19/05/2026
যিলহজের প্রথম দশকের ইবাদত ও ফজিলত:
১. আল্লাহর কাছে শ্রেষ্ঠ দিনসমূহ
আল্লাহ তাআলা তাঁর সৃষ্ট জীবের মধ্যে একটিকে অপরটির ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। একটির ওপর অপরটিকে বেশি মর্যাদা দিয়েছেন। কিছু দিন ও কিছু মাসকে তিনি অন্যান্য দিন ও মাসের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। যিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনকে তিনি বছরের সর্বশ্রেষ্ঠ দিন সাব্যস্ত করেছেন। আবার এই দশ দিনের মধ্যে তিনি কুরবানির দিনকে সর্বোত্তম দিন হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। আর প্রতি সপ্তাহের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ দিন হলো জুমুআর দিন। পুরো বছরের রাতগুলোর মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ রাত হলো রমজানের শেষ দশ রাত্রি আবার এই দশ রাতের মধ্যে সর্বোত্তম হলো লাইলাতুল কদর তথা কদরের রাত।
২. বান্দার প্রতি বিশেষ উপহার ও অফার
বছরের কিছু দিনকে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের জন্য উপহার ও অফার হিসেবে দিয়েছেন। এগুলোর মাধ্যমে তিনি তাঁর তাওহীবাদী বান্দাদের ওপর তাঁর দয়ার প্রকাশ ঘটান। এই দিনগুলোর মধ্যে আছে যিলহজের প্রথম দশ দিন।
এই দিনগুলো আল্লাহ তাআলার ইবাদত ও আনুগত্যের সর্বোত্তম সময়। মুমিনগণ সারা বছর এই দিনগুলোর প্রতীক্ষায় থাকেন। তাওহীদবাদী বান্দাগণ এই দিনগুলোর অপেক্ষায় ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। কারণ এই দিনগুলো হলো মর্যাদা বৃদ্ধি, ক্ষতি পূরণ ও ত্রুটি দূর করার সর্বোত্তম সময়। তাই আমাদের কর্তব্য হলো, (ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে) এই দিনগুলোতে বেশি বেশি ইবাদত করা এবং আল্লাহ তাআলার অফুরন্ত দয়া ও অনুগ্রহ অন্বেষণ করা।
৩. যিলহজের প্রথম দশ দিন বছরের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ
সাধারণভাবে যিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন পুরো বছরের সর্বোত্তম দিন। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
"এমন কোনো দিন নেই, যে দিনসমূহের সৎকাজ আল্লাহ তাআলার নিকট যিলহজ মাসের এই দশ দিনের সৎকাজ অপেক্ষা বেশি প্রিয়।"
তখন সাহাবিগণ আরজ করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ তাআলার পথে জিহাদ করাও কি (এতটা প্রিয়) নয়?" রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জবাবে বললেন,
"আল্লাহ তাআলার পথে জিহাদও তার চেয়ে বেশি প্রিয় নয়। তবে জান-মাল নিয়ে যদি কোনো লোক আল্লাহ তাআলার পথে জিহাদে বের হয় এবং এ দুটির কোনোটি নিয়ে সে যদি আর ফিরে না আসতে পারে, তার কথা (অর্থাৎ সেই শহীদের মর্যাদা) আলাদা।"
৪. আমলের সর্বোত্তম সময়
এই দশ দিনে ফরজ আমলের ফজিলত অন্যান্য দিনে ফরজ আদায়ের তুলনায় বহুগুণে বেশি। আবার এই দিনগুলোতে নফল আমলের ফজিলত অন্যান্য দিনে নফল আদায়ের তুলনায় অনেক অনেক গুণ বেশি। তবে এই দিনগুলোতে নফল আমলের ফজিলত অন্যান্য দিনের ফরজের চেয়ে বেশি নয়।
৫. অন্য সময়ের তুলনায় বেশি ফজিলত
এই দিনগুলোতে ইবাদত করা অন্যান্য দিনগুলোর ইবাদতের তুলনায় অনেক বেশি ফজিলতপূর্ণ। এই দিনগুলোতে নামাজ, রোজা, কুরআন তিলাওয়াত, যিকির, দুআ, আল্লাহ তাআলার কাছে কাকুতি-মিনতি করা, মাতা-পিতার সাথে সদাচার করা, আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা, মানুষের প্রয়োজন পূরণ করা, অসুস্থদের দেখতে যাওয়া, জানাযার অনুসরণ করা, প্রতিবেশীর প্রতি অনুগ্রহ করা, ক্ষুধার্তকে খাবার খাওয়ানো ইত্যাদি সব ইবাদত অন্যান্য দিনগুলোর চেয়ে বেশি উত্তম।
৬. রমজানের শেষ দশ দিনের চেয়েও উত্তম
যিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন আমলের ফজিলত রাত-দিন সব সময় থাকে। তবে রমজানের শেষ দশকের রাত্রি যিলহজ মাসের প্রথম দশ রাতের চেয়েও বেশি উত্তম। কারণ রমজানে লাইলাতুল কদর আছে। আর যিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন রমজানের দিনগুলোর চেয়ে উত্তম। কারণ যিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনে আছে কুরবানির দিন, আরাফার দিন এবং তালবিয়া পাঠের দিন।।।
৭. বড় বড় সব নেক আমলের সম্মিলন
এই দশ দিনে যে পরিমাণ অনেক বড় বড় ইবাদতের সম্মিলন ঘটেছে, অন্য দিনগুলোর ক্ষেত্রে সেটা হয়নি। সেগুলো হলো হজ ও কুরবানি। পাশাপাশি নামাজ, রোজা, দান-সদাকা তো আছেই।।।
৮. আল্লাহ তাআলা এই দিনগুলোর শপথ করেছেন
যিলহজ মাসের প্রথম দশকের অন্যতম শ্রেষ্ঠত্ব হলো, আল্লাহ তাআলা এই ফজিলতপূর্ণ রাতগুলোর শপথ করেছেন। আল্লাহ তা'আলা বলেন,
"ঊষার শপথ এবং দশ রাতের শপথ।"
অধিকাংশ মুফাসসিরের মত অনুযায়ী, উল্লেখিত দশ রাত দ্বারা যিলহজ মাসের প্রথম দশ রাত উদ্দেশ্য।।
৯. কুরআনে ঘোষিত বরকতময় দিন
এই দিনগুলোতে আল্লাহ তাআলা তাঁর দানকৃত পশুগুলোর ওপর তাঁর নাম স্মরণ করতে আদেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,
"যাতে তারা তাদের জন্য (রাখা দুনিয়া ও আখিরাতের) কল্যাণগুলো প্রত্যক্ষ করতে পারে, আর তিনি তাদেরকে চতুষ্পদ জন্তু হতে যে রিযিক দান করেছেন, নির্দিষ্ট দিনগুলোতে তার ওপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতে পারে। কাজেই তোমরা (নিজেরা) তা থেকে খাও আর দুঃস্থ-অভাবীদের খাওয়াও। সত্য
অধিকাংশ মুফাসসিরদের মতে, এখানে "নির্দিষ্ট দিনগুলো" দ্বারা যিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন উদ্দেশ্য।
১০. হজের সর্বশেষ সময়
যিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন হলো হজের নির্দিষ্ট মাসসমূহের সর্বশেষ সময়। এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন,
"হজের নির্দিষ্ট কয়েকটি মাস আছে।"
নির্দিষ্ট মাসসমূহ হলো: শাওয়াল, যিলকদ ও যিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন। যেমনটা উমর, আবদুল্লাহ ইবনু উমর, আলি, ইবনু মাসউদ, ইবনু আব্বাস, ইবনু যুবাইর-সহ অন্যান্য অনেক সাহাবি থেকে বর্ণিত আছে। রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন। অধিকাংশ তাবিয়িও একই মত পোষণ করেছেন।।
১১. আরাফার দিন
যিলহজ মাসের প্রথম দশকের অন্যতম শ্রেষ্ঠত্ব হলো, এই দিনগুলোর মধ্যে আছে আরাফার দিন। যেদিন আল্লাহ তাআলা দ্বীন ইসলামকে পরিপূর্ণ করেছেন এবং মুসলিমদের ওপর তাঁর নিয়ামতকে পূর্ণতা দান করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,
"আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের ওপর আমার নিয়ামত পরিপূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে ইসলামকে (চিরদিনের জন্য) পছন্দ করে নিলাম।]
১২. বড় হজের দিন
যিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের অন্যতম শ্রেষ্ঠত্ব হলো, এই দিনগুলোর মধ্যে আছে কুরবানির দিন। যেদিনকে বড় হজের দিন হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আল্লাহ তাআলা বলেন,
"আর বড় হজের দিন মানুষের প্রতি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে ঘোষণা, নিশ্চয় আল্লাহ মুশরিকদের থেকে দায়মুক্ত এবং তাঁর রাসূলও। অতএব, যদি তোমরা তাওবা করো, তাহলে তা তোমাদের জন্য উত্তম। আর যদি তোমরা ফিরে যাও, তাহলে জেনে রাখো, তোমরা আল্লাহকে অক্ষম করতে পারবে না। আর যারা কুফরি করেছে, তাদের যন্ত্রণাদায়ক আযাবের সুসংবাদ দাও।
এই দিনটি আল্লাহ তাআলার নিকট সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ দিন। যেমনটা হাদীসে এসেছে। নবি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
"প্রাচুর্যময় মহান আল্লাহর কাছে সবচেয়ে মর্যাদাসম্পন্ন দিন হলো কুরবানির দিন, তারপর মেহমানদারির দিন।"
বা মেহমানদারির দিন হলো কুরবানির পরের দিন। এই দিনের এই নামকরণের কারণ হলো, মানুষ তাওয়াফে ইফাদা ও কুরবানি থেকে ফারেগ হওয়ার পর মিনায় মেহমানদারি করে।
১৩. ফজিলতের কারণ
এই দিনগুলোতে নেক আমল অন্যান্য দিনেনেক আমল করার চেয়ে উত্তম। এই দিনগুলো মর্যাদাপূর্ণ হওয়ার কারণে সকল মুসলিমগণ এই ফজিলত লাভকরেন। আর হাজীগণ এই দিনগুলো এবং বাইতুল্লাহর মর্যাদার কারণে এই ফজিলত লাভ করেন।
১৪. সালফে সালেহীনদের আমল
সলফে সালেহীনগণ আগ্রহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে এই দিনগুলোতে বেশি বেশি ইবাদত করতেন। তাঁরা এই দিনগুলোর সম্মান ও কদর করতেন। যিলহজ মাসের প্রথম দশকে সাঈদ ইবনু যুবাইর রাহিমাহুল্লাহ অনেক বেশি ইবাদত করতেন। তিনি এত বেশি ইবাদত করতেন যে, স্বাভাবিকভাবে সেটা মানুষের সাধ্যের বাইরে বলে মনে হতো। তিনি অন্যদেরকে যিলহজ মাসের প্রথম দশকের রাত্রিগুলোতে ইবাদত করার উৎসাহ দিয়ে বলতেন, "তোমরা যিলহজ মাসের প্রথম দশকের রাত্রিগুলোতে বাতি নিভিয়ে রেখো না।" অর্থাৎ এক মুহূর্তও ইবাদত ছাড়া কাটিও না।
আবু উসমান আন-নাহদি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, "সাহাবি ও তাবিয়িগণ তিনটি দশকের রাত্রিগুলোকে খুব বেশি সম্মান ও কদর করতেন-রমজানের শেষ দশ রাত্রি, যিলহজের প্রথম দশ রাত্রি এবং মুহাররমের প্রথম দশ রাত্রি।"
১৫. অলসতা নয়
প্রত্যেক মুসলিমের কর্তব্য হলো যিলহজ মাসের প্রথম দশকের রাত্রি ও দিনগুলোকে গনিমত মনে করা। এই সময়গুলো ইবাদত ও নেক আমলে পার করা। পুরোটা সময় আল্লাহ তাআলার আনুগত্য ও নৈকট্য অর্জনের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করা।
একটি আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, আমরা রমজানের শেষ দশকে উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে আমল করি। কিন্তু যিলহজের এই ফজিলতপূর্ণ দিনগুলোতে অলস ও উদাসীন থাকি। অথচ এই দিনগুলো রমজানের দিনগুলোর চেয়ে বেশি মর্যাদাপূর্ণ ও উত্তম। এই দিনগুলোর আমল আল্লাহ তাআলার নিকট বেশি প্রিয় ও বেশি মর্যাদাপূর্ণ।
১৬. কোনোভাবেই সময় নষ্ট করা যাবে না
লক্ষ রাখতে হবে, কোনোভাবেই যেন এই দিনগুলোতে সময় নষ্ট না হয়। বেশি ঘুম, বিশ্রাম, অনলাইনে সময় কাটানো, আড্ডা দেওয়া ইত্যাদি কোনোভাবেই এই দিনগুলোতে সময় নষ্ট করা যাবে না। কারণ এই দিনগুলো আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার ও অফার। এই সুবর্ণ সুযোগ কোনোভাবেই হাতছাড়া করা যাবে না।
১৭. কবুল হজ
এই দিনগুলোর আমলের মধ্যে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ আমল হলো হজ্জে মাবরুর তথা কবুল হজ। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
'আর জান্নাতই হলো হজ্জে মাবরুরের প্রতিদান।'
বিশেষ করে, আদায়কৃত হজটি যদি হয় ফরজ হজ। হজ আদায় করতে হবে পরিপূর্ণরূপে। গুরুত্ব দিয়ে হজের ফরজ ও ওয়াজিবগুলো আদায় করতে হবে। হারাম ও নিষিদ্ধ কাজসমূহ পরিহার করতে হবে। পাশাপাশি আশেপাশের মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে। যেমন: তাদেরকে সালাম দেওয়া ও খাবার খাওয়ানো। হজের প্রতিটি মুহূর্তে বেশি বেশি আল্লাহ তাআলার যিকির চালু রাখতে হবে। বিশেষ করে আওয়াজ করে তালবিয়া পাঠ করতে হবে এবং কুরবানি করতে হবে।।।
১৮. সর্বাবস্থায় যিকির
যিলহজের প্রথম দশকে বেশি বেশি আল্লাহ তাআলার যিকির করা সুন্নত। দাঁড়িয়ে, বসে, শুয়ে, যানবাহনে, হাঁটতে হাঁটতে-মোটকথা সব সময় সর্বাবস্থায় যিকির চালু রাখবে।
১৯. তাসবিহ-তাহলিল-তাহমিদ
এই দিনগুলোতে বেশি বেশি আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার ও লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠ করা উচিত। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
"এই দশ দিনে নেক আমল করার চেয়ে আল্লাহর কাছে বেশি প্রিয় ও মহান কোনো আমল নেই। তাই তোমরা এই সময়ে তাহলিল, তাহমিদ, তাসবিহ ও তাকবির বেশি বেশি করে পড়ো।
আল্লাহ তাআলা হাজীদের সম্পর্কে বলেছেন,
"যাতে তারা তাদের জন্য (রাখা দুনিয়া ও আখিরাতের) কল্যাণগুলো প্রত্যক্ষ করতে পারে, আর তিনি তাদেরকে চতুষ্পদ জন্তু হতে যে রিযিক দান করেছেন, নির্দিষ্ট দিনগুলোতে তার ওপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতে পারে। "
২০. চিরস্থায়ী নেক আমল
তাকবির, তাসবিহ, তাহমিদ ও তাহলিল-এগুলো হলো চিরস্থায়ী নেক আমল ও জান্নাতে বীজ বপন। এই বাক্যগুলো আল্লাহ তাআলা এবং আমাদের নবি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট পুরো পৃথিবীর চেয়েও বেশি প্রিয়। এই দিনগুলোতে আওয়াজ করে যিকির করা উচিত। শুয়ে-বসে, দাঁড়িয়ে, হাঁটতে-হাঁটতে, চলতে-ফিরতে, ঘরে-বাইরে, মসজিদে, রাস্তায়-মোটকথা সব জায়গায় সব সময় যিকির চালু রাখা উচিত।
২১. উচ্চস্বরে তাকবির
শীর্ষস্থানীয় ও গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সাধারণ মুসলিমদের উচিত এই দিনগুলোতে বিভিন্ন বৈঠকে, মজলিসে, জমায়েতে ও ঘরে-বাইরে জোরেসোরে তাকবির দেওয়া। প্রয়োজনে দূরে আওয়াজ পৌঁছানোর জন্য বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রও ব্যবহার করা যেতে পারে।
২২. দুজন সাহাবির আমল
আবদুল্লাহ ইবনু উমর ও আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুমা যিলহজ মাসের প্রথম দশকে বাজারে গিয়ে জোরে জোরে তাকবির দিতেন এবং লোকেরাও তাঁদের তাকবির শুনে তাকবির দিত।
তাবিয়ি মায়মুন বিন মিহরান বলেন, "আমি দেখেছি, লোকেরা যিলহজ মাসের প্রথম দশকে জোরে জোরে তাকবির দিত। সেই তাকবিরের সাথে সুর মিলিয়ে আমরাও তাকবির দিতাম।"
২৩. সাহায্য ও বিজয় কামনা করা
এই দিনগুলোতে তাকবিরের সাথে সাথে আমরা আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সাহায্যের আশা করতে পারি। তাকবিরের মাধ্যমেই তো খাইবার বিজয় হয়েছে এবং অন্য শহরও বিজিত হবে এবং আল্লাহর অনুগ্রহে শত্রুরা পরাজিত হবে।
২৪. তাকবিরের প্রকারভেদ
তাকবির দুই প্রকার: সাধারণ তাকবির ও নির্দিষ্ট তাকবির। সাধারণ তাকবির হলো যিলহজ মাসের প্রথম দশকে সব সময়, সর্বাবস্থায় তাকবির দেওয়া। এই তাকবির চলবে আইয়ামে তাশরীক শেষ হওয়া পর্যন্ত। এই সময় সর্বদা মুসলিমগণ উচ্চস্বরে যিকির করবে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
"আর তিনি তাদেরকে চতুষ্পদ জন্তু হতে যে রিযিক দান করেছেন, নির্দিষ্ট দিনগুলোতে তার ওপর আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতে পারে। সম
২৫. আইয়ামে তাশরীকের তাকবির
নির্দিষ্ট তাকবির হলো ফরজ নামাজের পরের তাকবির। হাজীদের জন্য কুরবানির দিন যুহর থেকে এবং বাদবাকি মুসলিমের জন্য আরাফার দিন ফজর থেকে শুরু হয়ে আইয়ামে তাশরীকের তৃতীয় দিন আসর পর্যন্ত এই তাকবির চলবে।
২৬. সর্বোত্তম তাকবির
উত্তম হলো তাকবিরের ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরাম ও সালফে সালেহীন থেকে বর্ণিত নীতি অনুসরণ করা। হাদীসে বর্ণিত তাকবিরের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ বাক্যটি হলো,
আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হামদু।
এক্ষেত্রে অন্য শব্দে বর্ণিত বাক্যও পড়া যাবে।
২৭. যিলহজ মাসের রোজা
যিলহজ মাসের নবম দিন রোজা পালন করা মুস্তাহাব। সামর্থ্য অনুযায়ী প্রথম দশকের অন্যান্য দিনেও রোজা পালন করা যায়। বিভিন্ন হাদীসে এ ব্যাপারে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে এবং সালাফদের থেকেও যিলহজ মাসের প্রথম দশকে রোজা পালনের কথা বর্ণিত হয়েছে। রোজা গুনাহ মুছে দেয় এবং জাহান্নাম ও গুনাহের পথে ঢাল হয়ে দাঁড়ায়। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
'যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় এক দিনও রোজা পালন করে, আল্লাহ তার মুখমণ্ডলকে জাহান্নামের আগুন হতে সত্তর বছরের রাস্তা দূরে সরিয়ে নেন। সম
২৮. আরাফার দিনের রোজা
হাজী সাহেবগণ ছাড়া অন্যদের জন্য আরাফার দিনের রোজা বিরাট গনিমত এই এক দিনের রোজা দুই বছরের গুনাহ মুছে দেয়। রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
'আর আরাফা দিবসের রোজা সম্পর্কে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, তাতে পূর্ববর্তী বছর ও পরবর্তী বছরের গুনাহের ক্ষতিপূরণ হয়ে যাবে।।খ
২৯. রাত থেকেই নিয়ত করা
আরাফার দিনের রোজা-সহ অন্যান্য নির্দিষ্ট নফল রোজার ক্ষেত্রে লক্ষণীয় হলো রাত থেকেই রোজার নিয়ত করা। যেন প্রতিদান পরিপূর্ণ হয়। ত্রুটিপূর্ণ না হয়।
৩০. পরিবার-পরিজনকে জাগিয়ে দেওয়া
পরিবার-পরিজন ও সন্তান-সন্ততিসহ অন্য যাদের ওপর আমাদের কর্তৃত্ব আছে, তাদেরকে আরাফার দিনের রোজার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান ও উপদেশ দেওয়া উচিত। সাঈদ ইবনু যুবাইর রাহিমাহুল্লাহ বলতেন, "তোমরা তোমাদের খাদিম তথা অধীনস্থদেরকে আরাফার দিনের রোজার সাহরি খাওয়ার জন্য জাগিয়ে দাও।"
৩১. আমার সব গুনাহ যেন মাফ হয়ে যায়
আল্লাহ তাআলার কাছে এই ব্যাপারে আশাবাদী হওয়া যে, আরাফার দিনের সূর্য অস্ত যাওয়ার সাথে সাথে যেন আমার সব গুনাহ মাফ হয়ে যায়।
৩২. এক খতম কুরআন
যিলহজ মাসের প্রথম দশকের অন্যতম একটি লাভজনক ব্যাবসা হলো, চিন্তাভাবনা ও তাদাব্বুরের সাথে পুরো কুরআন খতম দেওয়া। কেননা আল্লাহ তাআলা স্বাভাবিকভাবে কুরআনের প্রতি আয়াতে একটি থেকে দশটি পর্যন্ত নেকি দান করেন। অতএব, এই দিনগুলোতে নিশ্চয়ই নেকি ও প্রতিদান আরও বেশি হবে।
৩৩. রাতের নামাজ
মুসলিমগণ ফরজ নামাজের পর সর্বোত্তম নামাজ হলো রাতের নামাজ। রমজানের রাতগুলোতে নামাজ আদায়ের ব্যাপারে অবহেলা করেন না। অতএব, তারা যেন যিলহজের প্রথম দশকের রাতগুলোতেও নামাজ আদায়ে সচেষ্ট হন এবং এ বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন।
৩৪. একটি অবহেলিত আমল
এই দিনগুলোতে যেন আমাদের অবশ্যই নিম্নে বর্ণিত আমলে অংশগ্রহণ থাকে। আল্লাহ তাআলা বলেন,
"যারা ধৈর্যশীল, সত্যবাদী, আনুগত্যশীল ও ব্যয়কারী এবং শেষ রাতে ক্ষমাপ্রার্থনাকারী।
"রাতের সামান্য অংশই এরা ঘুমিয়ে কাটাত। আর রাত্রির শেষ প্রহরে ক্ষমা প্রার্থনা করত। শখ
কারণ এই সময়টা হলো আল্লাহ তাআলার করুণা বর্ষণ, ক্ষমা প্রাপ্তি, দুআ কবুল ও আবেদন পূরণ হওয়ার সময়। হে আল্লাহ! আপনি আমাদেরকে আপনার অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত করবেন না!
৩৫. দান-সদাকা
দান-সদাকা করা অনেক বড় ইবাদত। দান-সদাকা ব্যক্তির ঈমানের সত্যতার প্রমাণ। দান-সদাকাকারী ব্যক্তি কিয়ামতের দিন আরশের ছায়ার নিচে স্থান পাবে। দান-সদাকা ব্যক্তিকে বিপদাপদ থেকে রক্ষা করে এবং তার পাপ মোচন করে। পাশাপাশি আল্লাহ তাআলার ক্রোধ নিয়ন্ত্রণ করে। দান-সদাকা রিযিক ও ধনসম্পদে বরকতের অন্যতম উপায়। দান-সদাকাকারী ব্যক্তিকে আল্লাহ তাআলা সর্বোত্তম প্রতিদান দান করেন।
এ কথা তো বলার অপেক্ষা রাখে না যে, যিলহজ মাসের প্রথম দশকে দান-সদাকা করা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ফজিলতপূর্ণ ও উত্তম।
৩৬. মুসলিম ভাইকে খুশি করা
আল্লাহ তাআলার নিকট অন্যতম প্রিয় আমল হলো প্রয়োজন পূরণ, দান-সদাকা বা আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার মাধ্যমে অন্য মুসলিমকে খুশি করা। আর এই আমল যদি করা হয় যিলহজ মাসের প্রথম দশকে, তাহলে সেটা আল্লাহ তাআলার কাছে আরও কত বেশি প্রিয় হবে! কল্পনা করা যায়!
৩৭. হাজীদের পরিবারের খোঁজখবর রাখা
অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ নেক আমল হলো হাজীদের পরিবারের খোঁজখবর রাখা, তাদের সাথে ভালো ব্যবহার করা এবং তাদের শিশুদের দেখাশোনা করা। হাদীসে এসেছে, 'যে ব্যক্তি কোনো হাজী সাহেবকে প্রস্তুত করে দেবে অথবা তার পরিবারকে দেখাশোনা করবে, সে হাজী সাহেবের সমান প্রতিদান পাবে। এতে হাজী সাহেবের প্রতিদান একটুও কমবে না।'
৩৮. কুরবানি
যিলহজ মাসের প্রথম দশকের অন্যতম বড় আমল হলো ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করা এবং পশু কুরবানির মাধ্যমে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জন করা। এ দুটি কাজ রাসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নত। আল্লাহ তাআলা বলেন,
"সুতরাং তুমি নিজ প্রতিপালকের (সন্তুষ্টি অর্জনের) জন্য নামাজ পড়ো ও কুরবানি দাও।”
৩৯. চুল ও নখ না কাটা
যারা কুরবানি করবে, তারা যিলহজের প্রথম দশকে চুল ও নখ কাটা থেকে বিরত থাকবে। যিলহজ মাস শুরু হওয়ার সাথে সাথে এই আমল শুরু করতে হবে। নবি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,
"যদি তোমরা যিলহজ মাসের (নতুন চাঁদ দেখতে পাও) আর তোমাদের কেউ কুরবানি করার ইচ্ছা করে, তবে সে যেন তার চুল না ছাটে ও নখ না কাটে।
৪০. নব উদ্যমে আমল শুরু করা
যে মনে করে তার কাঙ্ক্ষিত বস্তুটা লাভ করা তার পক্ষে খুবই সহজ, সে এটার জন্য কতটা আগ্রহী হয়ে খরচ করবে! অতএব মনে রাখতে হবে, আল্লাহ তাআলার পণ্য অনেক দামি। আল্লাহ তাআলার পণ্য হলো জান্নাত। তাই আমরা যেন নেক আমল বাড়িয়ে দেই। সব ধরনের গুনাহ ও অবাধ্যতা ছেড়ে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সাথে আল্লাহ তাআলার কাছে তাওবা করি। কৃত গুনাহের জন্য লজ্জিত ও অনুতপ্ত হই। ভবিষ্যতে গুনাহ না করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হই। কারও হক বা অধিকারে হস্তক্ষেপ করে থাকলে সেটা ফিরিয়ে দিই। যিলহজ মাসের এই দশ দিন যেন হয় আমার নব উদ্যমে পথ চলার নতুন প্রেরণা। আল্লাহ তাআলা বলেন,
"হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা করো-আন্তরিক তাওবা। সম্ভবত তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের মন্দ কাজগুলোকে তোমাদের থেকে মুছে দিবেন, আর তোমাদেরকে দাখিল করবেন জান্নাতে, যার তলদেশ দিয়ে বয়ে চলেছে ঝর্নাধারা। সেদিন আল্লাহ তাআলা নবিকে আর তার সঙ্গে যারা ঈমান এনেছিল-তাদেরকে লজ্জিত করবেন না। (সেদিনের ভয়াবহ অন্ধকার থেকে রক্ষার ব্যবস্থা হিসেবে) নূর দৌড়াতে থাকবে তাদের সামনে আর তাদের ডানে। তারা বলবে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের নূরকে আমাদের জন্য পরিপূর্ণ করে দাও। আর আমাদেরকে ক্ষমা করো; তুমি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।"
৪১. যিকির-আযকার ও নামাজ
প্রত্যেক বিচক্ষণ মুমিন বড় বড় আমলের মাধ্যমে এই দিনগুলো অতিবাহিত করবে। যেমন: আল্লাহর যিকির-আযকার, নামাজ ইত্যাদি নেক আমল। যেন প্রতিদান ও উপকার বেশি হয়।
৪২. গুনাহের ধারেকাছেও যাব না
যিলহজের প্রথম দশকে বেশি বেশি নেক আমল করা এবং গুনাহ পরিহার করা একজন মুসলিমকে আল্লাহর নিদর্শন ও নির্ধারিত সীমারেখাকে সম্মান করতে শেখায়। কারণ এই দশ দিন হলো আল্লাহ তাআলার সম্মানিত একটি মাসের দশ দিন। আল্লাহ তাআলা সম্মানিত মাসসমূহ সম্পর্কে বলেন,
"আসমান-জমিন সৃষ্টির দিন থেকেই আল্লাহর কিতাবে (লওহে মাহফুজে) মাসগুলোর সংখ্যা হলো বারো। তার মধ্যে চারটি নিষিদ্ধ মাস। এটা হলো সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন। সুতরাং তোমরা এ মাসসমূহে নিজদের ওপর কোনো জুলুম কোরো না। আর তোমরা সকলে মুশরিকদের সাথে লড়াই করো, যেমনিভাবে তারা সকলে তোমাদের সাথে লড়াই করে। আর জেনে রাখো, নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকিদের সঙ্গে আছেনl
"কেউ (আল্লাহর) নিদর্শনাবলীকে সম্মান করলে এটা তো তার হৃদয়ের তাকওয়ারই বহিঃপ্রকাশ।
"আর কেউ আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত পবিত্র বিষয়সমূহের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করলে, তার রবের নিকট তা উত্তম।"
৪৩. পুরো বছরের রসদ
যিলহজ মাসের প্রথম দশকে বেশি বেশি নেক আমল করা এবং কল্যাণ ও মহৎ কাজে এগিয়ে থাকা এবং আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে পাওয়া এই সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগানোর মাধ্যমে একজন ব্যক্তি নিজেকে আল্লাহর আনুগত্যের ব্যাপারে অভ্যস্ত করে তুলতে সক্ষম হয়। এতে তার ঈমান বৃদ্ধি পায়। এই দশ দিনের ইবাদত তাকে পুরো বছর আমলের ওপর চলতে সাহায্য করে।
৪৪. আমাদের অধীনস্থ যারা
আমাদের স্ত্রী-সন্তান (ও আমাদের অধীনস্থরা) আমাদের কাছে আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে আমানত। হাদীসে এসেছে,
'তোমরা প্রত্যেকেই জিম্মাদার। আর প্রত্যেকেই তার অধীনস্থদের সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হবে।
তাই এই দিনগুলো কাজে লাগানোর ব্যাপারে আমাদের স্ত্রী-সন্তানকে অবশ্যই তাগিদ দিতে হবে। তাদেরকে বেশি বেশি ইবাদতের ব্যাপারে উৎসাহ দিতে হবে। এই দিনগুলোর ইবাদতের ফজিলত বর্ণনা করে তাদেরকে আগ্রহী করে তুলতে হবে। যেন তারা ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে এই দিনগুলো কাজে লাগায়। আর অবশ্যই আমরা যেন হই এক্ষেত্রে তাদের উত্তম আদর্শ।
আমরা যেন এই দিনগুলোকে অবশ্যই অবশ্যই গনিমত মনে করি। মৃত্যুর আগেই যেন আমরা যথাযথভাবে নেক আমল করে যেতে পারি। আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনা করি, আল্লাহ তাআলা যেন আমাদেরকে এবং সকল মুসলিমকে কল্যাণ ও নেক আমলের এই সুবর্ণ সুযোগ কাজে লাগানোর তাওফিক দান করেন। তিনি যেন আমাদেরকে তাঁর যিকির, শোকরিয়া আদায় ও ইবাদতের ক্ষেত্রে সাহায্য করেন।
সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তাআলার জন্য, যিনি বিশ্বজগতের প্রতিপালক।
বই: যিলহজের প্রথম দশক