17/08/2021
েশ_এক_রেট
=================
মূল লেখক কোব্রেজ খাঁ ভাইজানের ওয়াল থেকে ।
======================
সম্প্রতি সরকার কর্তৃক দেশের ইন্টারনেটের মূল্য বিষয়ে "একদেশ এক রেট" বিষয়টি বেশ আলোচনায় এসেছে।
যেমন . বিটিআরসি ৫ mbps শেয়ার্ড একটি ইন্টারনেট সংযোগ সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা মূল্য বেঁধে দিয়েছে। বিষয়টা নিয়ে গ্রাহক পর্যায়ে বেশ কিছু ভুল বোঝাবুঝি তৈরী হয়েছে। একটি জাতীয় দৈনিকে অনিচ্ছাকৃত ভুলও এর জন্য অনেকটা দায়ী। তাই এ প্রসঙ্গে কিছু বিষয় তুলে ধরতে চাচ্ছি।
প্রথমত
পুরো বিশ্বে গ্রাহক পর্যায়ে এখনো ইন্টারনেট স্পীড বা ব্যন্ডউইথ বিক্রি হয় mbps ( mega bit per second). এই mbps লিখতে গিয়ে যদি আমরা ইচ্ছাকৃত বা ভুলক্রমে MBps লিখি, তখন সেটা হয়ে যায় (mega byte per second. সামান্য একটা ভুল হয়তো, যা একদেশ এক রেট নিয়ে সংবাদ পরিবেশন করতে গিয়ে একটি জাতীয় দৈনিক করেছিল। কিন্তু তফাতটা ৮ গুন! কারন
1 byte = 8 bit.
অর্থাৎ 5 MBps প্রায় 40 mbps এর সমান।
আসলে 5 mbps মানে 625 KBps
ডিজিটাল সিস্টেমে ইংরেজি ক্যাপিটাল অক্ষরে MB বা KB বলতে মেগা বাইট বা কিলোবাইট বোঝানো হয় এবং mb বা kb বলতে মেগা বিট এবং কিলোবিট বোঝানো হয়। সুতরাং 5mbps স্পীডের একটি সংযোগে যদি আপনি 625 KBps স্পীড পান যা আপনার ডাউনলোড ম্যানেজার দেখায়, বুঝতে হবে আপনি ফুল স্পীড পাচ্ছেন।
দ্বিতীয়ত
এই ৫mbps সংযোগ কিন্তু ডেডিকেটেড নয়, যে দিনরাত সবসমসয় আপনি একই স্পীড পাবেন। এটি শেয়ারড কানেশন। যার অর্থ আইএসপির কাছে পর্যাপ্ত ব্যান্ডউইথ থাকলে কিংবা যখন কম সংখ্যক গ্রাহক অনলাইন থাকবে তখন আপনি সর্বোচ্চ ৫ mbps স্পীড পাবেন, তার বেশী নয়। অপরদিকে যখন অধিকাংশ গ্রাহক অনলাইন থাকবে, যাকে আমরা পিকটাইম বলি যেমন সন্ধ্যা থেকে মাঝরাত, তখন স্পীড অনেক কম থাকা স্বাভাবিক।
পিকটাইমে তাহলে সর্বনিম্ন কত স্পীড থাকতে পারবে?
বলা হয়েছে ৫ mbps সংযোগের শেয়ার রেশিও ১ঃ৮। এই শেয়ার রেশিও যা নেটওয়ার্কিং এর ভাষায় concentration ratio বলা হয় সহজ কথায় তার মানে হলো, একই সময়ে কোন নির্দিষ্ট পরিমান ব্যান্ডউইথ (যা আমরা স্পীড হিসেবে জানি) এক বা একাধিক গ্রাহকের সঙ্গে শেয়ার করা। ফলে ১ঃ৮ শেয়ার রেশিও মানে হলো ১ mbps স্পীড সর্বোচ্চ ৮ জনের সঙ্গে শেয়ার করা যাবে। অর্থাৎ ৫mbps ব্যন্ডউইথ যদি ৮ জনের সঙ্গে শেয়ার করা বা ভাগাভাগি করা হয়, তাহলে সর্বনিম্ন স্পীড হবে ৬৪০ kbps(KBps নয় কিন্ত!) অর্থাৎ প্রায় ½ mbps। সুতরাং সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী দিনের কোন সময় ৫ mbps এবং বাকি সময় ½ mbps স্পীড থাকলেই আপনার আইএসপি আপনাকে ঠকাচ্ছে না এবং আপনার স্পীড সংক্রান্ত অভিযোগ বিটিআরসি গ্রহণ করবে না।
বাস্তবে প্রতিটা আইএসপি এর চাইতে অনেক বেশী স্পীড দিয়ে থাকে, যা গ্রাহকরা হয়তো কখনো আমলে আনেনি। সে বিষয়ে পরের পর্বে।
তৃতীয়ত
এ দেশের আইএসপি সেক্টরে একটা প্রচলিত চিত্র হচ্ছে আইএসপির সামর্থ এবং কন্টেন্ট অনুযায়ী স্পীড আলাদা করে দেয়া বা অতিরিক্ত দেয়া। যেমন মূল ইন্টারেনেট স্পীড এর সঙ্গে ফেসবুকের জন্য আলাদা স্পীড, গুগুলের সার্ভিস যেমন ইউটিউব, ড্রাইভের জন্য আলাদা স্পীড, NIX বা দেশের ইন্টারনাল ট্রাফিক যাকে BDIX নামে জানি, তার জন্য আলাদা স্পীড। এর পর আইএসপির কাছে নানা ধরনের কন্টেন্ট যেমন গেম, সফ্টওয়ার এবং মুভির জন্য সার্ভার থাকে, যার জন্য আলাদা স্পীড দেয়া হয়। যার সম্পর্কে অধিকাংশ গ্রাহকদের কোন ধারনা নেই।
দেখা যায় ৫ mbps একটি সংযোগে প্রায় প্রতিটি আইএসপি দেশ থেকে আউটবাউন্ড ট্রাফিক হয়ত শেয়ার্ড ৫ mbps। কিন্তু এর সঙ্গে আলাদা করে ১০ থেকে ৩০এমবিপিস ফেসবুক স্পীড, ১০ থেকে ৫০ এমবিপিএস ইউটিউব স্পীড, প্রায় ১০০ এমবিপিএস করে কন্টেন্ট সার্ভার (যা FTP সার্ভার নামে পরিচিত) স্পীড, গেম ক্যাশ স্পীড সহ নানা রকম স্পীড অতিরিক্ত দেয়া হয়। মজার বিষয় হলো এসকল স্পীডের জন্য আইএসপিকে বেশ ভাল খরচ করতে হয়, কিন্তু গ্রাহককে দেয়া হয় বিনামূল্যে বর্ধিত সেবা হিসেবে।
ধরুন, আপনার বাসায় ৫ এমবিপিএস স্পীডের একটি সংযোগ যার জন্য আপনি ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা মাসিক বিল দিয়ে থাকেন। এ সংযোগ ব্যবহার করে আপনার মেয়ে টিভিতে ইউটিব দেখছে, আপনার স্ত্রী ফেসবুকে ভিডিও দেখছেন, আপনি বিদেশের কোন পেইজে নিউজ দেখছেন, আপনার ভাই মুভি ডাউনলোড করছে এবং আপনার ছেলে গেম ডাউনলোড করছে। বিশ্বাস করুন সব ডিভাইস মিলিয়ে আপনি কম করে হলেও ৩০ থেকে ১০০ এমবিপিস স্পীড ব্যবহার করছেন। ৫ এমবিপিএস স্পীড দিয়ে এতোকিছু করা সম্ভব নয়। ইউটিউবে 1080p বা HD কোয়ালিটির কোন ভিডিও দেখতেই কমপক্ষে ৫ এমবিপিএস স্পীড দরকার। বিশ্বে কিন্তু কোথাও এভাবে কন্টেন্ট অনুযায়ী স্পীড আলাদা করে দেয়া হয় বলে জানা নেই। ২০ এমবিপিএস একটি সংযোগে সবকিছু মিলিয়ে বিশ, আলাদা কোন স্পীড নেই।
এখন "এক দেশ এক রেট" নিয়ম অনুসারেও কিন্তু আইএসপিকে এভাবে স্পীড দিতে বলা হয়নি। ফেসবুক, ইউটিউব এবং অন্যন্য যে কোন ক্যাশ স্পীড সহ ৫ এমবিপিএস। বিটিআরসির বরং কঠোর নির্দেশনা রয়েছে, এ ধরনের স্পীড বা ক্যাশ স্পীড দেয়াটা আইএসপির ঐচ্ছিক একটা বিষয় এবং গ্রাহক আকৃষ্ট করার জন্য এ ধরনের স্পীড প্রদান সম্পর্কিত কোন ঘোষণা প্রকাশ্যে প্রচার করতে পারবে না।
একবার চিন্তা করুন, আইএসপিরা যদি অতিরিক্ত এই কন্টেন্ট স্পীড দেয়া বন্ধ করে দেয়, তাহলে সেই ৫ এমবিপিএস দিয়ে কি এত কিছু করা সম্ভব? বাসায় একজন ইউটিউবে কোন কিছু দেখতে গেলেইতো সমস্যা শুরু হয়ে যাবে।
এখন কোন আইএসপির যদি ৫০০ টাকার কোন প্যাকেজ না থাকে এবং ঐ আইএসপিকে যদি এ প্যাকেজে বাধ্য করা হয়, তাহলে কি ঘটবে? সে আইএসপি ৫০০ টাকার প্যাকেজ তৈরী করবে ঠিকই, কিন্তু ৫ এমবিপিএস এর বেশী অতিরিক্ত কোন কন্টেন্ট স্পীড সে দিবে না। আর যেহেতু গ্রাহক প্রতিটা কন্টেন্টের জন্য আলাদা স্পীডে অভ্যস্ত, সেহেতু এ প্যাকেজ নিয়ে দু'দিনের মাথায় আবার আইএসপির সুবিধাজনক আপগ্রেডেড প্যাকেজে যেতে বাধ্য হবে।
প্যাকেজের সঙ্গে অতিরিক্ত কন্টেন্ট স্পীড দেয়া না থাকলে কমপক্ষে ২০ এমবিপিএস, যার মূল্য ১২০০ টাকা, না হলে গ্রাহক একসঙ্গে দু'তিনটা মোবাইল বা ল্যাপটপ আর একটি টেলিভিশন চালাতে পারবেন না।
তাহলে বলুন গ্রাহকের খরচ কমছে না বাড়ছে? তাহলে এক দেশ এক রেট কি ফাঁকিবাজী?
না। সরকার ইন্টারনেটের একটা সর্বনিম্ন স্পীড বা গতি বেঁধে দিয়েছে। একটা নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নিয়ে আসার চেস্টার শুরুটা করেছে। যার ফলে আন্তর্জাতিক ভাবে রেংকিংএ কিছুটা উপরে উঠতে হয়তো সুবিধা হবে। বাস্তবে বিভাগীয় শহরগুলিতে এমনকি অনেক মফস্বল শহরেও আইএসপিরা আগে থেকেই সরকার নির্ধারিত মূল্যে বা কম মূল্যে গ্রাহকদের সেবা দিয়ে আসছে। তাছাড়া প্রতিযোগিতামূলক বাজারে আইএসপিরা অতিরিক্ত কন্টেন্ট স্পীড বন্ধ না করারই সম্ভাবনা। তবে কোন আইএসপি যদি তা করে, (চাপে পরে অনেকে শুরু করে থাকতে পারে) তাহলে তাকে দোষ দেয়া যাবে না। কারণ তারা আইন ভাঙছে না, আগে গ্রাহককে সুবিধা দেয়ার জন্য আইন ভাঙছিল, এখন বরং আইন মান্য করছে।
বর্তমানে এ নির্দেশের সুবিধা কিছুটা ভোগ করবে কিছু গ্রাম অঞ্চলের গ্রাহক, যেখানে ১ বা ২ এমবিপিএস স্পীড মাসিক ৫০০ থেকে ১০০০ টাকায়।
তবে এখানেও একটা বিশাল বড় কিন্তু আছে । ঢাকা বা বিভাগীয় বড় শহরে একটা আইএসপির একটা এপার্টম্যান্ট বিল্ডিং এই প্রায় ৫০ থেকে ১০০ গ্রাহক থাকে। সেই একই পরিমাণ গ্রাহক পেতে মফস্বল শহরের একটা আইএসপির পুরো একটা মহল্লা জুড়ে নেটওয়ার্ক প্রয়োজন। আর সেটা যদি গ্রাম হয়, তাহলে পুরো গ্রামে ১০০ গ্রাহক পেতে আইএসপিকে বেশ বেগ পেতে হয়। ফলে ঢাকা শহরের তুলনায় গ্রামের একটা আইএসপির নেটওয়ার্ক এস্টাবলিস্টমেন্ট কষ্ট অনেক বেশী।
অথচ ঢাকায় একটা আইএসপি ব্যন্ডউইথ যে দামে কেনে, মফস্বল শহরে সেটার সঙ্গে ট্রান্সমিশন বা সঞ্চালন খরচ যোগ হয়ে দাম বেড়ে যায়। গ্রামের ক্ষেত্রে দূরত্ব বেড়ে যাওয়ায় দাম আরও বেড়ে যায়। তার উপর গ্রাহক বেশী থাকায় বড় শহরের একটা আইএসপি যে পরিমান ব্যন্ডউইথ কেনে, মফস্বল শহরের একটা আইএসপি কেনে তার তুলনায় অনেক কম। গ্রামে আরও কম। দেখা যায় প্রতি এমবিপিএস ব্যান্ডউইথ ক্রয়ে ঢাকার চাইতে ১০০ থেকে ২০০ টাকা বেশী গুনতে হয় গ্রামের একটা আইএসপিকে।
ফলে গ্রামের একটা আইএসপি ত্রিমুখি চাপে থাকে। ফলে ঢাকায় যদি ৫ এমবিপিএস ৫০০টাকা হয়, গ্রামে সেটা অবশ্যই বেশী মূল্য হওয়া উচিত, যদি না তারা ঢাকার মতো সুযোগ সুবিধা পায়। অর্থাৎ একই দামে কিনতে না পারলে এবং অন্যান্য সুবিধা একই না হলে, একই দামে বিক্রয় সম্ভব নয়।
আশার কথা, সরকার সমস্ত দেশের আইএসপিরা যেন একই দামে ব্যন্ডউইথ ক্রয় করতে পারে সে বিষয়ে উদ্যোগ নিয়েছে। সেক্ষেত্রে এক দেশ এক রেট এর ক্ষেত্রে একটি বাধা অতিক্রম করতে সুবিধা হবে। কিন্তু নেটওয়ার্ক এস্টাবলিস্টমেন্ট খরচ, ব্যন্ডউইথ পরিমানের সঙ্গে মূল্যের আনুপাতিক হার এবং অন্যন্য সুযোগ সুবিধার অভাব রয়েই যাবে। ফলে গ্রামের বা প্রত্যন্ত অঞ্চলের আইএসপিকে গ্রাহক সেবায় বেশ চাপে পরতে হবে।
এ চাপ মোকাবেলার উপায়?
এক, সহজ পন্থাঃ
যেহেতু আগে শেয়ার রেশিও ছিল ১ঃ৪ আর এখন ১ঃ৮, তাই আইএসপিকে ব্যন্ডউইথ খরচ না বাড়িয়ে শুধু স্পীড বাড়ানোর ঘোষণা দিলেই হবে। বড়জোড় অল্প কিছু অতিরিক্ত ব্যন্ডউইথ কিনতে হবে।
দুই, কার্যকরী পন্থাঃ
গ্রাহককে ৫ এমবিপিএস না দিয়েও ১০ এমবিপিএস দেয়া!
মজার বিষয় হলো গ্রাহকও টেস্ট করে দেখবে তার স্পীড ১০ এমবিপিএস!
এও কি সম্ভব?
জ্বী সম্ভব। এদেশের আইএসপির প্রতিটা নেটওয়ার্ক এডমিন একেক জন সুপার ম্যান। অসম্ভবকে সম্ভব করাই এদের কাজ। প্রতি এমবিপিএস গড়ে প্রায় ৪০০টাকা, ইউটিউব ক্যাশ ৩০ থেকে ৫০ টাকা, ফেসবুক ক্যাশ ৮০ থেকে ১২০ টাকায় কিনে, আপনাকে ৫এমবিপিএস ইন্টারনেটের সঙ্গে কমপক্ষে ১০ এমবিপিএস ফেসবুক, ২০ এমবিপিএস ইউটিউব সহ আরও নানা স্পীড মাত্র ৫০০ টাকায় দিবে।
ধরুন, এ সংযোগে আপনি পিক টাইমে যেমন সন্ধ্যায় মাত্র ½ এমবিপিএস ইন্টারনেট, ২ এমবিপিএস ফেসবুক আর ৫ এমবিপিএস ইউটিউব পাচ্ছেন। হিসেব করুন তো আইএসপিকে তা কিনতে কত খরচ করতে হবে? গড়পরতা প্রায় ৫৫০ টাকা মাত্র! আপনি কত দিচ্ছেন? ৫০০ টাকা!
সে ৫০০ টাকা থেকে আবার সরকারকে ৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হবে। তারপর সেখান থেকে মুনাফা বের করে প্রতিষ্ঠানের সকল খরচ চালাতে হবে। ভালকথা, এলাকার বিভিন্ন পৈতার ফ্রি কানেকশন, অবৈধ ব্যবসায়ীদের তারকাটাকাটি, আর যারা মাসের অর্ধেক বা শেষে বিল না দিয়ে হাওয়া হয়ে যায়, তাদের হিসাব তো করাই হয়নি!
এ অসম্ভবকে যারা সম্ভব করতে পেরেছেন, তাদের জন্য আপনাকে এক এমবিপিএস দিয়ে ১০ এমবিপিএস দেখানো কোন বিষয়ই না।
এদেশের শতকরা ৯০ ভাগেরও বেশী গ্রাহক ইন্টারনেটে কাজ বলতে ফেসবুক, ইউটিউব, আর মুভি দেখাকে বোঝেন। এর সবগুলিই কিন্তু আইএসপির ক্যাশ সার্ভার থেকে আসছে, আসল ইন্টারনেটের যে স্পীড, সেটা প্রায় খরচই হচ্ছে না। কিন্তু আইএসপি তাকে ধোঁকা দিচ্ছে কিনা সেটা যাচাই করছে সে বিভিন্ন স্পীড টেস্ট সাইটে, যার জন্য ইন্টারনেট স্পীড খরচ হচ্ছে। অর্থাৎ সে কাজের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার করছে না, বরং অকাজে! অভিজ্ঞতা বলে শতকরা প্রায় ৭ থেকে ১০ শতাংশ স্পীড এভাবে অকাজে ব্যয় হয়। গ্রাহক সমস্তদিন দেখছে ইউটিউব, চালাচ্ছে ফেসবুক, কিন্তু ফাস্ট ডট কমে স্পীড কম দেখালেই আইএসপিকে গালি!
আর এ যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতেই অধিকাংশ আইএসপি স্পীডটেস্ট করতে গেলে বেশী স্পীড দেখানোর ব্যবস্থা করে রেখেছে। আশা করা যায় কিছুদিনের মধ্যে সকল আইএসপি একই কাজ করবে। আর যেহেতু এসকল স্পীড টেস্টের ডাটা দিয়ে রেংকিং তৈরী হয়, আমরাও খুব দ্রুত বাঁশ বেয়ে বিশ্বের ইন্টারনেট রেংকিংএর মগডালে উঠে বসে থাকব!
সুতরাং, ৫০০ টাকায় ৫ এমবিপিএস এর জগতে আপনাকে স্বাগতম। অনেকে (সবাই না কিন্তু!😁) ৫ এমবিপিএস এর এক সংযোগ নিয়ে বাসার সকল মোবাইল, ল্যাপটপ, টিভি সহ সকল আসবাবপত্র কানেক্ট করে, পাশের বাসার ভাবীকেও খাতির করে ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড শেয়ার করেছেন তো,
প্লিজ ফাস্টেন ইওর সিট বেল্ট এন্ড এন্জয় দা শো!
--------------------------------------------------