচার করে বেড়ায়।
দেশ পরিচালনা করে সরকার দেশের কিছু হলে সেটির ভালো মন্দ সরকার বুঝবে আমরা এ নিয়ে এত মাতামাতি কেন করব ।
আমরা আমাদের নিয়মিত কাজ কর্ম ঠিক রাখব আমাদের নিজেদের অবস্থান ঠিক রাখার চেষ্টা করব যাতে করে আমি বা আমরা ক্ষতিগ্রস্থ না হই তাহলেই তো দেশ ক্ষতিগ্রস্থ হবেনা।
কর্মঠ লোকের কোনদিনও ভাতের অভাব হয়না, তারা কোনদিনও অভাবে পড়েনা ।
অকর্মা লোকরাই হলো পরিবারের জন্য দেশের জন্য, জাতির জন্য সর্বনাশের কারন । আর সেটিই আমাদের দেশ সবচেয়ে বেশি । যার ফলে একটি মিথ্যা কথা খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষ অস্থির হয়ে পড়ে ।
কিন্তু সত্য কথা সঠিক তথ্য প্রচার করা বেশ কঠিন । সেটি প্রকাশ করলেও কেউ পাত্তা দেয়না। যখন ভালো কিছু হয় তখনও কারও না কারও জন্য খারাপ কিছু হয় । যখন কারো চাকরি হয় তখনও কারো না কারো চাকরি চলে যায় । আসলে প্রকৃতিই এমন, নতুনকে অবস্থান ছেড়ে দিতে হয়।
নতুন করে বাড়ি বানাতে হলেও পুরনো বাড়ি ভাংঙ্গতে হয়, এখন পুরোনো বাড়ি ভাঙ্গা দেখে মুর্খরা বলে উঠে হায় হায় সব শেষ হয়ে গেল আমার বাড়ি ভেঙ্গে ফেলল। সমাজের বাস্তবতাও এমন ।
হ্যাঁ এটি সত্য যে বর্তমানে দেশের অর্থনীতি কিছুটা চাপে আছে ।
এটি আরো ৬ বছর আগেই অর্থনীতিবিদরা বলেছিলেন যে পদ্মাসেতু করতে গেল দেশের অর্থনীতির উপর কিছুটা চাপ পড়বে । এত বড় একটি প্রকল্প করতে গেলে দেশের উপর চাপ আসবে না সেটি কি করে ভাবে এদেশের জনগন ।
আল্লাহপাকের অশেষ মেহেরবানীতে সেটি সম্পন্ন হয়েছে । খুব শীগ্রই আমরা তার সুফল দেখতে পাব।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কতটা জ্ঞানী কতটা বিচক্ষন সেটি উনাকে সঠিকভাবে পর্যবেক্ষন না করলে কেউ বুঝবে না। কেবলমাত্র বিরোধীতার জন্যই বিরোধীরা বিরোধীতা করে, সব কিছু অস্বীকার করলে কি চলবে। আপনিই তো বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। আপনি ভুল দেখছেন। আপনার বিবেক মরে গেছে তাই আপনি বিবেক দিয়ে বিচার করতে পারছেন না।
প্রত্যেকটা সেক্টরে কাজ হচ্ছে ।
প্রচুর কাজ হচ্ছে কতটা কাজ হচ্ছে সেটি বুঝিয়ে বলা সম্ভব নয়।
দুর্নিতি হচ্ছে চুরি হচ্ছে, আবার কাজও হচ্ছে !!!!!!!
“চোরের কাজ চুরি করা, আর ভালো মানুষের কাজ ভালো কাজ করা”
অতএব চুরিও থাকবে ভালো কাজও থাকবে । সবাই বেঈমান হয়ে যায়নি, সবাই অন্ধ হয়ে যায়নি, সবাই খারাপ নয়, আপনি কোনটি দেখছেন সেটি আপনার মানসিকতা।
তারাই চরম অকৃতজ্ঞ জাতি, যাদেরকে অধিক দিলও কোন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেনা ।
তাদেরকে যদি আপনি স্বর্ণের বাড়ি বানিয়েও দেন তবুও তারা সেটির কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করে বলবে সেটি ভালো হয়নি।
আসলে কি বলবো এদেশের এসব অকৃতজ্ঞ মানুষদের নিয়ে জানিনা । আল্লাহ এদের হেদায়েত দান করুন এবং এদেরকে সঠিক বুঝ দান করেন ।
এরা যদি সঠিক পথে ফিরে না আসে তবে এদের ধংশ করেন এবং নুতন সঠিক বুঝদার নতুন জাতি গঠন করেন। যে জাতি দিনকে দিন রাতকে রাত এবং সত্যকে সত্য বলবে। কোন মোহে কোন স্বার্থে তারা কোন কিছু অস্বীকার করবে না।
ভিন্নমত থাকতেই পারে, সবার কাজ সবার পছন্দ নাও হতে পারে কিন্তু তাই বলে দিনের আলোর মত সত্যকে কিভাবে মানুষ অস্বীকার করে সেটি আমার বুঝে আসেনা। পদ্মা সেতুর মত এত বড় একটি সাফল্যকে মানুষ কি করে অস্বীকার করে। তারা তো আল্লাহ পাকের কাছে কোটি কোটি শুকরিয়া আদায় করা উচিৎ যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এত বড় একটি সাফল্য আমরা পেয়েছি। কত কোটি মানুষ এর সুফল ভোগ করবে । সেখানকার অর্থনীতির উপর এটি কতটা প্রভাব ফেলবে, মানুষের জীবনমান কতটা উন্নত হবে, সেটি কি একবার ভেবেছেন?
আমি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করি । আমি সঠিকভাবে বলতে পারব যে প্রযুক্তি কতটা এগিয়েছে । মানুষের ভোগান্তি আগে থেকে কতটা কমেছে।
যদি কৃতজ্ঞ হন তবে আপনি দেখতে পাবেন, যদি অকৃতজ্ঞ হন তবে আপনি তা কখনই দেখতে পাবেন না। সকল পরিশ্রমই আপনার কাছে ব্যর্থ, সকল সাফল্যই আপনার কাছে তুচ্ছ। কারন আপনি অকৃতজ্ঞ।
সরকারের অভ্যন্তরে একদল নিরলস পরিশ্রমী সৎ, নীতিবান, কর্মঠ লোক আছে যারা কোন বাড়তি বিনিময় ছাড়াই নামমাত্র বিনিময়ে জাতির জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন । হয়ত আপনি তাদের খবর রাখেন না। বা জানেন না।
কিন্তু জ্ঞানের পরিচয় পেতে হলে সেটি খুজতে হয়। জ্ঞান কখনও আপনার সামনে এসে ধরা দিবে না। বরং সেটি আপনাকে খুজে নিতে হবে।
প্রচার মাধ্যমে দেখা খবরের মাঝে অসংখ্য মিথ্যা আর প্রতারনা ছড়িয়ে থাকে সেখানে সঠিক তথ্য খুব কমই আসে।
একটি দেশের দুর্নিতি দুর করতে হলে প্রযুক্তি হলো একমাত্র পথ যার মাধ্যমে দুর্নিতি রোধ করা সম্ভব । কারন প্রযুক্তি কখনও ভিন্নরুপ আচরন করেনা। সে একভাবে চলে ।
মানুষ ভিন্নরুপী, মানুষ স্বার্থপর, মানুষ লোভী, বিভিন্ন সময় মানুষ লোভের বশবতী হয়ে দেশের ক্ষতি করার চেষ্টা করে । তাদেরকে দমাতে হলে প্রযু্ক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
বর্তমানে সেটি লক্ষ করা যাচ্ছে সর্বত্র। সরকার সর্বাত্তক চেষ্টা করতে কি করে দুর্নিতি দুর করা যায়, কি করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় । সে লক্ষেই প্রতিটি সেক্টরে কাজ করছে সরকার ।
ভুমি অফিস, পার্সপোর্ট অফিস, জন্ম নিবন্ধন অফিস, শিক্ষা ক্ষেত্রে, চিকিৎসা ক্ষেত্রে যোগাযোগ ক্ষেত্র সহ প্রতিটি ক্ষেত্রে আগের থেকে দুর্নিতি কমেছে বহুলাংশে । যারা এটি পর্যবেক্ষন করে তারাই বলতে পারবে বিষয়টি।
আগে যেখানে জমির নামজারী করাতে একজন মানুষকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতো এখন তেমনটি হয়না । অনলাইনে নামমাত্র খরচে আবেদন করে ফি জমা দিলেই নামজারী হয়ে যায় । এটি সরকারের বিরাট সাফল্য।
আগে পার্সপোর্ট অফিস ছিলো দালালের আখরা অথচ এখন অনলাইনে অটোমেটিক ফাইল জমা দেয়ার তারিখ পড়ে একজন গ্রহক নির্দিষ্ট দিনে গিয়ে কোন ভোগান্তি ছাড়াই পার্সপোর্ট জমা দিতে পারেন।
শিক্ষাক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের জন্য সরকার একটি অনলাইন আইডির ব্যবস্থা করেছে যেখানে একজন শিক্ষার্থীর সকল তথ্য সংরক্ষিত থাকবে । এতে করে শিক্ষার্থী এক আইডির মাধ্যমেই মুহুর্তেই তার সকল বৃত্তান্ত জানতে পারবে। প্রয়োজনে সরকারও শিক্ষার্থীদের সকল তথ্য জানতে পারবে । ফলে কোন শিক্ষার্থীকে চাইলেই ভালো বলা বা খারাপ বলা যাবেনা । যার যোগ্যতা যেমন সে তেমনভাবেই মূল্যায়ন পাবে । শিক্ষকরাও কাউকে চাইলেই রেজাল্ট পাল্টে দিতে পারবেন না।
দেশের কোন নাগরিক যদি দুর্নিতি রোধ কল্পে কোন প্রকার সাহায্য করতে পারেন তবে সেটি হবে দেশের জন্য উত্তম । তাই সমালোচনা না করে আসুন আমরা দেশকে ভালোবাসি দেশের মানুষকে ভালোবাসি, এবং কি করে দেশের কল্যাণ করা যায় সেটি নিয়ে চিন্তা ভাবনা করি । দেশে মানুষের ভালো কিছুর জন্য ভালো ভালো পরামর্শ প্রদান করি। কখনই খারাপ কিছু নিয়ে মাতামাতি না করি। মন্দ দিকগুলি এড়িয়ে যাই ।
“একে অপরের ভাল কাজের সহযোগী হই, মন্দ কাজে নই”
লেখক- মোঃ শামছুদ্দিন আহমেদ (সুজন)