08/02/2026
নারীদের জন্য নার্সিং পেশা কি জায়েয?.
ইসলামের দৃষ্টিতে কোনো নারীর জন্য অপ্রয়োজনে চাকরির উদ্দেশ্যে ঘরের বাইরে বের হওয়া মোটেও কাম্য নয়; কেননা এতে নানাবিধ অনৈতিকতা ও ক্ষতির আশঙ্কা বিদ্যমান। এ কারণেই নিছক শখের বশে চাকরি করার শরঈ অনুমতি নেই। বিশেষত যখন কোনো নারীর জীবনের প্রয়োজনীয় বিষয়—যেমন খাদ্য, পোশাক ও বাসস্থানের ব্যবস্থা একজন মাহরাম বা স্বামী দ্বারা পূর্ণ হয়ে যায়, তখন শরীয়তের দৃষ্টিতে তার জন্য বাইরে চাকরি করা প্রয়োজনীয়ও নয়, অনুমোদিতও নয়।
তবে চরম প্রয়োজনের ক্ষেত্রে, যদি কোনো নারী পূর্ণ পর্দা রক্ষা করে চাকরির উদ্দেশ্যে ঘরের বাইরে বের হন, তাহলে শরীয়ত সে পরিস্থিতিতে সীমিত পরিসরে অনুমতি দিয়েছে। কিন্তু কেবল শখের বশে, কিংবা পর্দা লঙ্ঘন করে অফিসে কাজ করা এবং ফ্রি মিক্সিং বা পুরুষদের সঙ্গে অবাধ মেলামেশায় জড়িয়ে পড়া—শরীয়তের দৃষ্টিতে কোনোভাবেই বৈধ নয়।
নার্সিং কিংবা ডাক্তারি পেশার ক্ষেত্রেও একই মূলনীতি প্রযোজ্য। যদি কোনো নারী চিকিৎসকের পক্ষে নিজ বাড়িতে ক্লিনিক পরিচালনা করা সম্ভব হয় এবং সেখানে কেবল নারীরাই এসে চিকিৎসা গ্রহণ করেন, তাহলে তা শরঈভাবে অনুমোদিত। আর যদি ঘরে ক্লিনিক পরিচালনা করা সম্ভব না হয়, তবে তিনি পর্দা বজায় রেখে এবং মাহরামসহ যাতায়াত করে চিকিৎসা পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারবেন—শর্ত হলো, তাঁর উদ্দেশ্য হবে শুধুমাত্র নারীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করা এবং কর্মস্থলেও পর্দার বিধান যথাযথভাবে রক্ষা করা।
(আল জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়া বিন্নুরি টাউন, করাচী; ফাতাওয়া নম্বর: 144001200890)
এ প্রসঙ্গে দারুল উলুম দেওবন্দের ফাতাওয়ায় উল্লেখ করা হয়েছে—“সাধারণত হাসপাতালের পরিবেশে নার্সদের পক্ষে শরীয়তের সীমা ও বিধান পুরোপুরি রক্ষা করে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। ফলে এ ধরনের চাকরি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ফিতনা ও নৈতিক অবক্ষয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অতএব, যদি কোনো নারী স্বাস্থ্য বিভাগ বা হাসপাতালে শরীয়তসম্মত পর্দা ও প্রয়োজনীয় শর্তাবলি যথাযথভাবে রক্ষা না করে চাকরি করেন, তবে সে চাকরি শরীয়তের দৃষ্টিতে বৈধ নয়। একইভাবে, স্বামীর জন্যও এমন চাকরির অনুমতি প্রদান করা সঠিক নয়।”(ওয়েব ফাতাওয়া নম্বর: 165488)
সারকথা, নারী রোগীদের জন্য যদি পৃথক ও স্বতন্ত্র ব্যবস্থা থাকে, তাহলে সে পরিসরে নারীদের নার্স হিসেবে কাজ করার ক্ষেত্রে শরঈ কোনো আপত্তি নেই।
কিন্তু বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে পুরুষ ওয়ার্ডেও নারী নার্স নিয়োগ দেওয়ার যে অপ্রয়োজনীয় ও অযৌক্তিক রেওয়াজ চালু রয়েছে, তা ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পূর্ণ হারাম। কোনো নারীর জন্য এতে অংশগ্রহণ করা জায়েয নয়।
বিশেষ পরিস্থিতিতে কারো জীবন রক্ষার জন্য বাধ্য হয়ে সাময়িকভাবে সাহায্য করা আর স্থায়ীভাবে গাইরে মাহরাম পুরুষদের সেবায় পর্দাহীন বা মিশ্র ব্যবস্থার অংশ হওয়া—এই দুটি বিষয় কখনোই এক নয়। অথচ দুঃখজনকভাবে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্যবসায়িক স্বার্থে এসব পদে পুরুষদের পরিবর্তে নারীদের নিয়োগ দিয়ে থাকে। আর কর্পোরেট জগতের এই নাজায়েজ ব্যবস্থাকে অনেকেই অজ্ঞতাবশত অপব্যাখ্যার মাধ্যমে বৈধ প্রমাণ করার চেষ্টা করেন।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে এ ধরনের ভয়াবহ গুনাহ থেকে হেফাজত করুন। আমীন।
সুরা আহযাব, আয়াত ৩৩, হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা ২/৩২৮, ফাতাওয়া শামী ২/৭৯, ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/১৫৭।