25/07/2024
প্রতিটা আইএসপি (ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার) তাদের গ্রাহক তথ্য সংরক্ষণ করে। গ্রাহকের নাম ঠিকানা, ফোন নম্বর থেকে শুরু করে, জাতীয় পরিচয় পত্র ও সংরক্ষণ করে। এটা মোটামুটি সবাই জানি। যেটা জানি না, সেটা হলো, বিটিআরসির নির্দেশে আইএসপিকে গ্রাহকের ইউজেস লগও রাখতে হয়। কোন গ্রাহক অনলাইনে কখন কোথায় কোন পেজে ক্লিক করেছে, সে তথ্যও তারা সংরক্ষণ করে। অর্থাৎ আপনি পর্ণ ব্রাউজিং করছেন, না ওয়াজ দেখছেন, সে তথ্য আইএসপির কাছে আছে। তবে ভয় নেই, প্রতিটা গ্রাহকের এই সকল তথ্য খুবই কনফিডেনশিয়াল, এবং আইএসপির ঊর্ধ্বতন দু-একজন ছাড়া, এই লগে কারো এক্সেস নেই। তবে প্রশাসনের সাইবার ক্রাইম ডিভিশন বা বিটিআরসি, প্রপার চ্যানেলে চাওয়া পাত্র আইএসপিকে যে কোন গ্রাহকের এই ইউজেস লগ দ্রুততম সময়ের মধ্যে দিতে বাধ্য।
এই ইনফরমেশনটা জানানোর কারণ হলো, মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ থাকায়, অনেকেই নিজের বাসার ওয়াইফাই পাব্লিকলি শেয়ার করছেন। এদিকে আইএসপি জানে না আপনি কার সঙ্গে ইন্টারনেট শেয়ার করছেন, জানার উপায়ও নেই। তার কাছে তথ্য অনুসারে সংযোগটি আপনার। এখন আপনার শেয়ার করা ইন্টারনেট ব্যবহার করে কেউ যদি কোন বেআইনি কাজ করে, তার দায়ভার, দোষ এবং পরিচয় কিন্তু আপনার। প্রশাসন চাওয়া মাত্র আপনার তথ্য আইএসপি দিতে বাধ্য! দিতে না পারলে আইএসপিকে শাস্তি পেতে হবে।
তাই নিজের ইন্টারনেট যে কাউকে শেয়ার করাটা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কোন সময়ই নয়।
হয়ত ভাবছেন ভিপিএন ব্যবহার করে নিজেকে লুকানোর কথা। ভাবতেই পারেন। তবে হয়ত জানেন না, দেশের প্রচলিত আইনে বিটিআরসির অনুমতি ছাড়া যে কোন ভিপিএন ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। ফলে ভিপিএন ইউজ শুরু করা মাত্র আপনি একজন অপরাধী। আপনি যে ভিপিএন ইউজ করছেন, সেটার লগও আইএসপির কাছে থাকে। আর যেহেতু ভিপিএন এবং আপনার আইপি অ্যাড্রেস , দুটিই প্রশাসন জানে, সেহেতু ভিপিএন ব্যবহার করে খারাপ কিছু না করলেও, আপনাকে অভিযুক্ত করাটা কোন বিষয় নয়।
সবচেয়ে বড় কথা, গ্রাহকের তথ্য চুরি করে বিক্রয় করে না, এমন ফ্রি কিংবা পেইড ভিপিএনের সন্ধান আজও পাইনি, একটিও না!
(লেখাটা সাম্প্রতিক আন্দোলনের পক্ষে, বিপক্ষে কিংবা নিরপেক্ষও নয়। ইন্টারনেট সচেতনতা এবং হয়রানি এড়ানোর স্বার্থে!)