30/04/2014
উপরওয়ালা ও প্রশাসনের প্রতি
মুহাম্মদ সরওয়ার উদ্দীন চৌধুরী
২০১৩ সালের ২৬ এপ্রিল-এ ইসলামের লেবাসধারী, দেশের সন্ত্রাসী ও কুখ্যাত সংগঠন হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের পালিত সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলার গুরুতর আহত হয়ে দীর্ঘ আট দিন চিকিৎসধীন থেকে অবশেষে শাহাদাতের সুধা পান করেন; আমার ঈমানী ভাই সুন্নী আন্দোলনের সচেতন সারথি, সুন্নী ছাত্র জনতার অহংকার, রাসূল (দ.)’র নিরলস কাফেলার অন্যতম সৈনিক, ইসলামের সঠিক পথ ও মত আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআ’তের অনুসারী, হোসাইনী চেতনায় উদ্বুদ্ধ দেশের সকল রাজনৈতিক ছাত্র সংগঠনের মধ্যে অহিংস ছাত্ররাজনীতির মডেল বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনার একনিষ্ঠ ত্যাগীকর্মী, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা হাটহাজারী উপজেলা শাখার অন্যতম সংগ্রামী সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তাঁর শাহাদাত’র ১ম বর্ষ পূর্ণ হতে যাচ্ছে, ৩ মে’ ১৪ ইং শনিবার। অত্যন্ত দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে সাইফুল ইসলামকে বাংলার যে সকল কুলাক্সগার, ইসলাম বিকৃতকারী জাতির নিকৃষ্ট সন্তানরা নির্মমভাবে হামলা করে শহীদ করেছেন সে সকল গুন্ডা, নরপিশাচ হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের চিহিনত খুনিদের আদৌ প্রেপ্তার করার জন্য কোন ধরনের আশানুরুপ পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি প্রশাসন। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসেনা হাটহাজারী উপজেলা শাখা থেকে প্রকাশিত “শহীদ মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম একটি তারুন্যদীপ্ত ইতিহাস”-এ শহীদের সরল ও সংগ্রামী জীবন যাপন সহ কি অপরাধে, কিভাবে হেফাজতী সন্ত্রাসীরা হামলা করেছিল তার সব তথ্য উপাত্ত সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়েছিল। খুনীদের চিহিনত করে মামলা করা হয়েছিল। কন্তিু এরপর ও প্রশাসনের এমন উদাসনীতা এবং হেফাজতীদের পূজা করা এবং স্থানীয় এম.পি. সাহেবের নির্লজ্জ হস্তক্ষেপ তথা সন্ত্রাসীদের পক্ষ নিয়ে কথা বলা। এসব বিষয়ে সরল প্রাণ, শান্তপ্রিয় সুন্নী মুসলামানদের হৃদয়ে নীরব রক্তক্ষরণ হয়েছে। থানা পুলিশকে বারবার খুনীদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য প্রদান করার পরও কোন ধরনের অগ্রগতি আমরা লক্ষ করতে পারছি না।
সাইফুলের শাহাদাৎ এর নৃসংশ ঘটনা থেকে আমরা বুঝতে পারছি যে আমরা সুন্নী জনতারা সহজসরল বলে আমাদের দাবির (খুনীদের ফাঁিস) কোন মূল্য নেই। প্রশাসন উগ্রবাদীদের ভয় করে তাই দীর্ঘ এক বছরেও সাইফুলের চিহিনত হত্যাকারী হেফাজতীদের ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেই।সরকার ও প্রশাসন শক্তের ভক্ত হয়ে আছে আর আমরা শান্ত বলে আমাদের নরম মনে করে যম হিসেবে ভূমিকা রাখতে শুরু করেছে। প্রশাসনের কর্ণকুহুরে বলতে চাই আমরা যেমন শান্ত তেমন উগ্রও হতে পারি। কিন্তু আমরা উত্তেজীত হই না কারন আমরা চাই আইনী প্রক্রিয়ায় এটার সমাধান হোক এবং খুনীদের সর্বোচ্চ শাস্তির রায় হোক। শহীদ সাইফুলের বাবা-মায়ের চোখ থেকে আর কত অশ্রƒ গড়ালে খুনীদের শান্তি হবে ? আত্মীয় ও সুন্নী জনতারা আর কত ধৈর্য্যের পরীক্ষা দিলে নরপিশাচদের করুন পরিনতি অবলোকন করতে পারবে? এ রকম শত শত প্রশ্নে আজ দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ছে, গুঞ্জন করছে এরপরও কি প্রশাসন কোন যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে না?
আমাদের (সুন্নীদের) শান্ত ও নরম প্রকৃতির লোক ভেবে যদি সঙ্গায়িত করে প্রশাসনিক কর্মকর্তরা শহীদ সাইফুলের চিহিনত হত্যাকারী হেফাজতী গুন্ডা বাহিনীকে গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত না করেন তবে আমরা আর শান্ত হয়ে বসে থাকবো না! আমরা আমাদের ভাইয়ের রক্তের বদলা (প্রতিশোধ) নিতে প্র¯তুত আছি। আপনারা মনে করছেন আমরা শান্ত তাই ভীত, আপনাদের হয়তো জানা নেই আমাদের শরীরে বইছে ওহুদ, বদর, খন্দক, তাবুক, কারবালা ও মুক্তিযুদ্ধের রক্ত।
আমারা ও শত্রুকে প্রতিহত করতে জানি, প্রতিশোধ নিতে জানি। আবার ও আপনাদের (প্রশাসন) দৃষ্টি আকর্ষন করে বলছি আমরা সত্যের অনুসারী ও শান্তিপ্রিয় সুন্নী জনতা আমরা চাই আইনী প্রক্রিয়ায় সন্ত্রাসীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হোক। আর দেশের লক্ষ লক্ষ জনতার মাঝে শান্তি বিরাজ করুক।
সমাপ্ত