05/02/2026
খাটিয়ায় থাকা লা/শটি ঢাকনা সরিয়ে বসে জিজ্ঞেস করলো"ভাই, আপনারা কি নামাজ পড়ে ফেলেছেন?"
এটি ইয়েমেনের একটি মসজিদে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনা।শায়খ আবু ইমাদ ঘটনাটি বর্ণনা করছিলেন
এভাবে:আমার এক বন্ধু বলল, 'গতকাল আমার পাশের গলির একজন মা/রা গেছেন।
নাম আবু নাসের, বেশ বয়স্ক মানুষ ছিলেন।
আল্লাহ ওনাকে জান্নাতনসিব করুন।
তো, জানাজা আর দাফন শেষে খাটিয়াটা (মৃ/তদেহ বহনের খাট) যখন ফেরত আনা হলো, তখন বেশ রাত। এশার নামাজ শেষ, মসজিদও বন্ধ।
তাই লোকেরা খাটিয়াটা মসজিদের দরজার বাইরের
উঠোনে রেখে দিল, যাতে সকালে মুয়াজ্জিন বা খাদেম এসে সেটা জায়গামতো রেখে দেয়।
রাত তখন প্রায় সাড়ে ৩টা।
এক লোক মসজিদে আসল। দেখল উঠোন খোলা কিন্তু মসজিদের মেইন দরজা তালাবদ্ধ।
সে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করল, কিন্তু কেউ খুলল না।
ওদিকে হাড় কাঁপানো শীত। হঠাৎ তার নজর পড়ল ওই
খাটি/য়াটার দিকে। ওটার ওপর আবার একটা চাদর বিছানো ছিল।
ব্যাস! সে আর দেরি না করে খাটি/য়ার ঢাকনা সরাল, ভেতরে মোটা
কাপড় পাতা ছিল, আরামসে ওটার ভেতরে ঢুকে শুয়ে পড়ল। আর সাথে সাথেই গভীর ঘুম!
আধঘণ্টা পর মসজিদের খাদেম এলেন দরজা
খুলতে। তিনি খাটিয়াটা দেখে ভাবলেন, হয়তো ফজরের পর জানাজা হবে,
তাই লাশসহ কেউ রেখে গেছে।
মুসল্লিরা আসতে শুরু করল, কেউ অজু করতে গেল, কেউ সালাম বিনিময় করল।
খাদেম আর কয়েকজন মিলে খাটি/য়াটা ধরাধরি করে একেবারে মেহরাবের পাশে নিয়ে রেখে দিল।
সবাই ভাবছে ভেতরে লা/শ আছে, তাই কেউ আর ওটা নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি করেনি।
তাছাড়া ভোরের বেলা সবার চোখে তখনও ঘুমের রেশ।
ফজরের আজান হয়ে গেল।
মসজিদে প্রায় ৫০ জনের
মতো লোক। আমরা কাতার সোজা করে নামাজে দাঁড়ালাম।
আমি ছিলাম একদম প্রথম কাতারে। দ্বিতীয় রাকাতেও সব ঠিক ছিল, হঠাৎ দেখলাম খাটিয়াটা নড়ছে!
ভাবলাম, এ কী! চোখের ভুল নাকি?
চোখ কচলে আবার তাকালাম। না! স্বপ্ন না! ইমাম
সাহেবের ঠিক সামনে রাখা খাটিয়াটা সবার চোখের
সামনে সত্যিই নড়ছে!
আমার তো ভয়ে কলিজা শুকিয়ে গেল, পুরো কাতারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ল।
ঠিক তখনই খাটিয়ার ভেতর থেকে লোকটা ঘুম ভে/ঙে ঢাকনাটা সরাল।
মাথা বের করে সোজা
জিজ্ঞেস করল, 'ভাই, আপনারা কি নামাজ পড়ে ফেলেছেন?'
ওরে ভাই! এরপরের দৃশ্য আর কী বলব! আল্লাহর
কসম, সেই দৃশ্য দেখার মতো ছিল।
আমি জুতো ফুতোর কথা ভুলে জান নিয়ে দে দৌড়! এক দৌড়ে মনে হয় এক কিলোমিটার পার হয়ে গেছি, তাও খালি পায়ে!
ওদিকে ইমাম সাহেব তো বেহুঁশ হয়ে ফ্লোরে পড়ে গেল