20/02/2026
🌿 রিযিক নিয়ে অহংকার নয়, কৃতজ্ঞতা শিখুন 🌿
রিযিকের বিষয়টা বাস্তবেই অনেক বেশি জটিল এবং তা পুরোপুরি আল্লাহ তাআলার হাতে নির্ধারিত। এই পৃথিবীতে কেউ কাউকে খাওয়াতে পারে না, কেউ কাউকে পড়াতে পারে না—যতটুকু খাবার, পরিধান ও জীবিকা একজন মানুষের জন্য নির্ধারিত, সে ঠিক ততটুকুই পাবে। কারণ আল্লাহ তাআলাই প্রত্যেকের রিযিক নির্ধারণ করে রেখেছেন।
উদাহরণস্বরূপ বলা যায়—একজন মানুষ যখন পড়াশোনা করে, ভবঘুরের মতো ঘুরে বেড়ায়, তখন তার কোনো নির্দিষ্ট ইনকাম থাকে না। কিন্তু যখন সে পরিবারের দায়িত্ব নিতে শুরু করে—বাবা-মা, ভাই-বোনের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয়—তখন আল্লাহ তাআলা অটোমেটিকভাবে তার রিযিক বাড়িয়ে দেন। ঠিক যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকুই তিনি ব্যবস্থা করে দেন।
এরপর যখন একজন মানুষ বিয়ে করে, তখন তার জীবিকার পরিমাণ আরও কিছুটা বৃদ্ধি পায় স্ত্রীর মাধ্যমে। আবার যখন সে সন্তানের পিতা হয়, তখন আল্লাহ তাআলা সেই সন্তানের বরকতে তার রিযিক সর্বোচ্চ পর্যায়ে আরও বাড়িয়ে দেন।
কিন্তু যদি কেউ মনে করে—স্ত্রী ও সন্তানই তার একমাত্র দায়িত্ব, তাই বাবা-মা বা ভাই-বোনকে দেখার প্রয়োজন নেই—এবং তাদের ভরণপোষণের দায়িত্ব ছেড়ে দেয়, তাহলে আল্লাহ তাআলা তার উপর থেকে সেই বরকত উঠিয়ে নিতে পারেন। কারণ বাবা-মা, ভাই-বোন কিংবা অন্য যাদের দায়িত্ব আমরা গ্রহণ করি—তাদের রিযিক আল্লাহ আমাদের মাধ্যমেই নির্ধারণ করে দেন।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—বাবা-মা, ভাই-বোন কিংবা অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনের দায়িত্ব আল্লাহ তাআলা সবাইকে দেন না। যাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়, সে আসলেই ভাগ্যবান। কারণ এটি কেবল দায়িত্ব নয়, বরং এক বিশেষ আমানত ও সম্মান। আমি মনে করি, আল্লাহ যাদের রিযিক আপনার মাধ্যমে নির্ধারণ করেছেন, তাদের বদৌলতেই আপনার নিজের জীবনেও বরকত ও প্রাচুর্য আসে। আপনি তাদের মুখে অন্ন তুলে দিচ্ছেন—কিন্তু বাস্তবে সেই অন্নের মধ্যেই আপনার জন্যও কল্যাণ ও অংশ নির্ধারিত রয়েছে।
আল্লাহ তাআলা মানুষকে যত বেশি দায়িত্ব দেন, তত বেশি তার রিযিকের দরজাও খুলে দেন। বাস্তব জীবনে আমি নিজেও এর প্রমাণ দেখেছি।
আমরা অনেক সময় বলি—“আমি পারবো না”, “আমার দ্বারা সম্ভব নয়”, “আমার কি দায়িত্ব সবাইকে খাওয়ানো-পড়ানোর?” কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো—যাদের আমরা সাহায্য করছি, তাদের প্রত্যেকের রিযিক আল্লাহ আমাদের মাধ্যমেই পৌঁছে দিচ্ছেন। আর যদি আমরা সেই দায়িত্ব থেকে সরে আসি, তাহলে আল্লাহ আমাদের জীবন থেকেও বরকত কমিয়ে দিতে পারেন।
তাই আমাদের উচিত—যা কিছু করি না কেন, যেন কখনো অহংকার আমাদের মধ্যে না আসে। কারণ অহংকারই একজন মানুষের সবচেয়ে বড় পতনের সূচনা করে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বিনয়, দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার মধ্যেই আল্লাহর রহমত ও বরকত নিহিত।
🤲 আল্লাহ আমাদের সবাইকে দায়িত্বশীল, বিনয়ী ও কৃতজ্ঞ বানান।
আমীন।