14/08/2026
পার্টনারশিপ বিজনেস: ব্যবসা শুরুর আগে যে বিষয়গুলো জানা জরুরি।
আপনি কি বন্ধুর সাথে বা পরিবারের সদস্যদের সাথে পার্টনারশিপ বিজনেস শুরু করতে যাচ্ছেন? তাহলে অবশ্যই এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো জেনে নিন, না হলে ভবিষ্যতে বড় সমস্যায় পড়তে পারেন!
অনেকেই বিশ্বাসের ভিত্তিতে পার্টনারশিপ ব্যবসা শুরু করেন, কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায় ঝগড়া, টাকা-পয়সার সমস্যা বা দায়িত্ব নিয়ে মতানৈক্য দেখা দেয়। তাই, পার্টনারশিপ ব্যবসা করার আগে এই ৭টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা দরকার।
১. লিখিত পার্টনারশিপ চুক্তি(Partnership Deed) বাধ্যতামূলক!
➜ মৌখিক চুক্তি নয়, লিখিত চুক্তি করতেই হবে!
➜ বিনিয়োগ কে কত করবে?
➜ লাভ-লোকসান কীভাবে ভাগ হবে?
➜ ব্যবসার সিদ্ধান্ত কে নেবে?
➜ কে কোন দায়িত্ব পালন করবে?
➜ পার্টনার যদি ব্যবসা ছাড়তে চায়, তাহলে কী হবে?
➜ আইনগত সমস্যা হলে কীভাবে সমাধান হবে?
লিখিত চুক্তি না থাকলে ভবিষ্যতে সমস্যা হলে আদালতে ন্যায়বিচার পাওয়া কঠিন হতে পারে!
২. পার্টনারশিপ চুক্তিতে কত টাকার স্ট্যাম্প লাগবে?
বাংলাদেশের স্ট্যাম্প আইন অনুযায়ী (Stamp Act, 1899)— ব্যবসার মূলধনের পরিমাণ যদি ১ (এক) লক্ষ টাকার কম হয় তাহলে ৳২০০০ টাকার স্ট্যাম্প এবং ১ (এক) লক্ষ টাকার অতিরিক্ত হলে ৳৪০০০ টাকার স্ট্যাম্প লাগবে। আমার আইন পেশায় দেখেছি, অনেকে ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে এমন ধরনের চুক্তি করে থাকেন, যা কোনোভাবেই আইনসম্মত নয়। যথাযথ স্ট্যাম্প না থাকলে চুক্তি’র আইনি ভিত্তি দুর্বল হয়ে যায়!
৩. পার্টনারশিপে সর্বোচ্চ কতজন সদস্য থাকতে পারে?
কোম্পানী আইন, ১৯৯৪ অনুসারে যৌথ কারবারে সর্বনিম্ন দুজন আর সর্বোচ্চ ২০ জন অংশীদার নেয়া যায়। তবে যৌথ কারবারটি যদি ব্যাংক ব্যবসার জন্য প্রতিষ্ঠা হয়ে থাকে, সে ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ জন অংশীদার অনুমোদিত।
৪. পার্টনারশিপ ব্যবসার জন্য রেজিস্ট্রেশন প্রয়োজন?
বাংলাদেশে পার্টনারশিপ ব্যবসার জন্য রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক নয়, তবে এটি করা থাকলে অনেক সুবিধা পাওয়া যায়। অনেক সময় দেখা যায়, পার্টনারদের মধ্যে সমস্যা হলে একজন নিজেকে মালিক দাবি করেন, আরেকজন সেটা অস্বীকার করেন। রেজিস্ট্রেশন থাকলে এসব সমস্যা এড়ানো যায়। তবে এখানে আইনগত পরামর্শ হলো, RJSC (Register of Joint Stock Companies) তে পার্টনারশিপ রেজিস্ট্রেশন অবশ্যই করে নিবেন।
➜ অবশ্যই ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে!
➜TIN ও VAT রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।
৫. ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলবেন যৌথ নামে (Joint Account)
ব্যবসার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পার্টনারদের যৌথ নামে খোলা উচিত এবং লেনদেনের ক্ষেত্রে "Joint Signature Required" শর্ত দেওয়া উচিত। এতে এককভাবে কোনো পার্টনার টাকা তোলার সুযোগ পাবে না এবং ব্যবসার লেনদেন স্বচ্ছ থাকবে।
৬. ব্যবসা ছেড়ে গেলে করণীয় কী? (Exit Plan জরুরি!)
➜ যদি কোনো পার্টনার ব্যবসা ছাড়তে চান, তাহলে কীভাবে সেটি হবে?
➜ পার্টনার মারা গেলে তার মালিকানার অংশ কে পাবে?
➜ ব্যবসা বন্ধ করতে হলে সম্পদ ও দেনা কীভাবে ভাগ হবে?
"Exit Clause" না থাকলে একজন পার্টনার চলে যেতে চাইলে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে!
৭. পার্টনারশিপ ব্যবসার সাধারণ সমস্যা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা
➜ বিশ্বাসের অভাব – সব কিছু লিখিতভাবে করা জরুরি
➜ লাভ-লোকসান নিয়ে মতানৈক্য – আগেই চুক্তিতে ভাগাভাগির নিয়ম লিখতে হবে
➜ একজন বেশি ইনভেস্ট করছে, আরেকজন কম কাজ করছে – দায়িত্ব ও কাজের ভাগ চুক্তিতে উল্লেখ করুন
➜ একজন গোপনে ব্যবসার টাকা সরিয়ে নিচ্ছে – ব্যাংক লেনদেনে স্বচ্ছতা রাখতে হবে
আপনার জন্য পরামর্শ:
★ পার্টনারশিপ করতে হলে সাবধানতা অবলম্বন করুন!
★ পার্টনারশিপ বিজনেস সফল করতে হলে বিশ্বাস, স্বচ্ছতা, ও লিখিত চুক্তির বিকল্প নেই।
যদি এগুলো ঠিকভাবে মেনে চলেন, তাহলে ব্যবসা ঝামেলামুক্ত হবে এবং বড় করতে পারবে।
#পার্টনারশিপ #বিজনেস_আইন #উদ্যোক্তা #বাংলাদেশ