11/09/2025
বাংলাদেশে একটা জিনিস মহামারী আকার ধারণ করতে যাচ্ছে ই-কমার্স ইন্ডাস্ট্রিতে, আর সেটা হলো কম দামে ডলার কিনে প্রমোশন চালানো। শুধু তাই না এটার সাথে বাঘা বাঘা রাজনৈতিক দলের মানুষজন জড়িত।
আজকে একজনের সাথে কথা হচ্ছিল, যে বিভিন্ন কোম্পানিকে সাপোর্ট দেয় পেমেন্টের জন্য।
তার কথা অনুযায়ী আগে প্রতিদিন উনি ৫ হাজার USD-এর মতো পেমেন্ট সাপোর্ট দিতেন কিন্তু এখন নাকি ৫০০ USD হয় না, কারণ কিছু কিছু বিজনেস নাকি কম টাকায় ডলার পেয়ে আর উনার থেকে নিচ্ছে না।
১,০০০ ডলার নাকি ৫০ হাজার টাকায় পাওয়া যায়। তার নাকি বলে আমার অ্যাড অ্যাকাউন্ট গেলে যাবে, কিন্তু লাভ তো অনেক। ভাই, বিশ্বাস করেন আপনাদের দিয়ে ব্যবসা হবে না অন্তত।
ভাই আপনি একটা জালিয়াতি চক্রকে সহযোগিতা করছেন এবং অবৈধ, অনৈতিক কাজে সাহায্য করছেন। আপনার ডলার না নিলে এরা বিক্রি করতে পারবে না। আর যারা এই জালিয়াতির সাথে জড়িত, তারা দয়া করে বন্ধ করুন এইসব, ইন্ডাস্ট্রির ১২টা বাজাবেন না।
এই জালিয়াতি কিভাবে হয়, একটু পরে নেন:
আমরা সবাই জানি, বাংলাদেশের ফেসবুক পেমেন্ট নিয়ে অনেক সমস্যা চলছে। তার ওপর রয়েছে একদল, যারা কার্ড জালিয়াতির মাধ্যমে নিজেদের পকেটে লাখ লাখ টাকা ঢুকিয়ে নিচ্ছে এবং আপনার পেজের সর্বনাশ করে দিচ্ছে।
যারা ফেসবুক পেমেন্ট সমস্যায় ভুগছেন, তারা অনেকেই খোঁজেন, কে আপনার পেমেন্ট করে দিতে পারে। তারপর না বুঝে, একজনের মাধ্যমে পেমেন্ট করিয়ে নেন,কার্ড নেয়। আপনি কি জানেন, সেই কার্ডের তথ্য বা মালিক কে? বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আপনি তা জানেন না।
এ ধরনের ঘটনা ঘটে এবং হচ্ছে, এটা হয় কার্ড বিন জালিয়াতির মাধ্যমে। এই চক্র অন্যদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা নিয়ে পেমেন্ট করে। একে বলা হয় কার্ড BIN জালিয়াতি। তারা এভাবে লাখ লাখ টাকা স্পেন্ড করে।
এরপর কার্ড মালিকদের বলে টাকা রিফান্ড করে নিতে অথবা বলে না। ফেসবুক কার্ড মালিককে রিফান্ড করে দিলেও, আপনার পেমেন্ট কিন্তু ঠিকই হয়ে যায়। কিন্তু এতে আপনার পেজ বা অ্যাকাউন্টে বড় ধরনের সমস্যার সম্ভাবনা থেকে যায়। অন্যদিকে কার্ড মালিকের বারোটাও বেজে যায়।
এই চক্র ১,০০০ ডলার পেমেন্ট করতে হয়তো ৫০–১০০ ডলার খরচ করে, আর আপনার কাছে বিক্রি করে ৫০ হাজারে। এতে আজকে হোক বা আগামীকাল হোক আপনার পেজের বারোটাই বাজবে।
আর অন্যদিকে Facebook Ads threshold method-এর মাধ্যমে অ্যাড রান করে পেমেন্ট না করার প্রচলন তো আছেই।
আপনি কিভাবে বুঝবেন যে জালিয়াতির ফাঁদে পড়েছেন?
১. তাদের ডলারের রেট অনেক কম হবে।
২. তারা কার্ড দিয়ে পেমেন্ট করে দ্রুত কার্ড সরিয়ে নেবে।
৩. বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কার্ড ব্যবহার করবে। কারণ, কার্ডের মালিক বুঝতে পারলে, সেই কার্ড ব্লক করে দিতে পারে।
কিভাবে নিরাপদে পেমেন্ট করবেন?
• লিগ্যাল ও বিশ্বস্ত সোর্স ছাড়া পেমেন্ট করবেন না।
• কম রেট দেখে সেই সুযোগের পেছনে ছুটবেন না।
যারা এ ধরনের কাজ করছেন, তাদের উদ্দেশ্যে:
প্লিজ, এসব কাজ আজ থেকেই বন্ধ করুন। বাজার নষ্ট করবেন না। ফেসবুক এসব বিষয়ে সচেতন, তাই মাঝেমধ্যে গণহারে বিজ্ঞাপন অ্যাকাউন্ট ডিজেবল করে দেয় যখন আপনি অ্যাকাউন্ট থাকা কার্ড ভেরিফাই করতে পারেন না, অথবা সন্দেহজনক হয়।
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে:
ভাই, খারাপ কাজে অন্যকে সাহায্য কইরেন না আর নিজের ক্ষতি কইরেন না।
নিজে জানুন, অন্যকেও জানাতে সাহায্য করুন।