12/08/2024
সন্তোষকে দিয়ে এসেছি, আমরা বেঁচে আছি, আমাদের অনেক সম্মান
হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং থানার এসআই সন্তোষ। বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল থানা। এইতো কয়েকমাস হলো বিয়ে করেছে। ২০২৪সালের জুলাইয়ের ১৮তারিখ বানিয়াচং থানার শহীদ মিনার এলাকায় পুলিশের দুবৃত্তরা পুলিশের একটি গাড়ি ভাংচুর করে। সেই গাড়ি ভাংচুর এর মামলা হয়। সেই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হয় এসআই সন্তোষ। যেহেতু, পুলিশ ইজ্জতবিহীন একটি বিভাগ, না অধিদপ্তর, না বাহিনী, পুলিশ হল তৃতীয় লিঙ্গের একটি নাম, তাই উক্ত মামলায় বিভিন্ন গ্রেফতার ইস্যূতে এক শ্রেনীর জনগন সন্তোষের প্রতি ক্ষিপ্ত থাকে। ০৫/০৮/২০২৪ইং তারিখ বানিয়াচং থানা আক্রমন হয়। কয়েক হাজার লোক থানা ঘেরাও করে। পুলিশ নিজের জানমাল এবং রাষ্ট্রিয় সম্পদ রক্ষার জন্য পুলিশ তার ভূমিকা রাখে। উত্তেজিত জনতা হতাহত হয়। সেখানে অগ্রনী ভূমিকা রাখে এসআই সন্তোষ। উত্তেজিত জনতার সমস্ত রোষ গিয়ে পড়ে সন্তোষের উপর। সেনাবাহিনীকে সেখানে আহবান করা হয়। সেনাবাহিনী উত্তেজিত জনতার সাথে কথা বলে আলোচনার মাধমে পুলিশদের রেসকিউ করতে চায়, কিন্তু উত্তেজিত জনতা তাহা মানতে চায় নাই, এক পর্যায়ে সেনাবাহিনী জনগনের তোপের মুখে থানার গেইট খুলে দেয়। উত্তেজিত জনতা থানার ভিতরে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ করে। পুলিশের গাড়িগুলি পুড়াইয়া দেয়। জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন মহলের নেতৃবৃন্ধ মাননীয় পুলিশ সুপারের অনুরোধে সেখানে গিয়ে উত্তেজিত জনতাকে বুঝানোর চেষ্টা করে কিন্তু তাহাদের দাবী একটাই সন্তোষকে তাহাদের নিকটি দিয়ে আসতে হবে। সন্তোষকে তাহাদের হিংস্র নখের আঁচরে ক্ষতবিক্ষত করে ছোট্ট প্রানটা যতক্ষন পর্যন্ত না বের হয় ততক্ষন পর্যন্ত তান্ডব নৃত্য করবে। পুলিশ সুপার টিম নিয়ে বানিয়াচং যান, জনগনের তোপের মুখে তিনি টিকতে পারেননি। এডিশনাল ডিআইজি মহোদয় কথা বললেন ডিআইজি মহোদয়ের সাথে, ডিআইজি মহোদয় বললেন যা ভালো হয় কর। আ্যাডিশনাল ডিআইজি মহোদয় বললেন স্যার, তা কি করে হয়। তারপর দিন গড়িয়ে রাত। রাত অনুমান ৮/৯টার সময় জনগনের তোপের মুখে সেনাবাহিনীর রেসকিউ টিম অবরুদ্ধ পুলিশদের নিয়ে গাড়িতে উঠানোর সময় সন্তোষকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়। হাজার হাজার উত্তেজিত জনতা সন্তোষকে -----------------------(লিখা যাচ্ছে না যে আর)। সন্তোষের নিথর দেহ পড়ে থাকে থানার পাশের রাস্তায়। কেউ যায় নাই সন্তোষের মৃতদেহ আনতে, কাহারো কোন মাথা ব্যাথাও নেই। ঐ রাতে বুকফাটা আর্তনাদ করা ছাড়া কিছু ছিল না। সারারাত অফিসে বসে কাটিয়েছি। হিংস্র বাঘের খাঁচায় সন্তোষ কি চিৎকার করেছিল? ও মাগো বলে চিৎকার করেছিল. স্যার আমাকে রেখে যাইয়েন না। স্যার আমাকে বাঁচান বলে চিৎকার করেছিল? সন্তোষ কি ধুকপুক মনে ভাবছিল আমার স্যার, আমার সহকর্মী আমাকে রেখে তাহাদের জীবন রক্ষায় ব্যাস্ত। বড় বড় রুমে বসে সবজান্তা বড় অফিসাররা কি সন্তোষের আর্তচিৎকার শুনতে পায়? ঐ রাতে সন্তোষের মৃতদেহ রাস্তায় পড়ে থাকে বেওয়ারিশ লাশের মতো, পরদিন ছবি আসে তাহাকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় গাছে ঝুলিয়ে রেখেছে পুলিশের হ্যাডামধারী দারোগা পদবীকে। ঐ রাতে পুলিশ অফিসে ৪ইন্সপেক্টার, ০১এসআই, ০১এএসআই, ০১ নায়েক,০২কনস্টেবল ছাড়া কেউ ছিলাম না। ক্রিমযুক্ত কেক খাওয়া কোন মান্যবর ছিল না। হয়ত ছিল সার্কিট হা্উসে কড়া নিরাপত্তায়। আমরা অভিভাবকশুন্য। যাই হোক সম্মান নিয়ে বেঁচেতো আছি এইতো বেশ। এই কথাগুলো লিখতে লিখতে মুখে অনেক থুথু জমা হয়েছে, একটু ফেলে নিই।
(আমার এই লেখা শুধু পুলিশের জন্য)