03/01/2026
মানকাবাত, শানে মাওলা আলী (আ.)....
علي নারায়ে হায়দারী—
মাতা ফাতেমা বিনতে আসাদ রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা একবার গর্ভাবস্থায় হযরত রাছুলপাক সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াচ্ছাল্লামকে বলেছিলেন, যদি এবার আমার গর্ভের সন্তানটি পুত্র হয় তবে তাকে তোমার গোলাম করে দেবো আর যদি মেয়ে হয় তবে তোমার দাসী করে দেবো।
এর কিছুদিন পর হযরত ফাতেমা বিনতে আসাদ রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা কাবাঘর তাওয়াফ করতে যান। তখন তাওয়াফের সময় তাঁর প্রসব বেদনা শুরু হয় এবং তিনি এ অবস্থায় হাঁট গেড়ে বসে আল্লাহর কাছে বিপদগ্রস্থ অবস্থা হতে মুক্ত হওয়ার জন্য প্রার্থনা করতে থাকেন।
এ সময় আব্বাস ইবনে আবদুল মুত্তালিব রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু সেখান দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি দেখতে পেলেন অলৌকিকভাবে কাবার দেয়াল দু'ভাগ হয়ে গেল হযরত ফাতেমা বিনতে আসাদ রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা। কাবা ঘরে প্রবেশ করলেন এবং সাথে সাথে কাবাঘরের দু'ভাগ হওয়া দেয়ালটি বন্ধ হয়ে গেল।
এ ঘটনা প্রত্যক্ষ করে হযরত আব্বাস রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু ও তাঁর সাথের লোকজন অবাক হয়ে যান। এ কাবাঘরেই হযরত আলী আলাইহিস সালামের জন্ম হয়। কাবা মসজিদের যে স্থানটি 'সুলতানখানা' নামে পরিচিত সেখানেই হযরত আলী আলাইহিস সালাম জন্মগ্রহণ করেন।
শিশু হযরত আলী আলাইহিস সালাম সম্পর্কে বর্ণিত আছে যে, যখন আলীর জন্ম হলো সে মূহুর্তে রাছুলপাক সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াচ্ছাল্লাম ধ্যানে মগ্ন ছিলেন। তিনি ধ্যান হতে উঠে যখন শুনতে পেলেন তাঁর চাচির একটি সন্তান হয়েছে তখন তিনি চাচী হযরত ফাতেমা বিনতে আসাদের নিকট গেলেন এবং তাঁর কোল হতে আলী (আ) কে নিজের কোলে নিয়ে নিজ হাতে গোসল করালেন। যখন তিনি গোসল দিচ্ছিলেন সে সময় আলী আলাইহিস। সালাম নিজে নিজেই পাশ ফিরছিলেন। তা দেখে নবীজি কাঁদতে লাগলেন। তখন হযরত ফাতেমা বিনতে আসাদ রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা বললেন, বাবা মোহাম্মদ! তুমি কাঁদছো কেনো? তোমার কান্নার রহস্য কি?
নবীজি সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াচ্ছাল্লাম তখন বললেন, চাচী আজ আমি এজন্যই কাঁদছি যে, এ শিশুকে আমি গোসল দিচ্ছি, আমার কষ্ট যেনো না হয় সেজন্য সে নিজে নিজেই পাশ ফিরছে বা ঘুরে যাচ্ছে। কিন্তু এমন সময় আসবে, যেদিন আমি এ পৃথিবী ছেড়ে চলে যাবো সেদিন এ শিশুই আমাকে গোসল দিবে। তাঁর যেনো কষ্ট না হয় সে জন্য আমিও নিজে নিজেই পাশ ফিরবো বা ঘুরে যাবো। সেই ভবিষ্যৎ স্মৃতি স্মরণ করে কাঁদছি (শানে হাবিবুর রহমান, তারিখে আমীরুল মুমিনীন, আল মুরতাজা)। রাছুলপাক সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াচ্ছাল্লাম বলছেন, 'আনা ওয়া আলীউন নূরীন মিন ওয়াহিদ'
অর্থাৎ আমি এবং আলী একই নূরের দু'খন্ড। তাই আমাকে গোসল দেয়া আলী ব্যতীত আর কারো অনুমতি নেই।
রাছুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াচ্ছাল্লামের ইসলাম প্রচারের আদেশ প্রাপ্ত হয়ে সোমবার দিন প্রচার শুরু করেন। যখন তিনি ইসলামের কথা বললেন তখন মক্কাবাসীরা তা পাগলের প্রলাপ ভেবে অবজ্ঞা করে চলে গেল। পরের দিন মঙ্গলবার আবার যখন তিনি প্রচার শুরু করলেন তখন ৯ বছর বয়সে হযরত আলী (আ) মঙ্গলবার দিনই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। ইসলাম প্রচারের প্রাথমিক দিনগুলোতে রাছুলুল্লাহ (সাঃ) এর সঙ্গীহীন এ মুহূর্তে মাত্র দু'জনই ছিল তাঁর সাথী, অনুসারী ও সাহায্যকারী- তারা হলেন তাঁর সবচেয়ে প্রিয়তম স্ত্রী হযরত খাদিজা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহা ও হযরত আলী আলাইহিস্ সালাম। এ সময় সমস্ত কোরাইশ ও অন্যান্য গোত্রের সকলেই ছিল রাছুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াচ্ছাল্লামের ঘোর বিরোধি।
হযরত আলী আলাইহিস্ সালাম প্রথম ইসলাম গ্রহণ করার পর একদিন এক লোক যেয়ে হযরত আবু তালিবকে বললো, তোমার পুত্র মোহাম্মদের ধর্ম গ্রহণ করেছে, তুমি কি তা জানো? এ কথা শুনে হযরত আবু তালিব হযরত আলীকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াচ্ছাল্লামের ধর্ম গ্রহণ করেছ? হযরত আলী আলাইহিস্ সালাম তা অকপটে স্বীকার করে বললেন, হ্যাঁ, গ্রহণ করেছি এবং তাকে আমি রাছুল রূপে স্বীকার করে নিয়েছি যার অনুগ্রহে আমি সর্বশক্তিমান আল্লাহকে জানতে ও চিনতে পেরেছি, যিনি আমাকে পাপের অন্ধকারময় পঙ্কিলতা হতে উদ্ধার করে আলোকিত ধর্মের সরল সুপথ তথা সিরাতুল মুস্তাকিমের পথ প্রদর্শন করেছেন। হযরত আলী আলাইহিস্ সালামের স্পষ্ট স্বীকারোক্তিতে হযরত খাজা আবু তালিব মুগ্ধ ও আশ্চর্য হয়ে গেলেন এবং রাছুল সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াচ্ছাল্লামের নিকট গমন করলেন। হযরত রাছুল সাল্লাল্লাহু তা'আলা আলাইহি ওয়াচ্ছাল্লামের কাছে ইসলাম ধর্মের মর্ম অবগত হওয়ার পর হযরত খাজা আবু তালিব কোনোরূপ বিরক্তি প্রকাশ না করে বরং কোমল সুরে বললেন, বৎস তুমি যা বললে, তা সত্য বলেই প্রতীয়মান হয়। তাছাড়া তুমি অবশ্যই সত্যবাদী। তবে কি করে পৈতৃক ধর্ম ত্যাগ করি? তবে আমি শপথ করে বলছি, আমি যতোদিন জীবিত থাকবো, ততোদিন তোমাকে সর্বপ্রকার জুলুম-নির্যাতন হতে রক্ষা করতে চেষ্টা করবো এবং তোমার ধর্ম প্রচারের সহায়তা করবো.।"
আজ আরবি রজব মাসের ১৩ তারিখ। পবিত্র এই দিনে
তাহলে বায়াতের অন্যতম সদস্য শেরে খোদা, আসাদুল্লাহ, মুশকিল কুশা মাওলা আলী আলাইহি ওয়া আলীহি ওয়াসাল্লাম জন্মগ্রহণ করেন। মাওলা আলীর আবির্ভাব দিসব উপলক্ষে সকল পাক তাহলে বায়াত প্রেমিকদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
ঈদ মোবারক🌹