29/01/2026
শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রাপ্তি – আনন্দ, বাস্তবতা ও কিছু জরুরি কথা
(সকলের পড়া প্রয়োজন)
আজকের দিনটি সত্যিই খুব আনন্দের।
আমার অনেক শিক্ষার্থী সরকারি বৃত্তির প্রথম কিস্তির ৩,৫২১ টাকা করে পেয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ। শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি দেখলে সব পরিশ্রম সার্থক মনে হয়।
তবে দুঃখজনক বাস্তবতা হলো—
কিছু শিক্ষার্থী কাগজপত্রের ত্রুটির কারণে এবার বৃত্তি পায়নি। ভবিষ্যতে যেন এমনটা না হয়, সে জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও কারণ সবার জন্য তুলে ধরছি—
📌 শতভাগ নিশ্চিতভাবে বৃত্তি পেতে যা অবশ্যই প্রয়োজন:
প্রতিটি শিক্ষার্থীর নিজস্ব ব্যাংক একাউন্ট থাকা (এতে বৃত্তি মিস হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে)
এনআইডি, জন্মনিবন্ধনসহ সব ডকুমেন্ট শতভাগ ত্রুটিমুক্ত রাখা
নামের বাংলা–ইংরেজি বানানের মিল নিশ্চিত করা
❌ এবারে যারা বাদ পড়েছে, তাদের প্রধান কারণগুলো:
1️⃣ পিতা/মাতার এনআইডিতে তথ্যগত সমস্যা
2️⃣ বিকাশ নাম্বারের রেজিস্ট্রেশন এনআইডির সাথে প্রদত্ত এনআইডির মিল না থাকা
3️⃣ জন্মনিবন্ধনের প্রিন্ট কপিতে বাংলা/ইংরেজি নাম থাকলেও
সার্ভারে ইংরেজি নাম না থাকা বা রেকর্ড না পাওয়া
4️⃣ জন্মনিবন্ধন থাকলেও অনলাইন সার্ভারে তথ্য অনুপস্থিত
💬 পরিশ্রমের কথা না বললেই নয়:
এই বৃত্তির জন্য আমি টানা প্রায় ১০ দিন নাওয়া–খাওয়া ভুলে
কলেজ, বাসা ও অধিদপ্তরের মধ্যে দৌড়াদৌড়ি করেছি।
শেষ মুহূর্তে হাজিরাশীটসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট
এককভাবে কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রস্তুত করতে হয়েছে।
কলেজ অফিসের পক্ষ থেকে যদি আরেকটু আন্তরিকতা থাকত,
তাহলে কাজটা আরও সহজ হতে পারত—এ কথা বলতেই হয়।
আমার আন্তরিক ইচ্ছা ছিল, একজন শিক্ষার্থীও যেন বৃত্তির বাইরে না থাকে।
কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলদের অনাগ্রহ,
আবার কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের তথ্যগত গ্যাপ
ও এ বিষয়ে সীমিত জ্ঞানের কারণেই সবাই অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
তবুও আশা ছাড়ছি না।
ইনশাআল্লাহ, সামনে যেন সর্বোচ্চ সংখ্যক শিক্ষার্থী বৃত্তি পায়—
সে চেষ্টা আমাদের অব্যাহত থাকবে।
সবাইকে অনুরোধ—
👉 ডকুমেন্ট ঠিক রাখুন
👉 তথ্য যাচাই করুন
👉 সচেতন থাকুন
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎই আমাদের আসল সাফল্য। 🌱
আমাকে সহযোগিতার জন্য ফরহাদ স্যার আমার প্রিয় বড় ভাই ও মোস্তফা স্যারকে ধন্যবাদ। অধ্যক্ষ মহোদয়েরও আন্তরিকতার কমতি ছিলনা।
তোমাদেরই শুভ কামনায়...
Engr Md. Nijam Uddin
প্রভাষক (কম্পিউটার)