09/02/2026
বাংলাদেশের আধিপত্যবাদের পেছনে যারা শক্তভাবে দাঁড়িয়ে আছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে ধারাবাহিক সবচেয়ে কৌশলী এবং সবচেয়ে প্রভাবশালী শক্তি হল বাংলাদেশী মূল ধারার মিডিয়া। এই মিডিয়ার কেবল খবর প্রকাশ করে না, প্রতিদিন মানুষ কিভাবে ভাববে, কিভাবে প্রশ্ন করবে, এভাবে চুপ থাকবে সেটার ট্রেনিং দেয়। প্রতিটি মিডিয়া হাউজ যেন একেকটি প্যাঁচানো খেলার ঘর। যেখানে সত্য নয় নেগেটিভ তৈরি হয়। এখানে প্রশ্ন তোলা হয় না বরং প্রশ্ন বেছে দেয়া হয়। এখানে বিতর্ক হয় না বিতর্ক নিয়ন্ত্রিত হয়। এখানে মানুষকে সচেতন করা হয় না বরং মানুষকে ম্যানেজ করা হয়। এই মিডিয়া গুলোর সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো তারা মানুষকে বিশ্বাস করাতে পেরেছে যে, এই ব্যবস্থার বাইরে কোন কিছু ভাবাই হলো উগ্রতা, এই কাঠামোর বাইরে দাঁড়ানোই অরাজকতা। হাদীর মত মানুষরা মিডিয়ার কাছে সব সময় বিপদজনক। কারণ হাদি কোন দলীয় মুখপাত্র ছিলেন না। তিনি কোন নির্দিষ্ট ক্যাম্পেইনের ভাষায়ও কথা বলতেন না। তিনি প্রশ্ন করতে না এমন জায়গায় যেখানে মিডিয়ার সব সাজানো স্ক্রিপ্ট ভেঙ্গে যেত। এই মিডিয়া গুলো উস্কানি দিতে জানে, এরা গোলামি শেখাতে জানে, প্রয়োজনে মাথা নিচু রাখতে ও জানে, এরা ক্ষমতার ভাষাকে জাতীয় স্বার্থ বানাতে জানে। কিন্তু সত্য সংবাদ দেয়ার বেলায় তারা অদ্ভুতভাবে অন্ধ ও বধির। আর যখন দেখবেন হাদীদের মৃত্যুতে তারা অনেক আহাজারি করছে, তবে বুঝবেন হাদীদের নিয়ে তাদের আহাজারি নিউজের ভিউজ থেকে তাদের ভালই ইনকাম হচ্ছে। সবচেয়ে ভয়ংকর জায়গাটা এখানে কিছু নির্দিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আছে যারা নিজেদেরকে জ্ঞানী, প্রগতিশীল ও সচেতন নাগরিক মনে করে। তাদের কথাবার্তায় বড় বড় শব্দ থাকে, তাদের আলোচনায় ভারী ভারী রেফারেন্স থাকে। কিন্তু বাস্তবে তাদের চিন্তা, সাহস সীমিত যে, হাদির মত একজন মানুষের একদিনের চিন্তা ভাবনাও তারা ধারণ করার ক্ষমতা রাখেনা। হাদী প্রশ্ন তুলতেন - কারা লাভবান হচ্ছে? আর এরা ব্যস্ত থাকতো - কারা আমন্ত্রণ জানাচ্ছে? সেটা নিয়ে। হাদী বলতেন কাঠামো ভাঙ্গার কথা, আর তারা বলে এই মুহূর্তে এটা বলা ঠিক না। এভাবেই যুগে যুগে হাদীদের একা করে ফেলা হয়।
প্রথমে উপহাস, তারপর অবহেলা, তারপর নীরবতা, সবশেষে ১৬-১৭ বছরের জন্য এমন হাদীদের শূন্যতা। আর এই শূন্যতা গুলো তৈরি করাই মিডিয়ার সবচেয়ে বড় অবদান। কারণ হাদি মারা গেলে শুধু একজন মানুষ মারা যায় না, মরে যায় হাজারটা সম্ভাব্য হাদি হয় ওঠার সুযোগ। তবুও ইতিহাস বলে, হাদিরা কখনো শেষ হয় না।
কারণ যতদিন এই কাঠামো থাকবে ততদিন কেউ না কেউ প্রশ্ন তুলবেই। সমস্যা হল প্রতিবারই প্রস্তুত থাকে, সেই প্রশ্নকে প্রথমে বিকৃত করতে আর প্রয়োজন হলে চিরতরে মুছে ফেলতে। ( Copied from Sojib Omar)
https://www.facebook.com/officialsojibomar
#ওসমান_হাদী