20/02/2026
আজ ৬৭ বছর হয়ে গেছে সে পৃথিবী ছেড়ে গেছে। তবুও তার গল্প এখনও মানবজাতির বিবেকের উপর এক অনুত্তরিত প্রার্থনার মতো ভার হয়ে আছে।
লাইকা শুধু মহাকাশে পাঠানো একটি কুকুর ছিল না।সে ছিল লোমে মোড়া এক বিশ্বাস। একটি নীরব হৃদস্পন্দন, যে বিশ্বাস করেছিল মানুষ তাকে নিরাপদ রাখবে। কারণ কুকুরেরা তাই করে। তারা বিশ্বাস করে। এমনকি যখন করা উচিত নয় তখনও।
তার আসল নাম ছিল কুদ্রিয়াভকা। যার অর্থ কোঁকড়ানো। রাশিয়ার রাস্তায় বেগে উঠা এক বেওয়ারিশ কুকুর। সে বিশেষ ছিলো বলে তাকে বেছে নেওয়া হয়নি বারং তাকে বেছে নেওয়া হয়েছিল কারণ সে অনুগত ছিল। কারণ সে শান্ত থাকত, সে ব্যথা সহ্য করত কোনো প্রতিবাদ ছাড়াই। যেন কষ্ট সহ্য করাই তার যোগ্যতা হয়ে উঠেছিল।
১৯৫৭ সালের ৩ নভেম্বর তাকে সিল করে দেওয়া হয় স্পুটনিক-২ এর ভেতরে। ক্যাপসুলে খাবার ছিল। পানি ছিল। তার শরীরকে সুরক্ষিত রাখার জন্য নরম দেয়ালও ছিল।
কিন্তু ছিলো না ফিরে আসার কোনো পরিকল্পনা। কোনো দয়া ছিল না। কোনো প্রতিশ্রুতি ছিল না। বাড়ি ফেরার কোনো পথ ছিল না। সে জানত না যে সে মারা যাবে। সে জানত না মহাকাশ কী। সে জানত না পুরো পৃথিবী তাকিয়ে আছে তার দিকে!
কেউ বলে সে কয়েক ঘণ্টা বেঁচে ছিল। কেউ বলে কয়েক দিন। কিন্তু যা আমরা নিশ্চিতভাবে জানি তা হলো, তার শেষ মুহূর্তগুলো কেটেছিল একা। এমন এক গ্রহকে প্রদক্ষিণ করতে করতে, যাকে সে আর কখনও ছুঁতে পারবে না। চারপাশে শুধু তাপ, ভয় আর নীরবতা। সে নীরবে কষ্ট পাচ্ছিল। একটি বিজয়, যা গড়ে উঠেছিল এমন এক জীবনের উপর, যে কখনও সম্মতি দেয়নি।
লাইকাকে পৃথিবী প্রদক্ষিণ করতে হয়েছিল ২,৫৭০ বার।একটি ছোট শরীর বয়ে বেড়াচ্ছিল মানব আকাঙ্ক্ষার অসহনীয় ভার। কয়েক মাস পরে পুনঃপ্রবেশের সময় তার ক্যাপসুল আগুনে পুড়ে যায়, আর সে মিলিয়ে যায় সেই একই আগুনে, যা তাকে ইতিহাসে পরিণত করে।
লাইকা কখনও অগ্রদূত হতে চায়নি। সে কখনও স্মরণীয় হতে চায়নি। সে কখনও বিজ্ঞান, রাজনীতি বা গৌরব বোঝেনি। সে শুধু বিশ্বাস করেছিল। আর সেই বিশ্বাসেই সে হয়ে ওঠে প্রথম জীবিত প্রাণী, যে পৃথিবী আর নক্ষত্রের মাঝের দূরত্ব অতিক্রম করেছিল।