20/11/2023
অকুশল ধর্ম কি?
কুশল ধর্মকে আমরা আপনারা চিনি না। তাই সর্বদা অকুশল ধর্ম করে থাকি। অকুশল ধর্ম কোনটি? অকুশল ধর্ম আমি আর বিস্তৃত বলতে চাই না। আমরা-আপনারা প্রতিনিয়ত যাই করি তার অধিকাংশই অকুশল ধর্ম। অর্থাৎ-
(১) প্রতিনিয়ত যখন আমি চোখ দিয়ে তাকাই সুন্দর একটি গয়না দেখি, শাড়ি দেখি, বাড়ি দেখি, টেলিভিশন দেখি তখন বলি, ঐগুলো কিনে দেন না। ঐটা কতো সুন্দর, আমার লাগবে। সাথে সাথে আমি আমার চোখ দিয়ে একটা চোরকে ঘরে আশ্রয় দিলাম। অকুশল কর্ম ও অকুশল ধর্ম সৃষ্টি করলাম।
(২) তদ্রূপভাবে কান দিয়ে যখন আমি শুনলাম আমার প্রশংসা-আমি আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেলাম। কিছু আর বুঝলাম না। আর যখন শুনলাম যে, আমায় দুর্নাম করছে আমাকে গালি দিচ্ছে। তখন আমি তার প্রতি বিদ্বেষ পরায়ণ হই। তাকে হত্যা ও ক্ষতি করার জিঘাংসা জাগ্রত হয়। এভাবে সাথে সাথে আর একটি চোরকে আমি আশ্রয় দিলাম।
(৩) এইভাবে জিহ্বা দিয়ে যখন আমি একটি জিনিস খেয়ে দেখলাম- শাক, আলুভর্তা ভালো লাগে না, যখনি খুব ভালো খাবার খেলাম, আহ্! এটা যদি চিরদিন খেতে পারতাম, এইজন্য বারবার পীড়াপীড়ি করি মা- বাবা এটা খাবো না, ওটা দাও। ছোটকালে আমরাও করেছি। বুড়ো বয়সেও কিন্তু অনেকে করে। আমার জামাই আমার ছেলে, এগুলো খাওয়ায় কেন? তারাও মাছ-মাংস খেতে চায়। সাথে সাথে একটি চোরকে আবার আশ্রয় দিই।(৪) এইভাবে নাক দিয়ে যখন কোন সুগন্ধ পাই-ঐ 'সেন্ট বা পারফিউম' কেনার জন্য বাজারে ছুটে যাই। ৩০০ টাকা বললেও কিনে ফেলি ফ্রান্সের তৈরী সেন্ট। সাথে সাথে একটি চোরকে আশ্রয় দিই।
৪) এইভাবে নাক দিয়ে যখন কোন সুগন্ধ পাই-ঐ 'সেন্ট বা পারফিউম' কেনার জন্য বাজারে ছুটে যাই। ৩০০ টাকা বললেও কিনে ফেলি ফ্রান্সের তৈরী সেন্ট। সাথে সাথে একটি চোরকে আশ্রয় দিই।
এভাবে এই পঞ্চ কামতৃষ্ণা, ভব তৃষ্ণা, বিভব তৃষ্ণাসহ অভিজ়া ও ব্যাপাদ সবই অকুশলধর্ম হয়।
(৫) এইভাবে শরীরের এই ত্বক নামক জিনিসকে সুখ দেয়ার জন্য সুন্দর সুন্দর রমণীর সংশ্রব গ্রহণ করি, সংসর্গে যাই। রমণীগণও সুন্দর সুন্দর পুরুষের সংস্পর্শ কামনা করেন। এভাবে আর একটা চোরকে আশ্রয় দিই।
চোরের বংশ বৃদ্ধি
এইভাবে পঞ্চ ইন্দ্রিয় দ্বারা প্রতিনিয়ত আমরা চোরের বংশ বৃদ্ধি করে করে চলেছি। আমি যদি সত্যি সত্যিই একজন চোর হয়ে থাকি, আমার ছেলে চোর হবে এমন কোন গ্যারান্টি নেই। তাই না? আমার বংশ চোর হবে এমন কোন গ্যারান্টি নেই। আমি একাই হয়তো চোর। আমি মরে গেলে, চোর আর নাও হতে পারি। আগামী জন্মেও যে আমি আবার চোর হবো-এটা নিশ্চিত বলাও যায় না। কিন্তু যে চক্ষু, কর্ণ, নাসিকা, জিহ্বা, ত্বক দ্বারা আমরা প্রতিনিয়ত চোরের বংশ বৃদ্ধি করে করে চলেছি-এই চোরের বংশ কিন্তু জন্ম পরম্পরায়, জন্ম-জন্মান্তর আমাদের অন্তরের মধ্যে বাসা বেঁধে থাকে। বংশ বৃদ্ধি করায়। এটিই অকুশল ধর্ম, অকুশল কর্ম।