21/06/2024
আপনার এলাকার মসজিদের জন্য কি ধরনের এসি ভালো হবে? তা নিয়ে উদাহরণসহ আজ বিস্তারিত আলোচনা করব-
১) ক্যাসেট বা স্প্লিট টাইপ এসি কোনটা ব্যবহার করা উচিত?
>>উত্তরঃ আমাদের এলাকায় যে সকল মসজিদ রয়েছে সে সকল মসজিদের ফ্লোর থেকে সিলিং এর উচ্চতা সাধারণত ১০ ফুট থেকে ১৫ ফিট হয়ে থাকে; যদি আমরা ক্যাসেটটাইপ এসি ব্যবহার করি তাহলে সিলিং থেকে ক্যাসেট টাইপ এসির শেষ প্রান্ত হবে প্রায় ২.৫ থেকে ৩ ফিট নিচে এবং এতে মসজিদের যে সকল ফ্যান রয়েছে তা সিলিংয়ে ঠিকমতো ঝুলানো যাবে না ও ক্যাসেটটাইপ এসি ব্যাবহার করলে মসজিদের সিলিং এর সৌন্দর্য নষ্ট হবে কারন আউডোর থেকে যে পাইপ ইনডোর এর সাথে সংযুক্ত থাকবে তা পুরোপুরি দৃশ্যমান থাকবে এবং ক্যাসেট টাইপের দাম স্প্লিট এসি থেকে সাধারণত প্রায় ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা বেশি হয়ে থাকে। সুতরাং এই ধরনের উচ্চতার মসজিদের জন্য স্প্লিট টাইপ এসি ব্যবহার করা উচিত।
২) ইনভার্টার নাকি নন ইনভার্টার এসি কোনটা ভালো হবে?
>>উত্তরঃ নন ইনভার্টার ভালো হবে। সাধারণত আমরা ইনভার্টার এসি ব্যবহার করি বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য। কিন্তু আমরা অনেকেই জানিনা একটি ইনভার্টার এসির বিদ্যুৎ বিল সাশ্রয়ী হয় যখন আমরা ঐ এসিটি প্রতিদিন টানা ৫ ঘন্টার উপরে যদি টানা ব্যবহার করি, তা না হলে ইনভার্টার ও নন ইনভাটার এসির মাসিক বিদ্যুৎ বিল প্রায় সমান হয়ে থাকে বা প্রায় ৫০ টাকা বেশি।
উহারনসহ বলতে গেলে একটি মসজিদে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত জামাতের সহিত নামাজ পড়ানো হয় যা সর্বোচ্চ সময় হয়ে থাকে ১৫ থেকে ২০ মিনিট তাছাড়া মসজিদে প্রতি সপ্তাহে শুক্রবারে যে জুম্মার নামাজটি অনুষ্ঠিত বা পড়ানো হয় তার সর্বোচ্চ সময় প্রয়োজন হয় প্রায় ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা, রমজান মাসে যে তারাবি নামাজ অনুষ্ঠিত বা পড়ানো হয় তার জন্য সময় প্রয়োজন হয় সর্বোচ্চ প্রায় ১ ঘন্টা থেকে ১.৫ ঘন্টা তাছাড়া বছরে শবে বরাত ও শবে কদর এর মত যে বিশেষ ২ দিন রয়েছে যে নামাজটি অনুষ্ঠিত হয় তার জন্য প্রয়োজন হয় সর্বোচ্চ প্রায় (ইসলামিক আলোচনা ও নফল নামাজসহ) ৫ ঘন্টা।
আরেকটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করতে চাই একটি ২ টনের ইনভার্টার ও নন ইনভার্টার এসির দামের পার্থক্য প্রায় ১২,০০০ টাকা থেকে ১৫,০০০ টাকা সুতরাং মসজিদে যদি ৬টি ২ টনের এসি প্রয়োজন হয় তাহলে ৫ টি ইনভার্টার এসির দামে ৬ টি নন ইনভার্টার ক্রয় করতে পারবেন অর্থাৎ প্রায় ৭৫ হাজার টাকা বাজেট থেকে কম প্রয়োজন হবে।
৩) কয়টি ২ টনের এসি প্রয়োজন অথবা মোট কত টন প্রয়োজন তা কিভাবে বুঝব বা হিসাব করবো?
>>উত্তরঃ প্রথমেই বলেছি মসজিদের সাধারণত উচ্চতা হয়ে থাকে ১০ ফিট থেকে ১৫ ফিট সুতরাং সহজ হিসাবঃ মসজিদের দৈর্ঘ্য গুণন প্রস্থ এর ফলাফল কে ১২০ দিয়ে ভাগ করলে যা ফলাফল আসবে তা হচ্ছে ঐ মসজিদের জন্য কত টন এসির প্রয়োজন হবে।
উদাহরণ দিয়ে বলছি- মনে করি, আপনার এলাকার যে মসজিদটি রয়েছে তার দৈর্ঘ্য হচ্ছে ৫০ ফিট এবং প্রস্থ হচ্ছে ৩০ ফিট সুতরাং সহজ হিসাব অনুযায়ী, {(৫০ গুণন ৩০ = ১৫০০ ফিট) ভাগ ১২০} = ১২.৫ টন এবং একটি মসজিদে জুম্মার নামজে মুসল্লী ধারণ ক্ষমতা প্রায় ৯০ জন হলে একজন মানুষের শরীরের হিট শোষন বা শরীর ঠান্ডা করার জন্য ৬০০ BTU (Standard) এর প্রয়োজন হয়। সুতরাং ৬০০ BTU গুণন ৯০ জন = ৫৪০০০ ভাগ ১২০০০ BTU ফলাফল ৪.৫ টন। অর্থাৎ ১২.৫ টন + ৪.৫ টন = মোট ১৭ টন। অর্থাৎ আপনার মসজিদের জন্য ২ টনের ৮টি এসি সাথে ১ টনের একটি অতিরিক্ত এসির প্রয়োজন।
বিঃদ্রঃ আমি অনেক মসজিদে নামাজ পড়তে গিয়ে দেখেছি ওই মসজিদে ইনভার্টার এসি লাগানো আবার কিছু কিছু মসজিদে সিলিং টাইপ অথবা ক্যাসেট টাইপ এসি লাগানো এতে ওই মসজিদের এসির জন্য শুধু শুধু অনেক গুলো টাকা খরচ হয়েছে তা না হলে এই বাড়তি খরচের টাকা দিয়ে মসজিদের অন্যান্য উন্নয়ন করা যেত এবং মসজিদে সিলিং টাইপের এসির জন্য উক্ত মসজিদ গুলোর সৌন্দর্য নষ্ট হতো না। এই জিনিসগুলো আমরা না বুঝার কারণে বা ওই মসজিদের কমিটির লোকজনদেরকে কেউ সঠিকভাবে পরামর্শ দেয়নি বলে হয়েছে আমি মনে করি। আশা করছি আমার এই পোস্টটি আপনাদের এলাকার মসজিদের জন্য যদি এসির প্রয়োজন হয় তাহলে কাজে লাগবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেদায়াত দান করুক (আমিন)।
---
তানভীর মাহমুদ শুভ