01/07/2026
এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য নির্দেশনা
============================
১। বোর্ড পরীক্ষার রুটিন অনুযায়ী পরীক্ষা সকাল ১০টা ও বিকাল ০২টায় শুরু হবে। তোমাদের পরীক্ষাগুলো কখন শুরু হবে (সকাল/বিকাল) তা রুটিন দেখে আগেই নিশ্চিত হয়ে নিবে।
২। সকল পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষা শুরুর কমপক্ষে ৩০ মিনিট পূর্বে অবশ্যই পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। ঢাকা বোর্ডের ১৭/০৬/২০২৬ তারিখের নির্দেশনা মোতাবেক যানজট ও জনদূর্ভোগ লাঘবের জন্য কেবলমাত্র পরীক্ষার্থীদেরকে পরীক্ষা কেন্দ্রের অভ্যন্তরে সকাল ৮:৩০টা থেকে প্রবেশের ব্যবস্থা থাকবে।
৩। পরীক্ষা কেন্দ্রে যাতায়াতের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করবে এবং যানজট বিবেচনা করে সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাবে।
৪। এইচএসসি পরীক্ষার মূল প্রবেশপত্র (Admit Card) ও রেজিস্ট্রেশন কার্ডের কয়েকটি ফটোকপি করে বাসায় নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ করবে। কোনো কারণবশত মূল কপি হারিয়ে বা নষ্ট হয়ে গেলে ফটোকপি নিজ প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ কর্তৃক সত্যায়িত করে পরীক্ষা চালিয়ে নেওয়া যাবে।
৫। পড়ার টেবিলের সামনে এইচএসসি পরীক্ষার রুটিনের একটি কপি টানিয়ে রাখবে। পরীক্ষার রুটিন শিক্ষা বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অথবা তোমার কলেজ থেকে সংগ্রহ করবে। বিভ্রান্তি এড়াতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে রুটিন সংগ্রহ করা থেকে বিরত থাকবে।
৬। পরীক্ষার একটি বিষয় শেষ হওয়ার সাথে সাথেই বা ঐদিনই পরবর্তী পরীক্ষার বিষয় ও সময় (সকাল/বিকাল), রুটিন দেখে নিশ্চিত হয়েই প্রস্তুতি শুরু করবে।
৭। শরীর সুস্থ রাখার জন্য নিয়মিত এবং সময়মতো স্বাস্থসম্মত খাবার খেতে হবে। বাহিরের খাবার পরিহার করতে হবে।
৮। পরীক্ষার পূর্ব রাতে কখনই রাত জাগবে না। যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়বে।
৯। পরীক্ষার আগের রাতেই প্রবেশপত্র, রেজিস্ট্রেশন কার্ড, স্কেল, কলম, পেন্সিল, অনুমোদিত ক্যালকুলেটর ইত্যাদি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র স্বচ্ছ ফাইলে গুছিয়ে রাখবে।
১০। পরীক্ষায় লেখার জন্য হালকা ব্যবহারকৃত কিছু কালো কালির বলপয়েন্ট কলম রাখবে, এতে শুরু থেকেই হাতের লেখার গতি বজায় থাকবে।
১১। পরীক্ষার হলে কোনো ধরনের মোবাইল ফোন, স্মার্ট ওয়াচ বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস আনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কোনো অবস্থাতেই এগুলো সাথে রাখা যাবে না।
১২। পরীক্ষার্থীরা অবশ্যই স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম পরিধান করেই পরীক্ষার হলে প্রবেশ করবে।
১৩। পরীক্ষার হলের প্রত্যবেক্ষক/পর্যবেক্ষক ও সহপাঠীদের সাথে সৌজন্যমূলক আচরণ বজায় রাখবে।
১৪। প্রথম পরীক্ষার দিন উত্তরপত্র (খাতা) হাতে পাওয়ার পর প্রথমেই উত্তরপত্রের (খাতা) শেষ পৃষ্ঠার নিয়মাবলি মনোযোগ দিয়ে পড়বে এবং সেগুলো সব বিষয়ের পরীক্ষায় অনুসরণ করবে।
১৫। পরীক্ষার উত্তরপত্রের (খাতা) OMR অংশ ও নৈর্ব্যত্তিক উত্তরপত্রে রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর অবশ্যই ইংরেজিতে লিখবে এবং খুবই সতর্কতার সাথে বৃত্ত ভরাট করবে। এক্ষেত্রে কালো কালির বল পয়েন্ট কলম ব্যবহার করবে। কোন অবস্থাতেই নীল কালি, পেন্সিল বা কালো কালির জেল পেন দিয়ে বৃত্ত ভরাট করবে না।
১৬। সতর্কতার সাথে বৃত্ত ভরাট করতে গিয়েও যদি ভুল হয়ে যায়, তবে আতঙ্কিত না হয়ে পরীক্ষার হলের দায়িত্বরত কক্ষ প্রত্যবেক্ষককে (Invigilator) অবশ্যই জানাবে। কক্ষ প্রত্যবেক্ষক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
১৭। OMR শিটে যে অংশটুকু শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত, সেখানে শুধু প্রয়োজনীয় তথ্য লিখতে হবে বা বৃত্ত ভরাট করতে হবে। বাকি অংশে কোন চিহ্ন বা কোন কিছু লেখা বা বৃত্ত ভরাট করা যাবে না।
১৮। নৈর্ব্যক্তিক (MCQ) প্রশ্নপত্র পাওয়ার পর সবার আগে উত্তরপত্রে (OMR) সেট কোড লিখে তা সঠিকভাবে বৃত্ত ভরাট করবে। মনে রাখবে, সেট কোডের ভুল সংশোধন করা যায় না।
১৯। OMR শিট কোনোভাবেই ভাঁজ করা যাবে না, অন্যথায় ওএমআর মেশিন সেটি গ্রহণ করবে না।
২০। অতিরিক্ত উত্তরপত্রে (Loose Sheet/Extra Page) কক্ষ প্রত্যবেক্ষকের স্বাক্ষর নিশ্চিত করবে এবং সবশেষে অতিরিক্ত উত্তরপত্রের (Loose Sheet/Extra Page) মোট সংখ্যা মূল উত্তরপত্রের কভার পৃষ্ঠার নির্দিষ্ট স্থানে সঠিকভাবে লিখে বৃত্ত ভরাট করতে হবে।
২১। পরীক্ষার আগে ও পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে এমন সব কাজ বা খেলাধুলা থেকে দূরে থাকবে যাতে অসুস্থ হয়ে যাওয়া বা কোনো ধরনের দুর্ঘটনার (হাত, হাতের আঙ্গুল, চোখে আঘাত ইত্যাদি) সম্মুখীন হতে না হয়।
২২। পরীক্ষার চলাকালীন সিটের আশেপাশে অপ্রয়োজনীয় কোনো কাগজপত্র পড়ে থাকতে দেখলে তা কক্ষ প্রত্যবেক্ষকের দৃষ্টিতে আনবে।
২৩। অধিক নম্বর প্রাপ্তির জন্য প্রশ্ন নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যে প্রশ্নগুলোর উত্তর তুমি নির্ভুলভাবে দিতে পারবে, প্রথমেই সেই প্রশ্নগুলো নির্বাচন করবে। এরপর যে প্রশ্নের উত্তরটি সবচেয়ে ভালো জানা আছে, সেটি দিয়ে পরীক্ষার খাতায় লেখা শুরু করবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য প্রশ্নের উত্তর লিখবে।
২৪। পরীক্ষার প্রশ্নের উত্তর যেন নির্ভুল ও প্রাসঙ্গিক হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। প্রশ্নে ঠিক যা চাওয়া হয়েছে, যথাযথভাবে কেবল তারই উত্তর দিতে হবে।
২৫। সুন্দর হাতের লেখা সহজেই পরীক্ষকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তাই প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট ও সুন্দর হস্তাক্ষরে লেখার চেষ্টা করবে।
২৬। অশুদ্ধ বানান খাতার প্রতি পরীক্ষকের অসন্তুষ্টি ও বিরক্তি সৃষ্টি করে। তাই শুদ্ধ বানানরীতির প্রতি বিশেষভাবে যত্নবান হতে হবে।
২৭। সহজ, সরল ও প্রাঞ্জল ভাষায় বাক্য গঠন করবে। জটিল ও যৌগিক বাক্যের ব্যবহার যতটা সম্ভব পরিহার করাই শ্রেয়।
২৮। অতিরিক্ত উত্তরপত্রের (Loose Sheet/Extra Page) প্রয়োজন হলে কমপক্ষে ৫ মিনিট আগেই কক্ষ পরিদর্শকের কাছে তা চাইবে, যেন সময়ের অপচয় না হয়।
২৯। প্রশ্নের উত্তর লেখার সময় অবশ্যই প্রশ্নের মানবণ্টন ও সময়ের প্রতি লক্ষ রাখবে।
৩০। পরীক্ষাকে ভয় না করে নিজের অর্জিত জ্ঞান আনন্দের সাথে বহিঃপ্রকাশের সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করবে।
৩১। সর্বোপরি পরীক্ষার হলে নিজের ওপর পূর্ণ আত্মবিশ্বাস রাখবে।
পরিশেষে সকলের মঙ্গল ও আশাতীত সফলতা কামনা করছি।
সকল আপডেট পেতে ফলো:- শিক্ষা সংবাদ