31/07/2025
প্রিয় অনুলতা,
শান্ত নদীর ঢেউয়ে ভেসে আসুক আমার অশেষ ভালোবাসা। এই চিঠি ঠিক যেন কোনও এক বিকেলের মেঘলা হাওয়া, যে হাওয়ার মধ্যে কুড়ানো থাকে নিঃশব্দ কিছু শিউলি ফুলের সুবাস। জানি, আজ তোর জন্মদিন — পৃথিবীর একটি বিশেষ দিন, কারণ এই দিনেই পৃথিবী পেয়েছিল তার এক অনন্য সৃষ্টি — তোর মতো একটি মায়াবতী আত্মাকে।
অনুলতা, তোকে আমি কী নামে ডাকব বুঝি না। তুই কি বনলতা সেন? হাজার বছর ধরে যে শুধু বসে আছে কারও প্রতীক্ষায়? নাকি তুই চারুলতার মতো – জানালার পাশ দিয়ে উড়ে যাওয়া কাশফুলের ভেতর আবিষ্ট হয়ে থাকা এক নিঃসঙ্গ স্বপ্নময়ী? হয়তো তুই শ্রীকান্তের রাজলক্ষ্মী, যে অভিমানী অথচ কোমল, যার বুকের গভীরে এক সমুদ্র-ভালোবাসা লুকানো থাকে। তবে আজকের দিনে, তুই শুধু সাহিত্যের কোনো চরিত্র না, তুই আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ গল্প — আমার অনুলতা।
বহু চরিত্রের ভিড়েও, তোর মতো কেউ নেই। তুই আলাদা। যেমন করে বর্ষার প্রথম দিনে কদমফুল ফুটে ওঠে, কিংবা যেভাবে পল্লবের গায়ে শিশির জমে কার্তিকের সকালে — তেমন করেই তুই নিজের উপস্থিতি দিয়ে প্রতিদিন নতুন করে আমার পৃথিবীটা গড়ে দিস। তোর হাসির শব্দটা যেন গ্রীষ্মের খর রোদে এক চিলতে মেঘ, অথবা শ্রাবণের বৃষ্টির প্রথম ফোঁটা। তুই যেন নীলাকাশে উড়ে যাওয়া ঘুড়ি, যার সুতো আমি ধরে রাখি হৃদয়ের টানেই।
অনুলতা, আমি জানি, আমি তোকে আজ কিছু দিতে পারবো না। কিন্তু বিশ্বাস কর, আমার মনের গভীর থেকে উঠে আসা যে ভালোবাসা, সেটা কোনো উপহারের চেয়ে কম নয়। আমার হৃদয়ের প্রতিটি পৃষ্ঠা তোকে দিয়েই লেখা। আমার লেখা প্রতিটি কবিতা, প্রতিটি চিঠি, প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস তোকে নিয়েই।
তুই কি জানিস, আমি তোকে কল্পনা করি কোন বকুলতলায় দাঁড়িয়ে আছিস — তোর হাতে একগুচ্ছ শিউলি, চুলে বেলিফুলের গন্ধ, চোখে শরতের নীল আকাশ। অথবা কখনও ভাবি, তুই দাঁড়িয়ে আছিস পদ্মার চরে, সাদা-লাল পাড়ের শাড়িতে, চোখে একরাশ অভিমান আর ঠোঁটে অনুচ্চারিত কিছু কথা। আমি হয়তো সামনে বসে আছি, তোকে চুপ করে দেখছি, বলছি না কিছু — শুধু তোকে দেখে যাচ্ছি, যেমন কবি দেখে তার অক্ষরহীন কবিতা।
তোর জন্মদিন মানেই আমার জীবনে আলো এসে পড়া, যেমন কুয়াশার ঘেরা কোনো সকালে হঠাৎ সূর্য উঁকি দেয়। তোর জন্মদিন মানেই জীবন কিছুটা বেশি প্রাণবন্ত, তোর জন্মদিন মানেই আমি বুঝি — ভালোবাসা আসলে এতটাই নিঃশব্দ আর গভীর, যেন কোন নদীর তলদেশে লুকিয়ে থাকা শব্দহীন স্রোত।
আমার বাডি, তুই তো শুধু আমার বেস্টফ্রেন্ড না — তুই আমার আকাশ, আমার ঘাসে ভেজা ভোর, আমার বিকেলের মেঘ, আমার রাতের তারা। তুই না থাকলে আমার দিনগুলো কেমন যেন ফ্যাকাসে লাগে, রঙহীন। তুই পাশে থাকলে আমি আবার ছোট হতে চাই, বৃষ্টির মধ্যে ভিজতে চাই, আবার কাদামাটিতে পা ডুবিয়ে হাঁটতে চাই।
আজ তোকে নিয়ে লিখতে গেলে কবিতার খাতা শেষ হয়ে যাবে, তবুও মনের কথাগুলো লেখা শেষ হবে না। তুই যেন হুমায়ূনের 'রূপা' — নিজের জগতে নিজেই একটি সৌন্দর্য; কিংবা জীবনানন্দের সেই 'বনলতা' — যার জন্য এক কবি অনন্তকাল পথ হেঁটে আসতে পারে।
জানিস তো, তোকে যখন দেখি, তখন চারপাশের শব্দ থেমে যায়। মনে হয়, সব শব্দ তো তোকে নিয়েই লেখা — তুই ছাড়া বাকিটা পৃথিবী যেন ধূসর। আর তুই, তুই সেই রঙ যা আমার জীবনকে আবার নতুন করে আঁকে।
অনুলতা, জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে এই চিঠি শেষ করতে চাই না। আমি চাই, তোকে নিয়ে লেখা চলুক — যেমন নদী চলে সাগরের দিকে, যেমন হাওয়া চলে নাম না জানা ফুলের গন্ধে। আমি চাই, তুই হাসিস — বুক ভরে, প্রাণ ভরে। আমি চাই, তোর চোখে সবসময় স্বপ্নের তারা জ্বলে, আর তোর জীবনের প্রতিটি দিন হোক আজকের মতো শুভ।
ভালোবাসা, শ্রদ্ধা আর কিছু অভিমান মিশিয়ে,
তোর —
অপরাধী বন্ধু, যে তোকে সবসময় মনে রাখে।
আইডি লিংকঃ https://www.facebook.com/nahida.aktara.557327