19/12/2025
ম্যাটিকুলাস ডিজাইনে হ*ত্যার শিকার হাদি।
জুলাই-আগস্টে ওসমান হাদি নামের কেউ সমন্বয়ক ছিলোনা, ইউনুস স্বাগত জানাইতে যারা এয়ারপোর্টে গেছিলো তাদের মধ্যেও হাদি ছিলোনা।
৫ আগস্টে চ্যানেল ২৪ এর সংবাদ সম্মেলনেও হাদি ছিলো না।
জুলাইয়ের ম্যাটিকুলাস ডিজাইনের আন্দোলনে যাদের নাম সবসময় আলোচনায় ছিলো তাদের মধ্যেও হাদির নাম ছিলো না।
তাহলে হাদির আবির্ভূত হইলো কিভাবে??তাকে কি আসমান থেকে নাজিল করা হইছে??
ব্যাপারটা হইছে কুরবানী দেওয়ার জন্য যেভাবে পশু মোটাতাজা করা হয়, হাদিকেও একইভাবে কুরবানী দেওয়ার জন্য তৈরী করে জামাত শিবির।
হাদি প্রথম আলোচনায় আসে ইনকিলাব মঞ্চের আয়োজনে শাহবাগে বিরিয়ানি খাওয়ানোর মাধ্যমে।
সে সময় আমরা অনেকেই তার আয়োজনে মানুষের উপস্থিতি কম ছিলো বলে ট্রল করি এবং সমালোচনা করি।
এই থেকে উত্থান হাদির, মধুর ক্যান্টিনে বিভিন্ন সময় আওয়ামী লীগকে অযাচিত গালিগালাজের মাধ্যমে আরো ফোকাসে আছে।
জামাতি গণমাধ্যম ও মোবাইল সাংবাদিকরা তাকে ব্যাপক কাভারেজ দেয়, ধীরে ধীর তার ইমেজ তৈরি হয়। মিডিয়ায় গুরুত্ব বাড়ে, বিভিন্ন টকশোতে হাজির হয়, আওয়ামী লীগকে গালিগালাজ ছিলো তার আলোচনায় আসার একমাত্র যোগ্যতা।
এরপর আর পিছনে থাকাতে হয়নি হাদিকে, ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানার ফ্যাসিবাদের দোসর আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মব করা, ধানমন্ডি-৩২ এ জঘন্যতম মবের নেতৃত্ব দেওয়া, গোপালগঞ্জে গিয়ে গোপালগঞ্জে বাসীর শাউ য়া মাউ য়া ছিড়তে চাওয়ায় আরো বেশি আলোচনায় আসে।
তাকে সর্বোচ্চ সমর্থন দিয়ে শিবিরের বি টিম আপ বাংলাদেশের পরে সি টিম হিসবে ইনকিলাব মঞ্চকে তৈরি করে জামাত-শিবির।ডাকসুকে জুমাকে মনোনয়ন দিয়ে ইনকিলাব মঞ্চ ও শিবিরের সম্পর্ক আরো সুদৃঢ় করে শিবির।
গালিগালাজ করলে মাঝেমধ্যে আওয়ামী লীগ পক্ষেও দুইচার লাইন বলছিলো হাদি, যে নিরীহ আওয়ামী লীগকে নির্যাতন করা যাবেন।
আবার সমন্বয়কদের নিয়েও সমালোচনা করে হাদি, তাদের আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার কথাও সে জানায় গণমাধ্যমে।
হাদীকে দিয়ে ভারতীয় আগ্রাসনের বুলি বারংবার বলায় জামাত, এই কাজ টা শিবিরের কাউকে কখনো করতে দেখছেন, যারা গুরুত্বপূর্ণ পদে আছে??
শিবিরের কোন আলোচিত ব্যক্তি কেউ সেভেন সিস্টার্স বা ভার নিয়ে আগ্রাসী মন্তব্য করতে দেখছেন??
এইগুলা হদি, হাসনাত , দাঁতাল মোসাদ্দেককে দিয়ে বলানো হয়( কারণ এতে সরাসরি শিবিরের উপরে দায় আসেনা)
এরপর শুরু হয় আসল খেলা, ঢাকা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন হইলো ঢাকা-৮ আসন। এখানে রমনা, শাহবাগ, সচিবাল, পল্টন, মতিঝিলের মত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।
বানিজ্যিক এবং রাজনৈতিক গুরুত্ব অনেক এই আসনের। বিএনপির বিপরীতে শক্ত প্রার্থী হিসেবে হাদীকেই গণমাধ্যম উপস্থাপন করে।
যেহেতু রাজনৈতিক এবং বানিজ্যিক ভাবে এই এলাকা গুরুত্বপূর্ণ সেখানে সাদিক কায়ুমকেও মনোনয়ন দেয় জামাতে ইসলাম। কারণ কম বয়সে এলাকার নির্বাচন করার থেকে ঢাকায় নির্বাচন করা সহজ, এইজন্য দেখবেন এরা বেশিরভাগ এলাকায় না যেয়ে ঢাকায় নির্বাচন করতেছে।
সাদিক কায়ুম প্রার্থী হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই ব্যাপক ক্ষুব্ধ হয় হাদি, কারন জামাতের সাথে তার সমঝোতা অনুযায়ী এমন হওয়ার কথা ছিলোনা।
সে তার ক্ষোভের কথা মব সাংবাদিক ইলিয়াসকেও জানায়। ( ইলিয়াসের পোস্ট কমেন্ট বক্সে)।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা পরে দেশব্যাপী খুব একটা আলোচনা হয়নাই, এইজন্য তারেক রহমান আগে থেকে নেওয়া সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য প্রিপারেশন নিচ্ছিলো, ঐদিনই ঘটনাটি ঘটে।
তারেক রহমান দেশে আসার ঘোষণার খবর গণমাধ্যম থেকে সরে হাদির উপরে ফোকাস হয়। জামাতি বট বাহিনী হাদিকে নিয়ে সর্বোচ্চ প্রচারণা চালায়। সাধারণ মানুষকেও হাদির উপরের ঘটনা প্রভাব পড়ে। সাদিক কায়ুম শুরুতে বিএনপিকে ইঙ্গিত করে পোস্ট দেয়, তবে তাদের ন্যারেটিভ ভাঙ্গার দায়িত্ব নেয় জুলকারনাইন সায়ের, সে খুঁজে খুঁজে সব তথ্য পায়। বাংলাদেশের গণমাধ্যম যা জানেনা, তারচেয়ে বেশি জানে সায়ের।
৫ আগস্টের পরে বাংলাদেশ-ভারত বর্ডারের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে নেয় জামাত-বিএনপি। সবকিছু জানার পরেও খু*নি পালিয়ে যায় ভারতে। এই আলোচিত ঘটনার আদ্যোপান্ত জানে জুলকারনাইন সায়ের, শুধু আসামীকে ধরতে পারেনাই। এমন ব্যক্তিকে যারা বর্ডার পার করে দেয় তারা সরকার দলীয় লোক ছাড়া কোনভাবেই সম্ভব না।
যে আওয়ামী লীগ একটা মিছিল করাইতে হিমশিম খাচ্ছে, নেতাকর্মীরা প্রাণের ভয়ে রাস্তা নামতে পারছেনা, সেই আওয়ামী লীগের পক্ষে এতোবড় কিলিং মিশন করা অসম্ভব।
৫ আগস্টের মতো, আবু সাইদের মতো আবারো আরেকটি ম্যাটিকুলাস ডিজাইনের বলি হলো ,ওসমান হাদি। পুরো ঘটনার সুফল ঘরে তুললো জামাত, আর ক্ষতিগ্রস্ত হলো আওয়ামী লীগ, গণমাধ্যম ও প্রগতিশীল চিন্তার মানুষেরা।
সুযোগ বুঝে নির্বাচন পেছানোর ইন্তেজাম করলো ইউনুস, হাদির লাশ নিয়ে এইবার আরেকটা অভ্যুত্থানের জন্য রেডি জামাত- তার সাথে থাকা দলগুলো।