29/12/2025
জরুরি প্রেস বিজ্ঞপ্তি
সিন্ডিকেটকে সুবিধা দিতেই তড়িঘড়ি NEIR চালুর ঘোষণা, প্রতিশ্রুতি ভেঙে ১ জানুয়ারি থেকেই কার্যকরের সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ সারাদেশের মোবাইল ব্যবসায়ীরা।
আজ বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (BTRC) ঘোষণা দিয়েছে যে, ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে NEIR (National Equipment Identity Register) সিস্টেম চালু করা হবে। এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মাধ্যমে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে ৩ মাসের গ্রেস পিরিয়ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
ওই প্রতিশ্রুতিতে শুধু সময় বাড়ানোর কথাই বলা হয়নি, এই ৩ মাসের মধ্যে ব্যবসায়ীরা যেভাবে এতদিন ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল সেভাবে পণ্য সংগ্রহ করে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন এবং ওই সময়ে নেটওয়ার্কে সংযুক্ত হওয়া কোনো ডিভাইস ভবিষ্যতে কখনোই নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন করা হবে না, এই নিশ্চয়তাও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তার কোনো লিখিত বা কার্যকর প্রতিফলন আজ পর্যন্ত দেখা যায়নি। যদিও ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ তাদের নিজস্ব অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে এর বিবৃতি দিয়েছিল।
এর পরিবর্তে, ১৫ ডিসেম্বর BTRC হঠাৎ করে মাত্র ১৫ দিনের সময় ঘোষণা করে, যা সরাসরি সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক। আজকের ১ জানুয়ারি থেকে NEIR চালুর ঘোষণায় সেই সাংঘর্ষিক সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত রূপ পেল।
এই তড়িঘড়ি সিদ্ধান্তের পেছনে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের স্বার্থরক্ষার বিষয়টি এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
আমাদের অভিযোগ, দেশের মোবাইল বাজারকে নিয়ন্ত্রণে নিতে এবং সিন্ডিকেটভুক্ত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া সুবিধা নিশ্চিত করতেই পরিকল্পিতভাবে এই চাপ তৈরি করা হচ্ছে। ২৫ হাজার ব্যবসায়ীকে কোণঠাসা করে, লক্ষাধিক মানুষের জীবিকার ঝুঁকি তৈরি করে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে বাজারের নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
এই প্রেক্ষাপটে সারাদেশের মোবাইল ব্যবসায়ীরা স্পষ্ট করে জানাচ্ছে -
ব্যবসায়ীরা কেউ NEIR এর বিপক্ষে না, আমরা ব্যবসায়ীরা NEIR এর সিস্টেম সংস্কার করে চালু করা হোক এইটার পক্ষে। আমরা বারবার বলেছি আমরা ট্যাক্স দিয়ে বৈধভাবে আমদানি করে ব্যবসা করতে চাই। দেশের জনগণের কথা চিন্তা করে ট্যাক্স এর মাত্রা সহনীয় করা হোক এবং আমদানি নীতিমালার বাধা গুলো দূরীকরণ করা হোক, নতুন ফোনের পাশাপাশি পুরাতন ফোনের জন্যও। যদি সরকারি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ৩ মাসের গ্রেস পিরিয়ড নিশ্চিত না করা হয়, শুল্ক কাঠামো ও উন্মুক্ত আমদানি বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ও লিখিত সরকারি বক্তব্য না আসে এবং সিন্ডিকেটমুক্ত নীতিগত সংস্কারের উদ্যোগ দৃশ্যমান না হয়, তবে NEIR কার্যক্রম চালুর আগেই সারাদেশের মোবাইল ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে কঠিন থেকে কঠোরতর কর্মসূচির ঘোষণা দিতে বাধ্য হবে।
আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে জানাতে চাই, এই পরিস্থিতি ব্যবসায়ীদের সৃষ্টি নয়। নির্বাচনকে সামনে রেখে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাজারকে অস্থিতিশীল করা, ব্যবসায়ীদের পথে বসানো এবং একটি সিন্ডিকেটকে সুবিধা দেওয়ার এই চক্রান্তের দায় কোনোভাবেই মোবাইল ব্যবসায়ীরা নেবে না।
আরও স্পষ্ট করে বলতে চাই, তফসিল ঘোষণার পর যদি কোনো সরকারি সংস্থা বা কোনো উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর সিদ্ধান্ত বা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের কারণে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, তার দায়ভার মোবাইল ব্যবসায়ী সমাজ নেবে না।
আমরা সরকারের বিরোধী নই। আমরা সংস্কারের বিপক্ষে নই। কিন্তু সিন্ডিকেটের স্বার্থে প্রতিশ্রুতি ভেঙে, সময় না দিয়ে, নীতিগত সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে রেখে একটি পুরো খাত ধ্বংস করার অপচেষ্টা আমরা মেনে নেব না।
এখনো সময় আছে। সরকার চাইলে আজই পরিস্থিতি সামাল দিতে পারে, নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে এবং সিন্ডিকেটমুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে।।