14/02/2026
প্রেমিক ২০২৫
Prologue
খুব ইচ্ছে ছিলো সে লাল শাড়ি পড়ে আসবে , একসাথে ডিউটি করে বিকালের মিষ্টি আবহাওয়ায় ঘুড়ে বেরাবো শহরের অলিগলিতে... কবিতার ছন্দের মতো একটা ভালোবাসা চেয়েছিলাম কিন্তু কবিতার ঐ ছন্দ সবার কপালে জুটে উঠে না! আজ আমি এবং সে ডিউটিতে আছি কিন্ত কবিতার কবি আজ আমি নই অন্য কেউ! ১৪ ফেব্রুয়ারীর এই শুক্রবারের ডিউটিতে কেনো জানি তার সাথে মিলে গেলো , আজ ভেবেছিলাম ব্যাগে থাকা ডায়েরীটা হয়তো কোথাও ফেলে দিবো কিংবা পুড়িয়ে ফেলবো। এই অনুভূতি কেবল মুক্তি অপেক্ষায়!
আকিব?!....
Chapter:01- Anatomy of LOVE
মেডিকেলের এই জঞ্জাল জীবনে শান্তি হিসেবে কোভিড আসে কিন্তু এই এক কোভিড যে এতো লম্বা যাবে তা কখনোই ভেবে উঠেনি! আইটেম কার্ড টার্ম থেকে বেচে গেলেও প্রফের নোটিশ দিয়েই কলেজ খুলে দিলো! ডাইসেকশন রুমের মধ্যে ব্যস্ত থাকা সময়ের মধ্যেই সামিয়া একদিন এসে আমার কাছ থেকে এনাটমির খাতা চাইলো! এই খাতা আদান-প্রদান করতে করতে প্রফের রোল-মেট এবং সেই থেকেই শুরু বন্ধুত্বের।
সামিয়ার সাথে সাথে প্রথম প্রফটা পার হয়ে গেলো! ধন্যবাদ এবং একটা চকলেটই হয়তো আমার গল্পের শুরু। কমিউনিটি মেডিসিনের পাবলিক হেলথের ডেফিনেশন পড়তে পড়তে কেনো জানি মনে হলো সামিয়া ইজ পার্ট অফ সামথিং! কিন্তু আমি কখনো বুঝে উঠিনি কিংবা আমি কখনো তা ভাবিনি! সামিয়ার সাথে থাকা সময়গুলো কেনো জানি ভালো লাগতো! খাতার পৃষ্টা পাল্টাতে পাল্টাতে হয়তো পড়া শেষ হবে কিন্ত আমাদের মুহুর্ত নয়!
প্যাথোলজি মাইক্রো আর ফার্মা যখন খুব অল্প সময়ের জন্য আমাদের সাথে যুদ্ধে নেমেছিলো , দুজনে এক হয়ে তা ফেইস-অফ করেছি! গ্রুপ-স্টাডি , নোটোস করতে করতে বুঝে উঠেছি অনুভূতি গুলো ডায়েরির সেই পাতায় থাকা শুধু শব্দ নয় , আমার নিজেরই ভালোবাসা! আমাদের এই গল্পে যে আমিই থার্ড পারসান তা বুঝছিলাম ডাক্তার হওয়ার ২ সপ্তাহ পর!
হাতে গোলাপ , তার জন্য লেখা আমার প্রতিটি চিঠি এবং এক মুঠো আশা নিয়ে যাচ্ছিলাম নিজের প্রথম ডিউটিতে! গেটের কাছাকাছি আসতে না আসতেই দেখতে পেলাম কেউ তাকে নামিয়ে দিয়ে গেলো হাসপাতালে! আমি সেই হার মানিনি ,গোলাপটা ডায়েরিতে জায়গা করে নিয়েছিলো কিন্তু আমার সেই এক মুঠো আশা হারিয়ে গিয়েছিলো! কথা হতো ,আলাপ হতো সামিয়াকে আমি কিছুই জিজ্ঞাসা করতে পারিনি! হারিয়ে যাওয়ার ভয় নাকি সত্য না মেনে নেওয়ার ভয়! উত্তর খুজতে খুজতে একদিন ফেইসবুকে তার ম্যারিড পোস্ট দেখতে পেলাম! আমি কাদিনি সেই রাতে , আমি কি তাকে নিজের করে নিতে পারিনি জানি না! কিন্তু আমি হারিয়ে ফেললাম আমার সেই গল্পের প্রিয় মানুষটাকে ,যাকে নিয়ে গড়া ছিলো আমার ছোট্ট এক সংসার!
CHAPTER:02-Pathophysiology of Emotion
-আমাদের আজ এনাটমি শেষ হলো! হিস্টোলজির রং-পূর্ণ চিত্রে বাদ দিয়ে আমি তোমারই দিকে চেয়েছিলাম
-কঠিন ফিজিওলজি পরীক্ষার আগে তোমার সাথে কথা বলে আমি এক নতুন সাহস পেয়েছি , ধন্যবাদ সামিয়া!
-প্রথমপ্রফ পাশ! সামিয়া আজ আমাকে চকলেট দিয়েছে এবং ধন্যবাদ! আজ প্রথম আমাদের হ্যান্ডশেক হলো! কখনো হারিয়ে ফেলবো না তোহ?!
-তোমার মন খারাপের দিনে আমায় মনে রেখো, ছায়া হয়েই পাশে থাকবো
-অটোপ্সি শেষে আজ আমি তার পাশে বসেছিলাম , সামিয়া ঘুমে আমার কাধে মাথা রেখেছিলো
-সেকেন্ড প্রফ ফাইনালি ক্লিয়ারড!সামিয়াকে কি মনে কথা বলা উচিত হবে?
-আজ সে হলুদ রঙের একটি ড্রেস পড়েছিলো....
-মাইক্রো একসাথে পড়তে পড়তে আমরা আজ আইসক্রিম খেয়েছি
-ফাইনাল ইয়ার শুরু ,সামিয়াকে না হয় পাশ করার পরেই প্রোপজ করে ফেলবো!
-সামিয়া কি আমাকে ভালোবেসেছে কখনো?
-তবে অন্য কেউ এসে নিয়েই গেলো , আমি পারলাম না বলতে আমি পারলাম না তাকে নিজের করে নিতে!
-HAPPY Valentine's Day Samia 14/02/2025
Chapter:03-Iceberg of Feelings
সামিয়া যখন মনযোগ সহকারে লাইব্রেরিতে পড়তো , আমি উকি দিয়ে তাকে দেখতাম! চশমার পেছনের থাকা মায়াবী চোখ , কলম হাতে নিয়ে ঘুড়ানো বাতাসে এলোমেলো চুলগুলো হাত দিয়ে ঠিক করা!
(দ্বিধা-প্রীতম হাসান)
আমার ক্যানভাস জুড়ে আকা ছবিগুলো কি কখনো সে দেখবে , কালির এই আকাবাকা দাগগুলো কি কখনো বুঝতে পারবে?!
যেখানে প্রথম বর্ষের প্রেমগুলো এনাটমির ডাইসেকশন রুম থেকে গাইটনের বই পেরিয়ে বায়োকেমিস্ট্রি ল্যাবে সাড়া পড়ছিল , আরেকপাশে তৃতীয় বর্ষরা ফার্মার ড্রাগের সাথেই ভালোবাসার অটোপসি নিয়ে ব্যস্ত ছিলো ,আবার।চতুর্থ বর্ষে কমিউনিটি থেকে প্যাথোলজি পড়তে পড়তে মাইক্রোবায়োলজির জালে আবদ্ধ! বইয়ের মাঝে গোলাপ আর মাথায় রয়েছে শত শত আইটেমের পড়া আর পরিক্ষার চাপ! কিন্তু ভুলেনি প্রেমিকা গোলাপ দিতে ,ভুলেনি প্রেমিকার কাছে প্রেম আবেদন করতে! আর এইসব দেখতে দেখতে আমি আমার ডেভিডসনের মাঝে থাকা গোলাপটা কিভাবে তাকে দিবো সেই চিন্তায় ক্ষান্ত! হঠাৎ তার দেখা পাওয়া , তাকে নিয়েই লাইব্রেরিতে কার্ডিওলজির এক অংশ পড়ে ফেলা এবং তাকে নিয়ে সেই ফ্রেব্রুয়ারীর এক বিকাল পার করা! মন্দ নয় কিন্তু দেওয়া হলো না সেই ফুলটা! কার্ডিওলজির সেই পৃষ্ঠায় রয়ে গেলো.....
প্রতিটি চিঠি ,প্রতিটি ফুল তো আমার কাছেই রয়ে গেলো , আর সামিয়া আজ তার স্বামীর চিঠির ছবি ফেইসবুকে দিয়ে যাচ্ছে আর এদিকে এই ৫ বছর ধরে আমার লেখা কথাগুলো দেখলে , শুনলে না এবং বুঝলেও না?!
আমার চিঠি আমার অনুভূতি আমার ফুলের কি মূল্য নেই?! নাকি.....
Final Chapter : Treatment / Prevention
(Sajdee - Faheem Abdullah)
১৪/০২/২০২৫
সামিয়া অনেকদিনপর আমার নাম ধরে ডাকলো! হাতে থাকা ডায়েরিটা পাশে লুকিয়ে ফেললাম! দৌড়ে এসে আমাকেই প্রথম বিয়ের কার্ড দিলো , হাসি-ঠাট্টায় দাওয়াত নিয়েই নিলাম যাবো কিনা জানি না , তবে শেষ একটা উপহার দেওয়াই যায়!
কিছুক্ষন পর দেখলাম সামিয়ার হাসবেন্ড এসেছে হাসপাতালে দুজনে একসাথে লাঞ্চ করবে , ভেবে উঠলাম অধিকার কিভাবে হারিয়ে যায় , সময় কিভাবে পার হয়ে যায় ,খাবার নিয়ে রুমেই চলে গেলাম ,ইচ্ছা ছিলো না একসাথে বসার! আজকের এই দিনে দুজন একসাথেই থাকুক!....
( হঠাৎ এক বিস্ফোরণ )
হাসপাতালের করিডোরে দৌড়ে গিয়ে দেখি আগুন লেগেছে! উপচে পড়া ভীড়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি করে বেরিয়ে এলো কিছু মানুষ আর কিছু মানুষ এখনো ভিতরে! যতটুকু সম্ভব দৌড়াদৌড়ি করে বের করে আনলাম মানুষদের! ৩০ মিনিটের মধ্যেই ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আর লোকবল চলে এলো....
আমি ভীড়ের মধ্যে সামিয়াকে না পেয়ে ভিতরে ঢুকে গেলাম, অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকা সামিয়াকে দেখে তুলে যখন আমি বের হওয়ার পথে......
(জোরে বিস্ফোরণ )
আগুনের উত্তাপে পড়ে থাকা দুজন পাশাপাশি , আমি এখনো তার মায়া পড়ে থাকা এক প্রেমিক, সামিয়ার কিছুই হতে দেইনি আমি , আমার শরীরের এক অংশ....
সামিয়া নিজের কাছে টেনে আনলাম , (সামিয়ার শ্বাসকষ্ট ছিলো ) সামিয়া আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি কিন্তু দেখো এই সময়ে এসে মনে হচ্ছে যেহেতু বেচেছি তোমাকে নিয়েই , আজ না হয় তোমাকেই নিয়ে মরি , থাকবে এই শেষ সময়ে আমার পাশে!
[সামিয়া শাসকষ্ট শুরু হয়ে গিয়েছিলো ইতোমধ্যে ,কিন্তু আকিব শক্ত করে জড়িয়ে ছিলো সামিয়াকে! সামিয়া চেয়েও বের হতে পারছিলো না ]
হয়তো তোমাকে না পাওয়ার আক্ষেপ থেকে যাবে কিন্তু এই মৃত্যু কোনো প্রেমিকের কপালে জোটে না! নিজের ্প্রিয় মানুষের সাথে একই সাথে একই সময়ে মৃত্যু! না আমার গল্প কেউ শুনবে না কেউ জানবে না , কেননা আমার গল্পের আমিই প্রেমিক আমিই লেখক এবং আমিই পাঠক!!
Epilogue
এইমাত্র পাওয়া দর্শক , রাজধানীর হাসপাতালে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ অগ্নিকান্ডে.....
সামিয়ার স্বামী তার স্ত্রীকে খুজতে খুজতে অবশেষে তার লাশ খুজে পায়.... এবং খুজে পাওয়া একটি পুড়ে যাওয়া একটি ডায়েরি যার উপরে লেখা , "প্রিয় সামিয়া"!
|| সমাপ্ত ||
[সম্পূর্ণ লেখাটি কাল্পনিক এবং ব্যবহারকৃত নাম কিংবা জায়গা বাস্তব জীবনের সাথে সম্পর্কিত নয়।দয়া করে কেউ বাস্তব জীবনের সাথে একে মিলানোর চেষ্টা করবেন না, ধন্যবাদ]