06/11/2016
"মোবাইল অপারেটররা গ্রাহকদের জিম্মি করে রেখেছে: মোস্তফা জব্বার"
দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাত মোবাইল ফোন অপারেটরদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা।
অপারেটরগুলোর মনোপলি ও আগ্রাসনমূলক ব্যবসায়ী আচরণের কথা উল্লেখ করে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশের তথ্যপ্রযুক্তি শীর্ষ ব্যবসায়ীক সংগঠনগুলো।
বুধবার রাজধানীর বেসিস মিলনায়তনে বাংলাদেশ অ্যালায়েন্স ফর ফেয়ার কম্পিটিশন (বাফকম) নামের সংগঠনের আত্মপ্রকাশ উপলক্ষ্যে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
যেখানে বেসিস, এফবিসিসিআই, ডিসিসিআই, এমসিসিআই, জেসিআই, ব্যাঙ্কার্স অ্যাসোসিয়েশন, ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন, ই-ক্যাব, বাক্য, আইএসপিএবি, বাংলাদেশ কপিরাইট ও আইপি ফোরাম, বাংলাদেশ ইনোভেমন ফোরাম ও মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি বাংলাদেশসহ অন্যান্য আরও কিছু অ্যাসোসিয়েশন ও ফোরাম যোগ দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বেসিস সভাপতি ও জোটটির আহবায়ক মোস্তাফা জব্বার বলেন, এখন সবচেয়ে বেশি পরিমাণে মনোপলি রয়েছে টেলিকম খাতে। দেশে মোবাইল বিপ্লবে টেলিকম অপারেটরদের বিরাট অবদান রয়েছে। তাদের জন্য দেশে আজ মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে। তাই বলে দেশের সকল ব্যবসা তাদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়তে পারে না।
নতুন জোটটির এই আহ্বায়ক বলেন, অপারেটরগুলো গ্রাহকদের জিম্মি করে ফেলেছে। এখন তারা তাদের ইচ্ছে মতো প্যাকেজের দাম নির্ধারণ করে। ভয়েস কলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা চার্জের নিয়ম বেঁধে দিলেও ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে সেটি এখনো করতে পারেনি। তারা কিনে ব্যান্ডউইথ, কিন্তু গ্রাহকের কাছে বিক্রি করে ডেটা; যা অন্যায়।
এছাড়াও অপারেটরগুলো যেভাবে দেশে বিভিন্ন ডিজিটাল সার্ভিসের নাম করে ই-কমার্স, ই-ওয়ালেটের মতো বিষয়গুলো নিয়ে নামছে তাতে দেখা যাচ্ছে এর মাধ্যমে তারা দেশের এই খাতটিকে ধ্বংসের মুুখে ফেলে দেবে। এতে করে দেশের হাজার হাজার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা পথে বসবে।
মোস্তাফা জব্বার বলেন, অপারেটরগুলো এর আগে পাইরেসি কনটেন্ট বিক্রি করেছে, এখনো করছে। তারা লাইসেন্স পেয়েছে টেলিকম সেবা দেওয়ার জন্য। অথচ এখন সেই টেলিকমের নাম করে তারা নানা সেবা আনছে আর নিজেদের গ্রাহকদের পছন্দমতো সাইট ব্রাউজ করার সুযোগ দিচ্ছে। যা টেলিকম অ্যাক্টের পরিপন্থী বলে বলেন তিনি।
নতুন জোট বাফকম এসব বিষয়ে খেয়াল রেখে যথাযথ আইন, নীতমালার মাধ্যমে শুধু আইটি বা টেলিকম খাত নয়, সব খাতেই বাজারে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা করার কাজ করবে।
কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের(ক্যাব) টেলিকম ও আইটি কমিটির আহ্বায়ক এবং এসসিসিআই এর আইটি কমিটির চেয়ারম্যান হাবিবুল্লাহ এন করিম বলেন, আমরা টেলিকম অপারেটরদের বিরুদ্ধে সংগঠিত হচ্ছি না। আমরা চাই কোনো ভোক্তা যেন অপাটেরদের মনোপলির শিকার না হয়।
তিনি বলেন, অপারেটররা আইনসম্মত ভাবে যেকোনো কাজ করতেই পারে। তবে আমার গ্রাহক, আমার পণ্যের প্রচারে, সেবার প্রসারে বিনামূল্যে ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে দেবো, অন্যেরটা দেবো না তা হবে না। এই মনোপলি আমরা ভেঙে দিতে চাই।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজের সহ-সভাপতি আতিক-ই-রাব্বানী বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি এ টেলিকমের ক্ষেত্রে এসএমই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই এখানে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার জন্য দরকার সমতাভিত্তিক বাজার। যা দেশের টেলিকম অপারেটররা মানছে না।
ব্যান্ড সঙ্গীত শিল্পী মাকসুদুল হক বলেন, একটা সময় আমার গান নিয়ে চুক্তি হয়েছিল এক অপারেটরের সঙ্গে। পরে তারা চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তারা অহরহ শিল্পীদের মেধাস্বত্ত্ব চুরি করে।