04/01/2021
হেড ফোন কেনার ৫টি জরুরী টিপস
বাজারে হাজার হাজার রকমের হেড ফোনের প্রচলন আছে। কিন্তু কোন ধরণের হেডফোন কিনবেন এটা বাছাই করা খুব মুশকিল। হেডফোন কেনার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ের দিকে অবশ্যই নজর দিতে হবে – যেমন হেডফোনটি দেখতে ভাল না খারাপ? এটি আপনার সাধ্যের ভেতর কিনা? এবং সর্বশেষ হেডফোনটি কোন ব্র্যান্ডের? তাই হেড ফোন কেনার সময় যেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর দিকে নজর দিতে হবে তা নিয়ে আজ আলোচনা করব।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আপনি কোন ধরনের হেড ফোন ব্যবহার করতে চান, ইয়ার ফিটিং হেডফোন নাকি ফুল সাইজ হেডফোন। অনেকে আছে ব্যায়াম, খেলাধুলা কিংবা অন্যান্য কায়িক পরিশ্রমের সময় হেড ফোন ব্যাবহার করেন এবং যারা দিনে সাত থেকে ৮ঘণ্টা সময় ধরে হেডফোন ব্যাবহার করে থাকেন তবে তাদের জন্য ইন ইয়ার ইয়ারফোন নেয়াই ভাল। প্রোগ্রামিং এবং গেমিং এর মতো জটিল কাজের ক্ষেত্রে সঠিক ফ্রিকোয়েন্সির হেডফোন প্রয়োজন। এই যা ভুলেই গেছি শুধু এইসব বললেই কি হবে, কানের স্বাস্থ্যের কথাও ত ভাবতে হবে । ডাক্তার বলেন উচ্চ শব্দে গান শুনলে শোনার ক্ষমতা কমে যায়, তাহলে এখন কি হবে? আছে আছে উপায় আছে … ডাক্তারেরা পরামর্শ দেন ৭৮ ডেসিবল মাত্রা পর্যন্ত হেডফোনের শব্দ কানের কোন ক্ষতি করে না। এটার বেশি হলেই কানের ক্ষতি হবে।
নয়েজ ক্লিনিং হেডফোন
নয়েজ ক্লিনিং হেড ফোনের বিষয়টা হল এটা বাহিরের আওয়াজ আটকিয়ে দিয়ে, আপনার কোন রকম সমস্যা ছাড়াই ফোনে কথা বলতে বা মিউজিক শুনতে সাহায্য করে। এই প্রযুক্তিটিকে প্যাসিভ নয়েজ রিডাকশন বা নয়েজ আইসলেসন বলে। এটি খুব সহজ এবং সাধারন। অন্যটি হল অ্যাকটিভ নয়েজ রিডাকশন। প্যাসিভ নয়েজ রিডাকশন প্রক্রিয়ার হেডফোনগুলো কানের সাথে খুব সুন্দরভাবে ফিট হয়ে থাকে। সুন্দরভাবে ফিট হয়ে থাকার কারনে বাহির থেকে কোন শব্দ ভেতরে আসতে পারে না। এই হেডফোন গুলোর ইয়ারবাডে নরম রাবার ও তুলা ব্যবহারের কারনে এটা কানের ছিদ্র সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেয়। অ্যাকটিভ নয়েজ রিডাকশন সাধারণত পাইলটরা ব্যবহার করে থাকে। এটি নয়েজ গাইব করে দেয়।বিশ্বাস হল না, তাই না? এতে একটি মাইক্রোফোন থাকে যা বাহিরের শব্দকে রেকর্ড করে, আপনার কানে ইনভার্ট করে মূল নয়েজে মিলে যায়। অ্যাকটিভ নয়েজ রিডাকশন এর দাম বেশি কারন এটি ভাল মিউজিক উৎপন্ন করে।
ওয়্যারলেস হেডফোনঃ
এই ধরনের হেডফোনের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে । নকিয়া, সনি, স্যামসাং, অ্যাপলসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ওয়্যারলেস হেডফোন এখন বাজারে রয়েছে। চার্জিং কেইসের মাধ্যমে চার্জ দেওয়ার সুবিধা থাকার কারনে একবার চার্জ দিলে বার ঘণ্টা চার্জ ব্যাকআপ থাকে। আমার মনে হয় দাম বেশি নিলেও পানি নীরধি হেডফোন নেয়াই ভাল কারন আপনি ব্যায়েম করতে করতে এটা ব্যাবহার করলেও ঘামে নষ্ট হবে না। ডিভাইসটি খুব ছোট এতে কোন তার থাকে না এবং ওজন ও কম। ওজন কমের জন্য কান ব্যাথা করে না।
ফ্রিকোয়েন্সি রেঞ্জঃ
মানুষ সাধারণত ২০ থেকে ২০০০০ হার্জ মধ্যে এর শব্দ ভালো শুনতে পায়। এর বেশি হলেই কানের ক্ষতি হয়। তাই এই রেঞ্জে ফ্রিকোয়েন্সির মধ্যে হেডফোন কিনতে হয়। সংগীতের সবচেয়ে বেশি বেজ থাকে ৪০ থেকে ১০০ এর মধ্যে।
ম্যাগনেট টাইপঃ
হেডফোনে প্রধানত দুই ধরনের ম্যাগনেট ব্যাবহার করা, ফেরিট ও নিওডিমিয়াম। পকেটে যদি টাকা বেশি থাকে তবে নিওডিমিয়াম ম্যাগনেটের হেডফোন কিনুন কারন এটা ফেরিটের চেয়ে শক্তিশালী। এই ম্যাগনেটের হেডফোন খুব সেনসিটিভ এবং পরিস্কার সাউন্ড কোয়ালিটি।
ইম্পিড্যান্স হেডফোনঃ
আসলে ইলেট্রিক সার্কিটের রেজিসটেন্সের তড়িৎ সিগন্যাল হল ইম্পিড্যান্স। বেশি ইম্পিড্যান্স হেডফোন ঝুঁকিপূর্ণ এটা নষ্ট হয় বেশি । ইম্পিড্যান্স কম থাকলে সেই হেডফোনটিতে আওয়াজ জোরে শুনা যায়। এই হেডফোনে জোরে আওয়াজ দিলেও আওয়াজ ফেটে যায় না।
পরিশেষে, হেডফোন কেনার আগে প্যাকেটের উপরে লিখা ভালভাবে পড়ে কিনতে হবে। তবে তার আগে অনলাইনে স্পেফিকেসনে তথ্যগুলো দেখে যেতে পারেন। আর অনলাইন শপ থেকে কিনতে হলে একটু বাজার যাচাই করে নিতে হবে। একই প্রোডাক্ট বিভিন্ন অনলাইন শপে বিভিন্ন দামে বিক্রয় হয়।