07/08/2021
৭ স্ট্র্যাটেজী ফলো করুন, সেলসের বন্যা আনুন!
ধরুন, আপনি একজন ডিজিটাল মার্কেটার। আপনার কাছে একটি অনলাইন শপের মালিক এসে বললো আমার মান্থলি ডিজিটাল মার্কেটিং বাজেট ১০০ ডলার (কথার কথা) । এখন আপনি আমাকে একটা ডিজিটাল মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি দেন। আপনি কি করবেন?
আপনি কি করবেন জানিনা, তবে আমি হলে এতো প্যাঁচপুঁছে না গিয়ে একটা সহজ-সরল মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি তৈরি করে দিতাম।
একদম সহজ-সরল ৭ টি ধাপ।
১। প্যারেটো প্রিন্সিপাল বা ৮০/২০ রুলস বলে একটি রুলস আছে যার সারকথা হচ্ছে ৮০% আউটপুট আসে ২০% ইনপুট থেকে। অন্যান্য বিষয়ের মতো মার্কেটিং এর ক্ষেত্রেও আমরা এই বিষয়টি খেয়াল করি। যখন কোনো মার্কেটিং ক্যাম্পেইন লঞ্চ করা হয় তখন দেখা যায় যে, কোম্পানির ৮০% রেভিনিউ আসছে ২০% কাস্টমার থেকে।
তো মার্কেটার হিসেবে আমাদের কাজ হবে বিভিন্ন টার্গেটেড অডিয়েন্সের উপর এ/বি টেস্টিং করে সেই ২০% পটেনশিয়াল টার্গেট অডিয়েন্সটিকে খুঁজে বের করা যারা আমাদের কোম্পানির ৮০% রেভিনিউ এনে দিবে। ডেমোগ্রাফি, বিহেভিয়ার লোকেশন, ইন্টারেস্ট, প্রফেশন ইত্যাদি ফাইন্ড আউট করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রথম দিকে আপনার উচিত হবে অধৈর্য না হয়ে ব্যাপারটা পুরোপুরি সেই মার্কেটার বা এজেন্সির উপর ছেড়ে দেওয়া। কারণ যেহেতু এই মুহূর্তে এ/বি টেস্টিং চলছে সেহেতু এই মুহূর্তে রেভিনিউ কম বা আশানুরূপ না আসতেই পারে। তাই বলে হতাশ হওয়া যাবে না বা সেই মার্কেটার খারাপ এই ধারণা পোষন করা যাবে না। অ্যাড অপটিমাইজেশনের পর আপনি ভালো রেজাল্ট আশা করবেন।
এরপর সেই অডিয়েন্সকে টার্গেট করে আপনার মান্থলি বাজেটের ৬০-৭০% খরচ করতে পারেন। এতে করে আশা করা যায় আপনি সম্ভাব্য সর্বোচ্চ ROI পাবেন।
২। পুরো মাসের সেলস প্যাটার্ন এনালাইসিস করতে হবে। সাপোজ আপনার টার্গেটেড কাস্টমার যদি হয় ওয়ার্কিং প্রফেশনালস তাহলে দেখবেন যে মাসের প্রথম ১০ দিনে সেলস রেভিনিউ সর্বোচ্চ হবে, পরের ১০+১০ দিনের তুলনায়।
কারণ কি? কারণ এই সময়ে প্রফেশনালসরা সেলারি পায়। তাই বেশিরভাগ কেনাকাটা তারা এই সময়টাতেই করে। আপনার মার্কেটিং বাজেটের ৫০% এই প্রথম ১০ দিনে খরচ করুন। একটা নির্দিষ্ট এমাউন্টের পারচেজে ডেলিভারি চার্জ ফ্রি করে দিন বা নির্দিষ্ট পরিমাণ এমাউন্টের ডিস্কাউন্ট দিন।
এরপর ধীরে ধীরে বাজেটের পরিমাণ কমাতে থাকুন। মাসের শেষ সপ্তাহে বা শেষ ১০ দিনে কম বিক্রি হওয়া প্রোডাক্টগুলোতে অফার দিন বা বেশি বিক্রি হওয়া প্রোডাক্টগুলোর সাথে কম্বো প্যাকেজ তৈরি করে অফার দিন।
৩। যখন কোনো ক্যাম্পেইন তৈরি করবেন তখন শুরুতেই সেলসের ব্যাপারটা তুলে না ধরে বরং ক্যাম্পেইনে ডাবল বা ট্রিপল লেয়ার তৈরি করেন। যেমন ধরুন, আপনি একটি অনলাইন ফার্মেসির ডিজিটাল মার্কেটিং ক্যাম্পেইন চালাবেন। এখন প্রথমেই পণ্য বিক্রির কথা তুলে না ধরে আপনি পুরো ক্যাম্পেইন স্ট্র্যাটেজিকে তিনটা লেয়ারে ভাগ করতে পারেন। ১। Awareness, ২। Consideration, ৩। Conversion। এজন্য প্রথমেই আপনি আপনার প্রোডাক্টগুলোকে বিভিন্ন ক্যাটাগরীতে ভাগ করতে পারেন। ডায়াবেটিকস, হৃদরোগ, বেবী কেয়ার, মেডিক্যাল ডিভাইস ইত্যাদি। এখন প্রোডাক্ট অনুযায়ী কিছু Awareness ক্যাম্পেইন চালাবেন। ডায়াবেটিকস এর জন্য আপনি কিছু ব্লগ লিখতে পারেন, ব্লগের টপিক হতে পারে- ডায়াবেটিকস সম্পর্কিত ১০০টি কমন প্রশ্নউত্তর , ব্লাড সুগার সম্পর্কিত ১০০টি কমন প্রশ্নউত্তর । এই ব্লগগুলোকে আপনি প্রমোশন করবেন। ল্যান্ডিং পেজ হিসেবে দিবেন এইসব ব্লগের লিংকগুলোকে। এখন যারা একটা নির্দিষ্ট সময় এই ব্লগগুলো পড়বে তাদেরকে নিয়ে আপনি একটা অডিয়েন্স ক্রিয়েট করবেন। কারন এরা যেহেতু এই ব্লগ পড়েছে তার মানে তাদের এই রোগের সলিউশন প্রয়োজন। হয় তারা নিজেরাই রোগী অথবা তাদের বাসায় রোগী আছে এবং তাদের অবশ্যই অবশ্যই ডায়াবেটিকস এর মেডিসিন প্রয়োজন।
এরপরের লেয়ারে আপনি যে অনলাইনে মেডিসিন বিক্রি করেন + আপনার আরও যেসব USP আছে সেগুলো তাদেরকে রিটার্গেটিং করে তাদের সামনে বারবার তুলে ধরেন। ওয়েবসাইটে তাদের বিভিন্ন বিহেভিয়ার ট্র্যাক করেন। এভাবে একটা সময় বারবার অ্যাড দেখতে দেখতে Consideration স্টেজে পৌঁছে যাবে।
শেষ লেয়ারে আপনি মোস্ট পটেনশিয়াল কাস্টমারদের টার্গেট করে সরাসরি পণ্যের প্রমোশন চালাবেন।
যদিও বিষয়গুলো আপনার মার্কেটিং বাজেট অনুযায়ী কিছুটা পরিবর্তীত হতে পারে। আপনার বাজেট স্বল্পতা থাকলে চাইলে Consideration স্টেজ বাদ দিতে পারেন।
৪। অন্যান্য কনভেনশনাল মার্কেটিং এর মতো শুধুমাত্র ফেসবুকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে ৩৬০* এপ্রোচ নিন। ফেসবুকের পাশাপাশি বিভিন্ন মিডিয়াম থেকে আপনার ওয়েবসাইটে আসা কাস্টমারদের ফানেলে ফেলে রিটার্গেট করতে থাকুন, রিলেটেড সার্চ টার্মের জন্য গুগল পেইড অ্যাড (পিপিসি) চালাতে থাকুন, ডিসপ্লে অ্যাড চালান ব্র্যান্ড অ্যাওয়ারনেস ক্রিয়েটের জন্য, ইউটিউবেও ভিডিও অ্যাড ক্যাম্পেইন চালাতে থাকুন। যারা ইতোমধ্যেই ওয়েবসাইটে বিভিন্ন কনভার্সন সম্পন্ন করেছে তাদেরকে ক্রসসেলিং/ আপসেলিং এর জন্য বিভিন্ন মিডিয়ামে রিটার্গেটিং করতে থাকুন।
৫। শুধুমাত্র পেইড মার্কেটিং এর দিকে ফোকাস না করে ব্র্যান্ড বিল্ডিং এ মনোযোগ দেন। নির্দিষ্ট অডিয়েন্সকে টার্গেট করে একটা ফোকাসড ব্র্যান্ড পজিশনিং ক্রিয়েট করুন। এর কারন হচ্ছে ব্র্যান্ড সবসময়ই কাস্টমারদের মনে একটা জায়গা তৈরি করে নেয়। ব্র্যান্ড এমন একটা জিনিস যা মানুষ একটু বেশি টাকা দিয়ে হলেও কিনে। ব্র্যান্ড আপনাকে আপনার কম্পিটিটরদের থেকে আলাদা করে। এজন্য আপনাকে ইউনিক কনটেন্ট তৈরি করতে হবে। কনটেন্ট মার্কেটিং এর জন্য ভালো বাজেট রাখুন। কন্টেন্টের মাধ্যমেই আপনার কাস্টমাররা আপনার সাথে এনগেজড থাকবে। নতুন কাস্টমার গ্রুপ ক্রিয়েট হবে। আর আপনারা তো জানেনই অর্গানিক্যালি যে কাস্টমার বেস তৈরি হয় তা খুবই পটেনশিয়াল হয়। ইউনিক কনটেন্ট অডিয়েন্সদের মনে ব্র্যান্ড সম্পর্কে একটা বিশেষ জায়গা দখল করে। ব্র্যান্ড বা অডিয়েন্স অনুযায়ী কন্টেন্টের টপিক ইনফো, এন্টারটেইনমেন্ট, পেইনপয়েন্ট সল্ভিং ইত্যাদি বিভিন্ন টাইপ হতে পারে।
৬। একটা নির্দিষ্ট টার্গেটেড অডিয়েন্সকে টার্গেট করে প্রতিনিয়ত ইম্প্রেশন অ্যাড চালাতে হবে। ফেসবুক + গুগল ডিসপ্লে অ্যাড ব্যবহার করে এটা করা যেতে পারে। এই কাজটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এতে আপনার কোম্পানির ব্র্যান্ড অ্যাওয়ারনেস ক্রিয়েট হবে যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কেননা আজকালকার এতো এতো ব্র্যান্ডের ভিড়ে মানুষ কেন আপনার কাছ থেকে কিনবে? তাই আপনার বিজনেসের জন্যও একটা আলাদা ব্র্যান্ড আইডেন্টিটি প্রয়োজন। একই অডিয়েন্সকে বারবার অ্যাড দেখনোর জন্য ফ্রিকুয়েন্সি ক্যাপ ব্যবহার করুন।
৭। যতদ্রুত সম্ভব একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক (সেটা হতে পারে ১ হাজার, ২ হাজার, বা যেকোনো সংখ্যা আপনার বিজনেস অনুযায়ী) রিকারিং কাস্টমার বেসড তৈরি করতে হবে যারা আপনার কাছ থেকে বারবার কিনবে। এতে করে আপনার মার্কেটিং খরচ অনেকটাই কমে আসবে।
আর এর জন্য আপনার প্রিভিয়াস কাস্টমারদের সাথে যারা অলরেডি আপনার কাছ থেকে পারচেসড করেছে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে যেতে হবে নিয়মিতভাবে। এর জন্য ব্যবহার করতে পারেন মেসেজ, ইমেইল, স্পন্সরড মেসেজ, ডিসপ্লে অ্যাডস, রিমার্কেটিং অ্যাডস (ফেসবুক নিউজফিড, গুগল ডিসপ্লে, ইউটিউব ব্যানার অ্যাডস ইত্যাদি) ।