19/08/2026
১০টা পুরোনো বাসে শুধু পিংক রঙ দিয়েই যত প্রচার করল, ঢাকঢোল পিটিয়ে!
শেখ হাসিনা মুজিববর্ষে ১,৮৪৬টি বাস দিয়েও এত প্রচার করেননি! 😂
ভাবুন একবার—যদি দুই হাজার বাস বিএনপি রাস্তায় নামায়, তাহলে এটা দিয়েই ২০ বছর প্রচারণা করতে পারত। 😁
এখন প্রশ্ন করবেন, শেখ হাসিনা কেন এগুলা নিয়ে প্রচারণা করে নাই?
আরে ভাই, প্রচারণা করবে কী করে? তখন তো প্রতিদিন কোনো না কোনো জায়গায় বড় বড় মহাপ্রকল্প উদ্বোধন হচ্ছিল। এর মধ্যে এটা খুব সামান্য একটা বিষয়; এটা নিয়ে আলাদা করে প্রচারণা করার মতো কিছুই ছিল না।
আর এ ধরনের কাজ হচ্ছে পপুলিস্ট কাজ। যখন কোনো সরকার দেশের জন্য তেমন কিছু করতে পারে না, তখন এ ধরনের পপুলিস্ট অনেক কাজ করে কিছুদিনের জন্য মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা করে।
এই বাসগুলার অবস্থাও এটাই হবে। দুইদিন পরে এগুলা পড়ে থাকবে, অথবা মুড়ির টিন হিসেবে পরে বিএনপির লোকজন এটা বিক্রি করে দিবে।
চাকরিজীবী মেয়েরা অফিসে যাওয়ার আশায় নির্দিষ্ট বাসের জন্য অপেক্ষা করবে—এটা ভাবল কী করে?
আর চালু করেছে দোতলা বাস! এই বাস পুরো ভরবে, তারপরে ছেড়ে যাবে। তা না হলে লস হবে, তেল খরচ ড্রাইভার খরচ মেইনটেনেন্সকষ্ট উঠবে না—মনে করেন, দশটা যাত্রী নিয়ে তো আর যাওয়া যাবে না। এটা ডাবল ডেকার বাস; পুরো ভরবে, তারপরে যাবে।
অফিসে যাওয়ার জন্য কেউ এই বাসের জন্য অপেক্ষা করবে না, অফিস থেকে ফেরার পথেও অপেক্ষা করবে না। সামনে যে বাস পাবে, সেটাতেই উঠে পড়বে।
তখন এই বাসগুলো যাত্রী সংকটে যেতে পারবে না। আবার যদি যাওয়া-আসা করে, অল্প যাত্রী নিয়ে চালালে লসের মুখে পড়বে।
দেখলাম কিছু মেয়ে এটার প্রশংসা করতেছে। কিন্তু যারা প্রশংসা করতেছে, আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি—এদের ভিতর ৯০% এই বাসে যাওয়া-আসাই করবে না।
কিন্তু প্রশংসা কেন করতেছে?
কারণ ওই যে বললাম, কিছু পপুলিস্ট কাজ আছে—যেগুলা করলে সাময়িকভাবে মনে হয়, “ও, আচ্ছা! এটা তো অনেক ভালো কাজ হয়েছে!” কিন্তু পরবর্তীতে এটার কোনো কার্যক্ষমতা থাকে না।
সব থেকে বড় কথা হচ্ছে, নিরাপত্তার বুলি আউড়িয়ে নারীদেরকে পুরো আইসোলেট করে ফেলা হচ্ছে।
কিছুদিন পরে পুরুষ বাসে যখন উঠবে, নারীদেরকে এমনভাবে বলবে—“আপনাদের জন্য আলাদা বাস রেখেছে, আপনারা পুরুষের বাসে আসছেন কেন?”
এভাবে আরও বুলিং করা হবে।
সাধারণ বাসে নারীরা যখন উঠতে চাইবে, উঠতেই দিবে না। উঠলেও প্রত্যেকটা নারীকে এই কথাগুলো শুনতেই হবে—“আপনাদের জন্য আলাদা বাস রাখছে, আপনারা সাধারণ বাসে কেন আসছেন? আপনাদের জন্য ডেডিকেটেড বাস আছে, কেন এটাতে আসছেন?”
সামান্য বিষয় নিয়ে ঝগড়াঝাঁটি হবে।
আর এই পুরো কাজটা জামাতের প্রেসক্রিপশনে হয়েছে—এটা বুঝাই যায়। নিরাপত্তার কথা বলে নারীদেরকে চার দেয়ালে বন্দী করাই যাদের কাজ।
এমনভাবে চলতে থাকলে কিছুদিন পরে বলবে—নারীদের জন্য আলাদা হাসপাতাল চাই, আলাদা রাস্তা চাই, আলাদা ইউনিভার্সিটি চাই, আলাদা কলেজ চাই, আলাদা কর্মজগৎ চাই। এমনকি সংসদ ভবনে নারীদের জন্য আলাদা কক্ষ করলেও এবং তাদের জন্য আলাদা স্পিকার নিয়োগ করলেও অবাক হওয়ার কিছু নাই।
তারপর ধীরে ধীরে নারীদেরকে আইসোলেট করে ফেলা হবে।
যেহেতু এখন এমন একটা পজিশনে আছে যে নারীদেরকে সরাসরি ঘরে বন্দী করা যাবে না, কিন্তু পোর্টেবল ঘর তৈরি করা যাবে—যেখানে শুধু নারী থাকবে।
এটা হচ্ছে আধুনিক ঘরবন্দী করার ফর্মুলা।
তবে আমার অনুমান বলতেছে, এই বাসগুলোর ভবিষ্যৎ ভালো না। এগুলা সর্বোচ্চ ৬ মাস মতো চলবে, তারপর যাত্রী সংকটে বন্ধ হয়ে যাবে।
কারণ এর আগেও এমন চালু হয়েছিল। আমরা তখনও প্রতিবাদ করেছিলাম—এভাবে নারী-পুরুষকে আইসোলেট করলে এটার ফল ভালো হবে না। এবং ওটা ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে গেছে।
কেউ বলতে পারবেন, ওটা বন্ধ হওয়ার কারণ কী?
কেউ বন্ধ করতে চায় নাই; বন্ধ হয়েছে যাত্রী সংকটে।
কারণ নারী বলে কি সারাদিন পরিশ্রম করা একজন নারী রাস্তায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকবে নির্দিষ্ট বাস কখন আসবে তার জন্য? এটা অবাক বিষয়!
নারীরা এখন যেখানে উবার-পাঠাও চালায়, নিজে বাইকে চলে যেতে পারে, সেখানে নারীদেরকে পোর্টেবল একটা বস্তাবন্দী জীবন উপহার দিচ্ছে। এটা বেশিদিন টিকে না।
ব্যর্থ শাসকের এমন কিছু অস্ত্র থাকে—এগুলো দুইদিন পরপর বাজারে ছেড়ে দিয়ে কিছুদিন সেটা নিয়ে মানুষ আলোচনা করে, মানুষকে ভুলিয়ে রাখার চেষ্টা করে। বেশিরভাগ কি কাজ হয় তাদেরকে মানে ধর্মীয় একটা গোষ্ঠীকে খুশি রাখার জন্য।
যখন কোনো কাজ করতে পারে না, যখন নারীদেরকে নিরাপত্তা দিতে পারে না, তখন এ ধরনের কাজ করে।
যে এই ধরনের বুদ্ধি দিয়েছে, সে আপাদমস্তক আবাল-মূর্খ। নিরাপত্তা দেওয়ার হেডাম নাই, তারাই এ ধরনের ফর্মুলা বের করেছে।
শুধু নিরাপত্তা না, পুরুষদের মনোভাবের পরিবর্তন জরুরি।
নারীদের জন্য আলাদা বাস, পুরুষের জন্য আলাদা বাস—এগুলাতে মনোভাব আরও বেশি তিক্ত হবে। ইন্টার্যাকশন না থাকলে শত্রুতা আরও বেড়ে যায়, এক ধরনের তীক্ষ্ণ মনোভাব তৈরি হয়।
নারী-পুরুষ এমন ভাগাভাগি করার আগে ভাবতে হবে—আমরা সবাই মানুষ।
একটা পুরুষ মানুষ যেটা করতে পারে, নারীদেরকেও সুযোগ দিলে সেটা করতে পারবে—আরও নিখুঁতভাবে করতে পারবে।
কিন্তু আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীদেরকে আগে থেকেই বলা হয়—“এটা নারীরা পারবে না।”
বেগম রোকেয়ার এই বিষয়ে একটা কথা আছে—নারীদেরকে এমনভাবে দীর্ঘদিন ধরে বুঝানো হয়েছে যে, নারীদের মন-মস্তিষ্ক নিজে থেকেই মেনে নিয়েছে, “হ্যাঁ, আমরা এটা পারব না।” তারপর তারা চেষ্টাই করে না।
এজন্য এই পপুলিস্ট কাজে কিছু নারী খুশি হয়েছে। তবে সব নারী খুশি হয়েছে—এমনটা না।
কারণ যে নারী ব্যবসা সামলাতে পারে, বড় অফিসের কাজ করতে পারে, যার নিজের আইডেন্টিটি আছে—তার সাথে কেউ হেনস্থা করে চলে যাবে, এমন ক্ষমতা কারও নাই। সে ঠাটিয়ে চড় মারার ক্ষমতা রাখে, প্রতিবাদ করার ক্ষমতা রাখে।
দুর্বল নারী, অশিক্ষিত নারী, যারা সামাজিকভাবে দুর্বলভাবে গড়ে উঠেছে—তারাই বেশি হেনস্থার শিকার হয়, যার নিজের আইডেন্টিটি এখনো সে তৈরি করতে পারে নাই। যেসব নারীর কোন নিজস্ব আইডি এন্টিটি নাই যে অন্যের আইডেন্টিটি সমাজে সামনে রেখে নিজেকে পরিচিতি দেয় তারা সব জায়গাতেই হেনস্থার শিকার হয় শুধু বাসে না তারা বাসাতেও হেনস্থার শিকার হয়।
মনে করেন, লোকাল একটা বাসে বা সাধারণ একটা বাসে কোনো নায়িকা, কোনো ভালো নারী ব্যবসায়ী, সেলিব্রেটি অথবা ইনফ্লুয়েন্সার উঠল এবং তার গন্তব্যে গেল—আপনি কি বলতে পারবেন সেই নারী হেনস্থার শিকার হবে?
জীবনেও হবে না।
কারণ তার যে পার্সোনালিটি, তার কাছে ওই হেনস্তাকারী টুকাই পৌঁছাতেই পারবে না।
সুতরাং নারীকে আগে নিজের আইডেন্টিটি তৈরি করতে হবে। তাকে নিজেকেই শক্তভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে অন্য কেউ হেনস্তা করতে আসলে অথবা মারতে আসলে সে নিজেই পাঁচবার ভাবে।
কিন্তু নারীরা যদি বলে—“আমাদেরকে এটা দাও, ওটা দাও, আমরা এটা করব”—সেই নারীরা খুশি হয়। কিন্তু এই নারীদের কারণে ভবিষ্যতে যে নারীরা নিজেদের নিজস্বতা তৈরি করতে চায়, তাদের পথে বাধা তৈরি হয়।
এটাও একটা ইনভেস্ট—যারা ধর্মীয় একটা রক্ষণশীলতা চায়, তাদের। তাদের পক্ষ থেকে অনেক নারীকে নিয়োগ দেওয়া হয় এ ধরনের বয়ান করার জন্য।
দেখা যাক কী হয়।
যাইহোক, শুভ সকাল। 🌞
✍️_____বারখার ডায়েরি (পৃষ্ঠা ৩৬৩১)