19/07/2026
জুলাইয়ে একটি গুলি থামিয়ে দিল রুবেলের জীবন, স্মৃতিতে আজও অমলিন: দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ
সময় গড়িয়ে যায়, ক্যালেন্ডারের পাতায় যোগ হয় নতুন বছর। কিন্তু কিছু শূন্যতা কখনো পূরণ হয় না। একটি পরিবারের কাছে ১৯ জুলাই মানেই বুকভরা কান্না, প্রিয় মানুষকে হারানোর বেদনা আর অসংখ্য স্মৃতির ভার। দুই বছর আগে এই দিনে হারিয়ে গিয়েছিলেন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার মো. আতিকুল ইসলাম রুবেল। তিনি চলে গেলেও রেখে গেছেন পরিবার ও বিভিন্ন মানুষের সাথে অসংখ্য স্মৃতি।
২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ঢাকার মিরপুর-১০ এলাকায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন রুবেল। অফিস শেষে বাসায় ফেরার পথেই তার জীবনের শেষ যাত্রা শুরু হয়। পরদিন তার মরদেহ নিজ জন্মভূমি পটুয়াখালীর গলাচিপায় নিয়ে আসা হয়। স্বজন, বন্ধু, সহকর্মী ও এলাকাবাসীর অশ্রুসিক্ত বিদায়ের মধ্য দিয়ে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
রুবেলের জন্ম ১৯৯১ সালের ১২ সেপ্টেম্বর, গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি ইউনিয়নের গ্রামমর্দ্দন গ্রামে। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী ও পরিশ্রমী। গলাচিপা সরকারি টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট থেকে এসএসসি, বরিশাল সরকারি টেক্সটাইল কলেজ থেকে ডিপ্লোমা এবং পরে ঢাকা সিটি ইউনিভার্সিটি থেকে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। কর্মজীবনে রাজধানীর একটি বায়িং হাউসে সিনিয়র মার্চেন্ডাইজার হিসেবে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
তবে পরিচয় শুধু একজন সফল পেশাজীবীর নয়। পরিবারের কাছে তিনি ছিলেন সবচেয়ে বড় ভরসা। নিজের উপার্জনের অর্থ দিয়ে বাবা-মা, ভাই-বোন এবং স্বজনদের পাশে দাঁড়াতেন। বাকপ্রতিবন্ধী এক ভাইয়ের দায়িত্বও তিনি নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন। নিজের স্বপ্নের পাশাপাশি পরিবারের স্বপ্ন পূরণেই ছিল তার সবচেয়ে বড় আনন্দ। ২০১৭ সালে তামান্নার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন রুবেল। তাদের সংসার আলোকিত করে জন্ম নেয় একমাত্র কন্যা আলিসবা ইসলাম ফারিস্তা। কিন্তু বাবার স্নেহ বেশিদিন জোটেনি তার ভাগ্যে। মাত্র দেড় বছর বয়সেই বাবাকে হারায় ফারিস্তা। আজ সে বড় হচ্ছে বাবার গল্প শুনে, ছবির দিকে তাকিয়ে আর স্বজনদের স্মৃতিচারণে।
রুবেলের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি পরিবার। সেই শোকের ভার বুকে নিয়েই এক বছরের মধ্যে পৃথিবী ছেড়ে চলে যান তার বাবা শাহ আলম মাস্টার। স্বজনদের বিশ্বাস, সন্তানের মৃত্যু তাকে ভেতর থেকে ভেঙে দিয়েছিল।
আজ দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকীতে পরিবারের সদস্যরা, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া করেছেন। তাদের বিশ্বাস, মানুষ মৃত্যুর পরও বেঁচে থাকেন তার কর্ম, সততা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে। সেই অর্থে রুবেল আজও বেঁচে আছেন সবার স্মৃতিতে ও স্বজনদের অশ্রুসিক্ত স্মৃতিচারণে। একজন মানবিক মানুষের স্মৃতি আজও বয়ে চলেছে সবাই। রুবেল নেই, কিন্তু তার রেখে যাওয়া স্মৃতি চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে।